বিজ্ঞাপন

অবশেষে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত হচ্ছে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট

June 25, 2020 | 9:36 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রাজধানীর চাঁনখারপুলে অবস্থিত পাঁচশ শয্যার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট অবশেষে করোনাভাইরাসে (কোভিড-১৯) আক্রান্তদের চিকিৎসায় ব্যবহারের সিদ্ধান্ত হয়েছে। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম জানিয়েছেন, এখানে কোভিড-১৯ রোগীদের ভর্তির কার্যক্রম শিগগিরই শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

এর আগে এই হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসায় যুক্ত করতে একাধিকবার সিদ্ধান্ত হলেও প্রতিবারই সে সিদ্ধান্ত বাতিলও হয়। সবশেষ সোমবার (২২ জুন) ‍দুপুরে কোভিড-১৯ সংক্রান্ত স্বাস্থ্য অধিদফতরের নিয়মিত অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয়, এই হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত রোগীদের ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হবে। সে অনুযায়ী ইনস্টিটিউটে সব সব প্রস্তুতি চলছে বলেও জানা গেছে।

এ বিষয়ে মঙ্গবার (২৩ জুন) কথা হয় ইনস্টিটিউটের পরিচালক ডা. আবুল কালামের সঙ্গে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী ইনস্টিটিউটের ৮ তলার ৮০২ ও ও ৯ তলায় ৯০২ নম্বর ওয়ার্ড প্রস্তুত করা হচ্ছে। কোভিড-১৯ রোগীদের সরাসরি এই দুই ওয়ার্ডে ভর্তি করা হবে। এই ‍দুই ওয়ার্ডে ৫০ জনেরও বেশি রোগীকে চিকিৎসা দেওয়া যাবে বলে জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

আগুন বা বিস্ফোরণে দগ্ধদের চিকিৎসা দিতে দেশের প্রথম বিশেষায়িত কোনো ইনস্টিটিউট হিসেবে গড়ে তোলা হয় পাঁচশ শয্যার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতালটি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে একাধিকবার সিদ্ধান্ত পরিবর্তনের পর শেষ পর্যন্ত ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটকে ‘করোনা ইউনিট’ ঘোষণা করা হয়। ওই সময় সেখানকার সব রোগীকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

পরিচালক ডা. আবুল কালাম বলেন, ঢাকা মেডিকেলের বার্ন ইউনিটে কোভিড রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া শুরু হলে সেখানকার সব দগ্ধ রোগীদের আমাদের এখানে ভর্তি করা হয়। এছাড়া আগে থেকেই এখানে আরও রোগী ছিল। তাদের সবাইকেই চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, দগ্ধ রোগীদের চিকিৎসা করার পাশাপাশি প্লাস্টিক সার্জারি করা হয় এখানে। এছাড়া ঠোঁট কাটাসহ অন্যান্য চিকিৎসাও দেওয়া হয়। এসব রোগীদের কথা মাথায় রেখেই আট ও ৯ তলার ওই দুইটি ওয়ার্ড সর্বোচ্চ সতর্কতা মেনে খোলা হচ্ছে। ওই দুই ওয়ার্ড থেকে যেন করোনাভাইরাসের সংক্রমণ অন্য কোথাও ছড়িয়ে না পড়তে পারে, সেজন্য আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছি।

করোনা সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়তে থাকলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে অনেক আগেই শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে কোভিড-১৯ রোগীদের চিকিৎসায় নিযুক্ত করার সিদ্ধান্ত জানানো হয়। তবে আগুনে দগ্ধ রোগীর সংবেদনশীলতা বিবেচনায় সে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। এরপর একাধিকবার এই হাসপাতালটিকে করোনা চিকিৎসায় নিয়োজিত করার সিদ্ধান্ত হয়, সেসব সিদ্ধান্ত বাতিলও হয়। এবার শেষ পর্যন্ত করোনা মহামারির গুরুত্ব বিবেচনায় হাসপাতালটিতে করোনা চিকিৎসা শুরু হতে যাচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএসআর/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন