বিজ্ঞাপন

রোগী পালানোর ঘটনায় কৈফিয়ত তলব, চিকিৎসকদের ক্ষোভ

June 23, 2020 | 10:46 pm

ঢাকা: রাজধানীর মুগদা জেনারেল হাসপাতাল থেকে রোগী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় দায়িত্বরত মেডিকেল অফিসারের কাছে কৈফিয়ত তলব করা হয়েছে। এ বিষয়ে ক্ষোভ জানিয়েছে চিকিৎসকদের সংগঠন ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস সেফটি রাইটস অ্যান্ড রেসপন্সিবিলিটি (এফডিএসআর)।

বিজ্ঞাপন

গত ২১ জুন মুগদা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আবুল হাশেম শেখ স্বাক্ষরিত এক চিঠির মাধ্যমে এই কৈফিয়ত তলব করা হয়।

চিকিৎসকের কাছে কৈফিয়ত তলব করে চিঠিতে বলা হয়, মো. আব্দুল মান্নান, বয়স ৪৪ বছর, হাউজিং সোসাইটি, শ্যামলী, ঢাকা করোনা আক্রান্ত হয়ে গত ১৫ জুন ওই হাসপাতালে ভর্তি হয়ে ৭৬৪ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তিনি ২০ জুন রাত ২টা ৩০ মিনিটে হাসপাতাল থেকে পালিয়ে যান। রোস্টার অনুযায়ী ওই দিন আপনি দায়িত্বরত ছিলেন। এমতাবস্থায় সরকারি দায়িত্বে অবহেলার কারণে কেনো আপনার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না তা পত্র প্রাপ্তির তিন কর্মদিবসের মধ্যে নিম্ম স্বাক্ষরকারীর দফতরে লিখিতভাবে জবাব দাখিল করার জন্য বলা হলো।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে হাসপাতালের পরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ডা. মো. আবুল হাশেম শেখ সারাবাংলাকে বলেন, ‘একজন রোগী যখন হাসপাতালে ভর্তি হয় তখন তার সম্পূর্ণ দায়িত্ব হলো চিকিৎসকের। এই ক্ষেত্রে রোগী পালানোর বিষয়টা অবশ্যই দায়িত্বে অবহেলা। আমাকে এ বিষয়ে না জানানো আরেকটি অবহেলা। কারণ আমি পরদিন বিষয়টা জানতে পারি। আর তাই আসলে চিকিৎসকের বক্তব্য জানার জন্য এই কৈফিয়ত চাওয়া হয়েছে। এটা আমি স্বাস্থ্য অধিদফতর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে জানিয়েছি। এখানে আমি আসলে ভুলের কিছু দেখছি না। এ বিষয়ে আমি থানায় জিডিও করেছি।‘

এ দিকে এ বিষয়ে এফডিএসআরের মহাসচিব ডা. শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন সারাবাংলাকে বলেন, ‘ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীকে পাহারা দেওয়া চিকিৎসকের কাজ নয়। চিকিৎসক কেবল একজন রোগী দেখেন না। আর ওয়ার্ডে তিনি একমাত্র কর্মচারী নন। নিয়মানুযায়ী হাসপাতালে সকল ভিজিটরের পরিচয়পত্র প্রদর্শন করার কথা, সকল কর্মচারীর পরিচয়পত্র থাকার কথা ও যে কেউ বের হতে ও ঢুকতে চাইলে নিরাপত্তারক্ষীদের কাছে জবাব দেবার কথা। শুধু তাই নয় ছাড়পত্র ছাড়া কোনো রোগীর হাসপাতালের দরজা পার হবার কথা নয়। কিন্তু কেনো এমন বিষয়ে চিকিৎসকের কাছেই কৈফিয়ত তলব করা হলো সেটা আসলে বোধগম্য না। এইক্ষেত্রে হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থার নিশ্চিত করার দায় কিন্তু কর্তৃপক্ষের। হাসপাতালের কোনো যন্ত্রপাতি যদি চুরি হয় তবে সেটার দায়ও কী চিকিৎসককে নিতে হবে? নাকি সেক্ষেত্রেও চিকিৎসকের কাছে কৈফিয়ত চাওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের পরিচালক (প্রশাসন) ডা. বেলাল হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

সারাবাংলা/এসবি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন