বিজ্ঞাপন

এখনো বেতনহীন হোটেল-রেস্টুরেন্টের শ্রমিকরা

June 25, 2020 | 10:18 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: মালিবাগের হোটেল শ্রমিক রুহেল। তার মা অন্যের বাসায় কাজ করেন। বাবা ১০ বছর আগে দুর্ঘটনায় পা হারিয়েছেন। ঘরে ছোট আরও দুই ভাই-বোন। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে হোটেল বন্ধ ছিল। ঢাকায় টিকতে পারেননি। হোটেলে পাওনা না পেয়ে চলে গিয়েছিলেন রংপুরে। সাধারণ ছুটি তুলে নেওয়ার পর আবার ফিরেছেন। তবে হোটেলে যোগ দিয়ে আর আগের মতো বেতন পাচ্ছেন না। করোনা সংকটে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে সরকার যে ত্রাণ দিয়েছে, তার কিছুই হোটেল শ্রমিক রুহেলের পরিবার পায়নি বলে জানালেন।

বিজ্ঞাপন

কেবল রুহেল নয়, তার মতো রাজধানীর ছোট ছোট হোটেলগুলোর অনেক শ্রমিকের অবস্থায় একইরকম। করোনায় যতদিন হোটেল বন্ধ ছিল, অনাহারে-অর্ধাহারে দিন কাটাতে হয়েছে তাদের। এখন হোটেল খুললেও আগের মতো কাজ নেই। বেতন মিলছে অনেক কম।

রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির তথ্য বলছে, ঢাকা মহানগরে হোটেল-রেস্তোরাঁগুলোতে কাজ করেন ৬০ হাজার কর্মচারী। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ ছুটির আওতায় যখন সবকিছু বন্ধ করে দেওয়া হয়, তখন এসব শ্রমিকদের ছিল না খেয়ে থাকার দশা। এ মাসে সাধারণ ছুটির মেয়াদ না বাড়ানোয় অনেক হোটেল যেমন ‍খুলতে শুরু করেছে, তেমনি বন্ধও রয়েছে প্রায় অর্ধেক হোটেল। ফলে অর্ধেক শ্রমিকও এখনো কাজে ফিরতে পারেননি।

বিজ্ঞাপন

কেবল ছোট হোটেল নয়, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোর নামি রেস্টুরেন্টগুলোতেও কর্মচারীর সংখ্যা কম নয়। গুলশান-বনানী বা বসুন্ধরার মতো এলাকা ঘিরে গড়ে ওঠা শত শত রেস্টুরেন্টগুলোও ছিল অনেকের সহায়। করোনায় তাদের সবাইকেই কমবেশি একই সংকটের মুখে পড়তে হয়েছে।

বনানীর একটি রেস্টুরেন্ট মালিক জানান, তার রেস্টুরেন্টে স্টাফ ছিলেন ১৭ জন। সাধারণ ছুটিতে এই ১৭ জনের মধ্যে কেবল বাবুর্চিকে পূর্ণ বেতন দিয়ে ‘ধরে রেখেছিলেন’ তিনি। কারণ বাবুর্চি চলে গেলে পরে ভালো বাবুর্চি পাওয় যাবে না। বাকিদের সহযোগিতা বাবদ মাসে কেবল ৫ হাজার টাকা দিয়ে গেছেন। এখন আবার রেস্টুরেন্ট খুলেছেন তিনি। তবে সবাইকে কাজে নিতে পারেনি। কারণ তার রেস্টুরেন্ট থেকে কেবল ‘টেকওয়ে’ সার্ভিস দেওয়া হচ্ছে। এ কারণে আগের ১৭ জনের জায়গায় মাত্র ৭ জন কাজ করছেন। বাকিদের কোনো গতি হয়নি।

বিজ্ঞাপন

উত্তরার ১১ নম্বর সেক্টরে গেল ডিসেম্বরে চালু হওয়া একটি রেস্টুরেন্টের মালিক জানান, হোটেল শ্রমিকরা যেমন প্রণোদনা পায়নি, তেমনি মালিকদের ক্ষতির খবরও কেউ নেয়নি। তিনি বলেন, নতুন হোটেল চালু করে এমনিতেই ক্ষতির মধ্যে ছিলাম। এরপর করোনার আক্রমণে পুরো ব্যবসাই বন্ধ। আমি তো এখন বিপদে।

ইউনাইটেড গ্রুপ শিল্পগোষ্ঠীর চেইন রেস্টুরেন্ট ‘শেফস টেবিল’। এক ছাদের নিচে বহু রেস্টুরেন্ট উদ্যোক্তা সেখানে বিনিয়োগ করেছিলেন। নির্দিষ্ট কমিশন ছাড়াও যত লাভ হবে, তত বাড়িয়ে কমিশন নিত ইউনাইটেড। এবার করোনায় রেস্টুরেন্ট বন্ধ থাকায় রেস্টুরেন্টগুলো ক্ষতির মুখে পড়লেও সেই ক্ষতির ভাগ নিতে নারাজ ইউনাইটেড। উল্টো বন্ধ থাকার সময়েরও পুরো ভাড়া চেয়ে নোটিশ দিয়েছে তারা। জানিয়েছেন, ভাড়া না দিতে পারলে জিনিসপত্র রেখে বিদায় করে দেওয়া হবে! রেস্টুরেন্ট মালিকরা বলছেন, তারা এখন ভাড়া সামলাবেন নাকি শ্রমিকদের বেতন দেবেন— তা নিয়েই রয়েছেন দুশ্চিন্তায়।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, রাজধানীতে কাজ করা লাখ লাখ এসব হোটেল শ্রমিকদের কোনো নিয়োগপত্র বা পরচিয়পত্র নেই। ফলে তারা শ্রম আইনের কোনো সুযোগ-সুবিধা পাচ্ছেন না।

বাংলাদেশ রেস্তোরাঁ মালিক সমিতির সভাপতি খন্দকার রুহুল আমিন জানান, হোটলগুলো শিল্প ক্যাটাগরিতে না থাকায় এর শ্রমিকরা নিয়োগপত্র সুবিধা পান না। তবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে বহু আগে থেকেই হোটেল-রেস্টুরেন্টকে শিল্প ঘোষণার দাবি দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদফতর থেকে জানা যায়, শিল্প ক্যাটাগরিতে না হলেও হোটেল-রেস্টুরেন্ট শ্রমিকদের আইডি কার্ড ও নিয়োগপত্র দেওয়ার কথা মালিকপক্ষের।

সারাবাংল/এসএ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন