বিজ্ঞাপন

ভেতরে করোনা রোগী, বাইরে মাদকসেবী ও ময়লার ভাগাড়!

June 13, 2020 | 10:49 pm

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: হাসপাতালের দ্বিতীয় তলায় আইসোলেশনে আছেন করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্ত তিন রোগী। তবে হাসপাতালের ভেতরে নেই কোনো ট্রায়াজ সিস্টেম। বাইরে পড়ে আছে বিভিন্ন ধরনের ক্লিনিক্যাল বর্জ্য। আবার হাসপাতাল চত্বরেই চলছে মাদক সেবন। বুধবার (১০ জুন) সরেজমিনে এমন চিত্র দেখা যায় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে।

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের প্রস্তুতি অংশ হিসেবে কোয়ারেনটাইন ও আইসোলেশনের জন্য ফেব্রুয়ারি মাসেই ঘোষণা করা হয় রাজধানীর মহাখালীতে অবস্থিত সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের নাম। ৮ মার্চ দেশে প্রথম কোভিড-১৯ সংক্রমণ শনাক্ত হওয়ার পরে এখন পর্যন্ত প্রায় তিন মাস গড়িয়েছে। একদিকে দেশে যখন চিকিৎসা না পাওয়ার অভিযোগ বাড়ছে, তখন রাজধানীর প্রাণকেন্দ্রে অবস্থিত এই হাসপাতালের দুর্দশা যেন কাটছেই না।

মূলত বিভিন্ন প্রাণী কামড় দিলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য নিয়ে আসা হয়। কিন্তু এই হাসপাতালে ঢোকার পথেই দেখা যায়, নেই কোনো তথ্যকেন্দ্র। এমনকি হাসপাতালে অন্যান্য যারা আসছেন তারা জানেনই না এখানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগী রয়েছে। কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসার জন্য স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে ট্রায়াজ পলিসি নিশ্চিত করার নির্দেশনা থাকলেও এখানে তেমন কিছুই নেই। রোগীরা এখানে এলে হেঁটেই সিঁড়ি দিয়ে উপরে যান।

বিজ্ঞাপন

ভেতরে করোনা রোগী, বাইরে মাদকসেবী ও ময়লার ভাগাড়!

হাসপাতালে কর্মরত এক নার্স জানান, বর্তমানে সেখানে কোভিড-১৯ আক্রান্ত পাঁচজন রোগী আইসোলেশনে আছেন। হাসপাতালের ট্রায়াজ পলিসির বিষয়ে তিনি অবশ্য তেমন কিছু বলতে পারেননি। তবে আইসোলেশনের রোগীর বিষয়ে তিনি ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে জানান এক চিকিৎসক।

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালের একজন সিনিয়র কনসালটেন্ট নাম প্রকাশ না করার শর্তে সারাবাংলাকে বলেন, ‘মূলত আমাদের হাসপাতালের দ্বিতীয়তলায় কোভিড-১৯ রোগীদের জন্য আইসোলেশনের ব্যবস্থা আছে। এখানে পুরুষদের জন্য সাতটি ও মহিলাদের জন্য তিনটি বেড আছে। হাসপাতালে বর্তমানে তিনজন কোভিড-১৯ সংক্রমিত ব্যক্তি আছেন। যে নার্স পাঁচজন রোগীর কথা বলেছেন, তিনি ঠিক বলেননি। হয়তো তিনি উপরের গিয়ে কখনও দেখেননি যে, কয়জন রোগী আছেন।’

হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা কোভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীর জন্য ব্যবহৃত সবকিছু একটি নির্দিষ্ট স্থানে নিয়ে আগুনে পুড়িয়ে ফেলি। এছাড়া হাসপাতালে কোনো বর্জ্য থাকার কথা নয়।’

বিজ্ঞাপন

হাসপাতালে বহিরাগতদের মাদক সেবন বিষয়ে তিনি বলেন, ‘এখানে আশেপাশের অনেক মানুষ আছে, যারা হাসপাতাল চত্বরে ঘুরাঘুরি করে। মাসখানেক আগে এখানে আনসার বাহিনীর সদস্যদেরও অ্যাসাইন করা হয়েছিল। তবে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় তারা কখনও যুক্ত হননি। আমাদের কাজ চিকিৎসা দেওয়া। এই হাসপাতালের জন্য আলাদা পুলিশ ফাঁড়ি আছে। নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার দায়িত্ব তাদের।’

ভেতরে করোনা রোগী, বাইরে মাদকসেবী ও ময়লার ভাগাড়!

বিজ্ঞাপন

এদিকে সরকারি হাসপাতালে দুপুর ২টা পর্যন্ত কর্তব্যরতদের থাকার নিয়ম হলেও দুপুর দেড়টায় গিয়ে সেখানে একজন নার্স বাদে আর কাউকে পাওয়া যায়নি। হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. ভোলানাথ বসাকের সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘সিনিয়র নার্স মোহাম্মদ মোহসিনের সঙ্গে কথা বলুন।’ কিন্তু সেখানে মোহসিনকেও পাওয়া যায়নি।

হাসপাতালের অব্যবস্থাপনা বিষয়ে পরবর্তী সময়ে আবার ডা. ভোলানাথ বসাকের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোন ধরেন, কিন্তু কোনো কথা বলেননি। এছাড়া আরও ছয়বার ফোন দেওয়া হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাসপাতাল চত্বরে মাদক সেবন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে তাকে এসএমএস করা হলেও তিনি কোনো উত্তর দেননি।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিক) ডা. আমিনুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা বিষয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) হাবিবুর রহমান খানের মোবাইলে যোগাযোগ করা হলে তাকেও পাওয়া যায়নি।

ভেতরে করোনা রোগী, বাইরে মাদকসেবী ও ময়লার ভাগাড়!

এদিকে হাসপাতালে বহিরাগতদের মাদক সেবন বিষয়ে বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নূরে আযম সারাবাংলাকে বলেন, ‘মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অবস্থান স্পষ্ট। কোনোভাবেই মাদকসেবী কাউকে ছাড় দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। যেহেতু অভিযোগ এসেছে, তাই এ বিষয়ে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

হাসপাতালের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এম সাইদুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এমন কোনো অভিযোগ এখন পর্যন্ত আমাদের কাছে আসেনি। তবে অবশ্যই বিষয়টি দ্রুত খতিয়ে দেখব।’

সারাবাংলা/এসবি/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন