বিজ্ঞাপন

আপনার সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার নিরাপদ রাখবেন যেভাবে

June 16, 2020 | 12:26 pm

লাইফস্টাইল ডেস্ক

ব্যস্ত আর ডিজিটাল এই সময়ে বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদেরও বড় একটা সময় কাটে ইন্টারনেটে। বিশেষ করে করোনার এই সাধারণ ছুটির সময়ে স্কুল-কলেজ বন্ধ থাকায় ও বাইরে যেতে না পারায় শিশু ও কিশোররা একটা বড় সময় কাটাচ্ছে ইন্টারনেটে। অনেকেরই আবার ইন্টারনেট ব্যবহার করে অনলাইনে পড়াশোনা চলছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে আমরা জানি ইন্টারনেট খুব একটা নিরাপদ জায়গা না যদি সেটি সঠিকভাবে ব্যবহার করা হয়। শিশুরা ব্রাউজ করতে করতে অনিরাপদ সাইটে চলে যেতে পারে। এছাড়াও সাইবার হয়রানি, যৌন নির্যাতনসহ নানা ধরনের এবিউজ ও ব্ল্যাকমেইলের শিকার হতে পারে অথবা ঝুঁকিতে ফেলতে পারে পুরো পরিবারের নিরাপত্তা। তাই আসুন দেখে নেই কীভাবে আপনার সন্তানের ইন্টারনেট ব্যবহার আরও নিরাপদ করতে পারবেন।

১. ব্রাউজের সময় নির্দিষ্ট করে দিন
আপনার শিশু ও কিশোর বয়সী সন্তান দিনের কখন কতটুকু সময়ের জন্য ইন্টারনেট ব্যবহার করবে তা আপনি নির্দিষ্ট করে দিন। আজকাল অনেক অ্যাপ এবং ব্রাউজারে ‘চাইল্ড ফিল্টার’ বা টাইমার আছে সেটিংসে যেয়ে সেটি নির্দিষ্ট করে দিন। তাদের যদি ব্যক্তিগত স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আইডি থাকে তাকলে তাদের দিনের কোন সময়ে সেটি ব্যবহার করতে পারবে তা শেখান। এবং অবশ্যই আপনার উপস্থিতিতে যেন তা করে তাও মাথায় রাখুন।

বিজ্ঞাপন

২. সন্তানের সঙ্গে মিলে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম চেক করুন
আপনার সন্তানের সঙ্গে মিলে তার সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের প্রাইভেসি চেকআপ করুন মাঝেমধ্যেই। যেমন সে কী কী তথ্য জানাচ্ছে সেগুলো দেখুন। তার ব্যক্তিগত তথ্যগুলো পাবলিক করা কিনা অথবা সে কখন কোথায় যায় সেগুলো সবসময় পাবলিক করা থাকে কি না তা দেখুন। এবং আপনার সন্তানকে হ্যাকার ও সম্ভাব্য অপরাধীদের সম্পর্কে বুঝিয় বলুন তারা কীভাবে ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করে ক্ষতি করতে পারে অর্থাৎ অপরহরণ, যৌন হয়রানি বা ব্ল্যাকমেইলিং ইত্যাদির সম্ভাব্যতা বুঝিয়ে বলুন ও সেসব থেকে নিরাপদে থাকতে বলুন।

৩. ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশে নিষেধ করুন
অনলাইনে ব্যক্তিগত গোপনীয় ও সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশ করা কখনোই নিরাপদ নয়। অনেক জনপ্রিয় ভিডিও শেয়ারিং অ্যাপ সাধারণত হ্যাকিংয়ের সঙ্গে জড়িত থাকে যাদের মূল টার্গেট থাকে শিশু-কিশোর ও অল্পবয়সী তরুণ। আপনার সন্তানকে বাসার ঠিকানা, কোথায় থাকে, কোন স্কুল বা কলেজে পড়ে, নিয়মিত কোথায় ঘুরতে যায় সেসব তথ্য প্রকাশ করতে মানা করুন। এবং আপনার সন্তানকে অনলাইনে কিছু পোস্ট করার আগে আপনার সঙ্গে কথা বলতে উৎসাহিত করুন। সন্তানকে বকাঝকা বা নিষেধ করলে সে আপনার কাছ থেকে গোপন করতে পারে। তাই তাকে নিরাপত্তার বিষয়গুলো বুঝিয়ে বলুন এতে সে আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে উৎসাহিত হবে।

বিজ্ঞাপন

৪.পাসওয়ার্ড গোপন রাখতে শেখান
অল্পবয়সের শিশু-কিশোররা সাধারণত একে অন্যের সঙ্গে পাসওয়ার্ড শেয়ার করে। এটা করতে মানা করুন। যত ঘনিষ্ঠই হোক না কেন এভাবে সে নিজের ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশ করে নিজের ও পরিবারের নিরাপত্তা হুমকির মুখে ফেলছে। এভাবে তার ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে অনলাইনে বুলিইং বা ট্রোলিংয়ের শিকার হতে পারে। একইভাবে আপনার অল্পবয়সী সন্তান যেন একা একা অনলাইনে কেনাকাটা না করে সেটিও মাথায় রাখুন। সেফ ব্রাউজিং কেন করতে হবে তার নৈতিক দিকটি আপনার সন্তানকে বুঝিয় বলুন। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের আইডিতে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিফিকেশন সেট করে রাখুন যাতে কোনধরনের অবৈধ লগ ইন হলে আপনি জানতে পারেন।

৫. পাসওয়ার্ডযুক্ত ওয়াইফাই ব্যবহার করতে শেখান
ঘরে বা বাইরে যেখানেই থাকুন না কেন, সবসময়ই বিশ্বাসযোগ্য ওয়াইফাই ব্যবহার নিশ্চিত করুন। বিশ্বাসযোগ্য অর্থাৎ যেসব ওয়াইফাই লগ ইন করতে পাসওয়ার্ড প্রয়োজন হয়। এমনকি আপনার সন্তানকে নিরাপদ সোর্স থেকে অ্যাপ ও ওয়েবসাইট ডাউনলোড করতে শেখান। প্রাপ্তবয়স্কদের কন্টেন্ট ব্রাউজ ঠেকাতে নির্দিষ্ট ফিল্টার ও সার্ভিসের সাহায্য নিন।

বিজ্ঞাপন

৬ ইন্টারনেটের দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখান
সাইবার বুলিইং বা হয়রানির ফলে শিশুর মনোজগতে বড়ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে যা তার বেড়ে ওঠার জন্য উপযুক্ত নয়। আপনার শিশু যেন অন্যদের বুলি না করে সেটিও তাকে শেখান। অনেকসময় বন্ধুবান্ধবদের চাপে পড়ে তারা অন্যদের হয়রানি করতে পারে। কিন্তু অভিভাবক হিসেবে আপনাকেই নিজের সন্তানকে এগুলো থেকে দূরে রাখতে হবে। অন্যকে নিয়ে হাসিঠাট্টা করলে বা তাকে হয়রানি করলে সেটি কেন ক্ষতিকর তা বুঝিয়ে বলুন। এমনকি তাদের ব্যক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কেউ নেতিবাচক মন্তব্য করলে তার উত্তর না দিয়ে রিপোর্ট করতে বলুন।

আপনার অপ্রাপ্তবয়স্কত সন্তানের নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার নিশ্চিত করা যেমন জরুরি তেমনি জরুরি তার মানসিক গঠনের দিকে খেয়াল রাখা। আপনার সন্তানের যদি মনে হয় আপনি তার ব্যক্তিগত জীবনে অনুপ্রবেশ করছে তাহলে সে আপনার কাছ থেকে তথ্য লুকোতে শুরু করবে যা আরও ভয়ঙ্কর। তাই সন্তানকে সবকিছু সুন্দরভাবে বুঝিয়ে বলুন। তার কোন কথা বা আচরণ আপনার কাছে আপত্তিকর মনে হলেও বকাঝকা না করে বুঝিয়ে সেটি করতে মানা করুন। তাকে বুঝিয়ে বলুন যে অভিভাবক হিসেবে তার সর্বোচ্চ নিরাপত্তা চান আপনি। এতে সে আপনার সঙ্গে শেয়ার করতে উৎসাহিত হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরএফ

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন