বিজ্ঞাপন

‘মা তার কাঁদে, ছেলেটি মরে গেছে’…

June 5, 2020 | 4:24 am

একেএম জাকারিয়া, নিউজরুম এডিটর

২০১১ সালের আজকের এই দিনে (৫ জুন) বাংলা রক আইকন, ৭১'র গেরিলা মুক্তিযোদ্ধা ও কিংবদন্তী মাহবুবুল হক খান, আজম খান আমাদের ছেড়ে চিরতরে চলে গিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ক্যান্সারের সঙ্গে লড়াই করে নয় বছর আগে রাজধানীর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে তিনি দেহত্যাগ করেছিলেন ঠিকই কিন্তু তার সৃষ্টি তাকে বয়ে নিয়ে চলছে, চলবে।

বিজ্ঞাপন

ষাটের দশকে ঢাকার আজিমপুরে জন্ম নেওয়া এই মায়েস্ত্রো শৈশব থেকে আমৃত্যু ঢাকায়ই বসবাস করেছেন। কখনো আজিমপুর, কখনও কমলাপুরে থেকেছেন। সমাধিস্থ হয়েছেন মিরপুরের বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে। বাংলাদেশের উত্তাল রাজনৈতিক বাস্তবতার দিনগুলোতে আজম খান রীতিমতো তরুণ। এবং অবশ্যম্ভাবীভাবে 'ইনফ্লুয়েনশিয়াল তরুণ'। চারিত্রিক সারল্যই তাকে নেতৃত্বের আসনে বসিয়েছিল। তাই এখনও তাকে 'গুরু'/ 'সম্রাট' হিসেবে সম্বোধন করা হয়।

আজম খানের মতো একজন 'বাই বর্ন রকস্টার'কে বাংলার উপস্থিত সংস্কৃতিতে প্রথমদিকে 'অচ্ছুত' করে রাখা হয়েছিল (সত্তর দশকে)। পরে আজম খানের মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ এবং ক্রমবর্ধমান ফ্যান ক্লাবের চাপে বেচাবিক্রির খাতায় তাকে 'পপ' ক্যাটেগরিতে যোগ করা হয়। কিন্তু ততদিনে আজম খান পৌঁছে গেছেন এক অনন্য উচ্চতায়, যেখানে আনুষ্ঠানিকতা বাহুল্য।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও, আজম খানের ব্যাপারে ওয়েব দুনিয়া তোলপাড় করে ফেললে পাঠক আপনি দেখবেন, অধুনা কন্ট্রিবিউটররা তাকে 'পাশ্চাত্য' 'আধুনিক' নানাবিধ মোড়কবন্দি করেছেন। কিন্তু, তিনি যেমন ৭০ সালের দিকে 'উচ্চারণ' ব্যান্ড করেছেন, তেমনি ফিরোজ সাঁইদের সঙ্গে করেছেন জিংগা শিল্পগোষ্ঠী, ফকির আলমগীরদের সঙ্গে করেছেন গণসংগীত। আবার এলআরবি, নগরবাউল, আর্ক, মাইলস, ফিডব্যাক, ভাইকিংস, আর্টসেলের সঙ্গে কনসার্টও মাতিয়েছেন।

৬১ বছর বেঁচেছিলেন, এই স্বল্প সময়ে যেখানেই তরুণ প্রাণের জোয়ার উঠেছে সেখানেই ছুটে গেছেন তিনি। আজম খানের একক অ্যালবাম ১৭, মিক্সড অ্যালবামসহ ২৫। 'জীবনে কিছু পাবো না রে' এই গানটি বাংলা ভাষার প্রথম অ্যাসিড-রক। ২০২০ সালেও আজম খানের অন্তত অর্ধশত গান আছে যা বাংলার মানুষের মুখেমুখে ফেরে।

দুর্দিনে দূর্বলচিত্তের যে লম্বা লাইন, সেই ভিড় থেকে বাংলাদেশের অসীম সাহসী সন্তান আজম খানের ছুটে যাওয়ার প্রায় দশক হতে চলছে। তবু, 'মা তার কাঁদে ছেলেটি মরে গেছে'।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন