বিজ্ঞাপন

‘ফ্রিজ’ হচ্ছে পাপুলের সব অ্যাকাউন্ট, দেশে ফেরানো নিয়ে আলোচনা

June 21, 2020 | 11:08 pm

শেখ জাহিদুজ্জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: লক্ষ্মীপুর-২ (রায়পুর ও সদরের একাংশ) আসনের সংসদ সদস্য কাজী শহিদ ইসলাম পাপুল এবং তার কোম্পানির যাবতীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ (লেনদেন স্থগিত) হচ্ছে। এরই মধ্যে এসব অ্যাকাউন্ট স্থগিত করতে কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন। একইসঙ্গে এমপি পাপুলকে দেশে ফিরিয়ে আনা এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আইনি প্রক্রিয়া নিয়েও দুদক আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২১ জুন) দুদকের উচ্চ পর্যায়ের একাধিক সূত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করে এসব তথ্য জানা গেছে।

সূত্রগুলো বলছে, পাপুলের যাবতীয় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং তার কোম্পানির লেনদেনের যাবতীয় তথ্য জানাতে বাংলাদেশ বাংলাদেশ ব্যাংকের ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটকে (বিএফআইইউ) চিঠি দিয়েছে দুদক। পাপুল ও তার কোম্পানির সব ধরনের ব্যাংক লেনদেন ফ্রিজ বা লেনদেন স্থগিত করতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওই ইউনিটকে দুদক অবহিত করেছে। দুদক সূত্রগুলো বলছে, পাপুলকে দেশে ফিরিয়ে আনতে যা কিছু করণীয়, তার সবকিছু নিয়েই সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন মহলের সঙ্গে চলছে আলোচনা।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন- এমপি পাপুলের পরিবারের সদস্যদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে চিঠি

এদিকে, অর্থ ও মানব পাচারের অভিযোগে কুয়েতে গ্রেফতার হওয়া সংসদ সদস্য শহিদ ইসলাম পাপুল ও তার মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির হিসাব জব্দ হচ্ছে। এর মধ্যে মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অ্যাকাউন্টে পাঁচ মিলিয়ন কুয়েতি দিনার বা বাংলাদেশি টাকায় ১৩৭ কোটি ৮৮ লাখ ৮৩ টাকা রয়েছে বলে কুয়েতের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের বরাতে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।

বিজ্ঞাপন

লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য পাপুলকে গত ৬ জুন রাতে কুয়েতের মুশরিফ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। মারাফি কুয়েতিয়া কোম্পানির অন্যতম মালিক পাপুলের কুয়েতে স্থায়ীভাবে বসবাসের অনুমতিও রয়েছে। পাচারের শিকার পাঁচ বাংলাদেশির অভিযোগের ভিত্তিতে পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচার, অর্থ পাচার ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের শোষণের অভিযোগ এনেছে কুয়েতি প্রসিকিউশন।

আরও পড়ুন- পাপুলের সম্পদ অনুসন্ধানে ধীরগতি, তার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ!

বিজ্ঞাপন

এদিকে, পাপুল গ্রেফতার হওয়ার ১০ দিন পর গত ১৭ জুন পাপুলের স্ত্রী সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সেলিনা ইসলামসহ পরিবারের চার সদস্যের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা চেয়ে পুলিশের বিশেষ শাখাকে (এসবি) চিঠি দেয় দুদক। অন্যদিকে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি এমপি পাপুলের বিরুদ্ধে মানব পাচারসহ জ্ঞাত আয় বহির্ভূত শত শত কোটি টাকা অর্জন করে হুন্ডির মাধ্যমে বিদেশে পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় দুদক। পাপুলের বিরুদ্ধে আনীত ১৭৪ পাতায় তুলে ধরা অভিযোগগুলো অনুসন্ধানের জন্য দুদক একজন কর্মকর্তাও নিয়োগ দেয়।

পাপুলের বিরুদ্ধে যত অভিযোগ

বিজ্ঞাপন

পাপুলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগে বলা হয়েছে, এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের এই পরিচালক বিদেশে ব্যবসার আড়ালে ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা অবৈধভাবে অর্জন করে বিভিন্ন দেশে পাচার করেছেন। এর মধ্যে তিনি ২০১৬ সালে বাংলাদেশ থেকে ২৮০ কোটি টাকা হুন্ডি ও বিভিন্ন ব্যক্তির ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পাচার করেছেন। এ টাকার মধ্যে তিনি মার্কেন্টাইল ব্যাংকের মতিঝিল শাখার একটি হিসাবের মাধ্যমে ১৩২ কোটি টাকা ও প্রাইম ব্যাংকের এক কর্মকর্তার মাধ্যমে ৪০ কোটি টাকা পাচার করেন। ইউসিবিএলের মাধ্যমে ১০ কোটি ও প্রাইম ব্যাংকে ঋণ সৃষ্টি করে ১০ কোটি টাকা পাচার করেন। বাকি টাকা পাপুল তার শ্যালিকা জেসমিন প্রধান এবং জেডডব্লিউ লীলাবালি নামক প্রতিষ্ঠানের হিসাবে জমা করেন। কয়েকজন ব্যাংক মালিক অর্থপাচারে পাপুলকে সহযোগিতা করেছেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন- মানব পাচারের অভিযোগ: লক্ষ্মীপুরের এমপি পাপুল কুয়েতে গ্রেফতার

দুদকে জমা দেওয়া অভিযোগে আরও বলা হয়, ৫০ কোটি টাকার শেয়ার ক্রয় করে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকের পরিচালক হয়েছেন পাপুল। আর স্ত্রীর নামে একই ব্যাংকের ৩০ কোটি টাকার শেয়ার কিনে অংশীদার হয়েছেন। গুলশান-১ এর ১৬ নম্বর সড়কে গাউসিয়া ডেভেলপমেন্ট প্রকল্পে মেয়ে ও স্ত্রীর নামে দুটি ফ্ল্যাট, গুলশান-২’র পিংক সিটির পেছনে গাউসিয়া ইসলামিয়া প্রকল্পে স্ত্রীর নামে ৯ হাজার বর্গফুটের ফ্ল্যাট, স্ত্রী ও নিজের নামে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরসহ বিভিন্ন স্থানে ৯১ কোটি টাকার সম্পদ আছে। এছাড়া সোনালী ব্যাংকের ঢাকার ওয়েজ আর্নার্স শাখায় স্ত্রীর নামে ৫০ কোটি টাকার ওয়েজ আর্নার্স বন্ড ও মেয়ের নামে ২০ কোটি টাকার বন্ড আছে। শ্যালিকার নামে এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়ে দুটি বিলাসবহুল গাড়ি কিনে নিজে ব্যবহার করছেন। এনআরবি কমার্শিয়াল ব্যাংকে নিজ নামে ৪০ কোটি, মেয়ের নামে ১০ কোটি ও স্ত্রীর নামে ২০ কোটি টাকার স্থায়ী আমানত রয়েছে। বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় স্ত্রীর নামে একটি ছয় তলা বাড়ি আছে।

এছাড়া শ্যালিকার নাম ব্যবহার করে দিগন্ত মিডিয়ার বেনামে পরিচালক ছিলেন পাপুল। ফাঁসি কার্যকর হওয়া জামায়াত নেতা মীর কাশেম আলীর সঙ্গে তার বিপুল পরিমাণ ব্যবসা ছিল। মীর কাশেম আলীর ফাঁসি হওয়ার পর পাপুল তার বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, ব্যাংক পরিচালক হয়েও বেআইনিভাবে ইউসিবিএল ব্যাংক থেকে ১ হাজার ২০০ কোটি টাকার ব্যাংক গ্যারান্টি ইস্যু করে চার পরিচালক বোর্ড সভায় অনুমতি ছাড়া ব্যাংক গ্যারান্টি সুবিধা ভোগ করেছেন। এই ব্যাংক গ্যারান্টি নিয়ে পাপলু রূপপুর পারমাণবিক প্রকল্পে পাথর সরবরাহের ব্যবসা করেন বলেও উল্লেখ করা হয়েছে অভিযোগে।

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন