বিজ্ঞাপন

কোভিড-১৯: দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

June 4, 2020 | 11:51 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মানবজাতিকে করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মহামারি থেকে রক্ষা করতে বিভিন্ন দেশের বিজ্ঞানীদের প্রতি দ্রুত টিকা উদ্ভাবনের আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

বিজ্ঞাপন

জাতিসংঘ ও গ্লোবাল ভিরোম প্রজেক্টের বরাত দিয়ে তিনি বলেন, প্রতি চার মাসে মানুষের মধ্যে একটি নতুন সংক্রামক রোগ দেখা দেয়। আর প্রায় সাত লাখ ভাইরাস রয়েছে, যেগুলো মহামারি ঘটাতে পারে। এই ভাইরাসের অনেকগুলো মানবজাতির অস্তিত্বের জন্য হুমকির কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই মানবজাতির টিকে থাকার জন্য বিদ্যমান ও আরও নতুন টিকার প্রয়োজন হবে। কারণ সংক্রমণ প্রতিরোধে টিকা অন্যতম শ্রেষ্ঠ উপায় হিসেবে প্রমাণিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৪ জুন) যুক্তরাজ্যে অনুষ্ঠিত একটি ভার্চুয়াল বৈশ্বিক টিকা সম্মেলনে যোগ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। জিএভিআই প্রতিষ্ঠার ২০ বছর উপলক্ষ্যে যুক্তরাজ্য বিভিন্ন দেশের সরকার, ফাউন্ডেশন, বেসরকারি খাত ও সুশীল সমাজের নেতাদের নিয়ে এই বিশ্ব টিকা সম্মেলন আয়োজিত হয়।

বিজ্ঞাপন

অনুষ্ঠানে টিকা উদ্ভাবনে জিএভিআই অ্যালায়েন্সের (সাবেক গ্লোবাল অ্যালায়েন্স ফর ভ্যাকসিনেশন অ্যান্ড ইমিউনাইজেশন) সহায়তা কামনা করেন প্রধানমন্ত্রী। বলেন, চলমান কোভিড মহামারি প্রমাণ করেছে, কোনো বৈশ্বিক দুর্যোগ মোকাবিলায় আমরা সত্যিকার অর্থে কতটা শক্তিহীন। কিন্তু এই লড়াইয়ে জিততে হলে আমাদের টিকা উদ্ভাবন করতে হবে। জিএভিআই অ্যালায়েন্স এ ক্ষেত্রে আমাদের সর্বোত্তম সহায়তা দিতে পারে।

শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিষ্ঠার পর থেকে জিএভিআই সারাবিশ্বে ৭৬ কোটির বেশি মানুষকে মারাত্মক রোগের টিকা দিয়েছে এবং এক কোটির বেশি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। কেবল আমাদের সদিচ্ছাই জিএভিআই’র পূর্ণ তহবিল ও তাদের টিকাদান অবকাঠামো জোরদার নিশ্চিত করতে পারে এবং অতিরিক্ত ৩০ কোটি শিশুকে টিকাদান ও জিএভিআই সহায়তাপুষ্ট দেশগুলোর ৮০ লাখ পর্যন্ত মানুষের জীবন বাঁচাতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, তাই কেবল আমি নই, সারা দুনিয়া জিএভিআই’র সহায়তায় আপনাদের বক্তব্য শুনতে অপেক্ষা করছে। বিশ্ব যখন কোভিড-১৯ মোকাবিলায় মরিয়া হয়ে একটি কার্যকর টিকা খুঁজছে, তেমন সময় টিকা বিষয়ক সহায়তায় মিলিত হওয়ার চেয়ে উত্তম সময় আর হতে পারে না। লাখ লাখ শিশু ও গর্ভবতী মায়ের জীবন বাঁচিয়েছে— এমন একটি উদ্যোগের একজন অংশীদার হিসেবে আমি আপনাদের সঙ্গে থাকতে পেরে আনন্দিত।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সরকার আইডি ২০২০, জিএভিআই ও এটুআই’র অংশীদারিত্বে স্বাস্থ্যসেবার জন্য একটি অনন্য ডিজিটাল আইডেনটি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে সমীক্ষা চালাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিশাল আর্থিক, সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির বিনিময়ে বাংলাদেশ মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত ১১ লাখ রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দিয়েছে। আমাদের স্বাস্থ্য কর্মকর্তা এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর কর্মীরা করোনা আক্রান্তের সংখ্যা সীমিত রাখতে রোহিঙ্গা শরণার্থী শিবিরে নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। এরই মধ্যে সেখানে পাঁচ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে। এটি পৃথিবীর সবচেয়ে ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবির।

অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, বারকিনা ফাসোর প্রেসিডেন্ট রোচ মার্ক ক্রিস্টিয়ান কাবোরে, ইথিউপিয়ার প্রেসিডেন্ট শাহলে ওয়ার্ক জিউডে, জাতিসংঘ মহাসচিব অ্যান্টোনিও গুতেরেস, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মহাপরিচালক ড. টেডরোজ অ্যাডানোম গিব্রেসিউস এবং বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা বক্তব্য রাখেন।

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন এবং বিল অ্যান্ড মেলিন্ডা গেটস ফাউন্ডেশনের কো-চেয়ার বিল গেটস এতে মূল বক্তব্য রাখেন। সমাপনী বক্তব্য রাখেন জিএভিআই বোর্ডের চেয়ারম্যান ড. নাগোজি ওকোনজো আইওয়েলা।

সারাবংলা/এনআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন