বিজ্ঞাপন

‘ভূতুড়ে বিলের সিরিঞ্জ’ দিয়ে জনগণের রক্ত টানছে সরকার: রিজভী

June 27, 2020 | 4:13 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিলের সিরিঞ্জ’ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে সরকার’—এমনটিই অভিযোগ বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (২৭ জুন) দুপুরে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে তিনি এ অভিযোগ করেন।
বিদ্যুত-জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সংক্রান্ত বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন আইন (সংশোধন) বিল সংসদে উত্থাপনের প্রতিবাদে ‘ফিউচার অব বাংলাদেশ’ নামের এটি সংগঠন এ মানববন্ধনের আয়োজন করে।

রিজভী বলেন, ‘লোক আমাদেরকে বলছেন- যেখানে বিদ্যুত বিল হওয়ার কথা ১ হাজার থেকে ১২‘শ টাকা। সেখানে ২০ হাজার, ২৫ হাজার টাকা বিল আসছে। এই ভূতুড়ে বিলের জন্য গণমাধ্যমে অনেক প্রতিবেদন ছাপা হয়েছে। সরকারের এদিকে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই, সরকার এদিকে তাকাচ্ছে না। তারা নির্লজ্জভাবে গায়ের জোরে বিদ্যুত ও জ্বালানি তেলের মূল্য বৃদ্ধি করছে।’

বিজ্ঞাপন

‘সিরিঞ্জ দিয়ে যেমন রক্ত টেনে নেওয়া হয়, তেমনি এই সরকার বিদ্যুতের ‘ভূতুড়ে বিলের সিরিঞ্জ’ দিয়ে জনগণের রক্ত টেনে নিচ্ছে। আমরা এর তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি’— বলেন রুহুল কবির রিজভী।

তিনি বলেন, ‘তাদের (সরকার) টাকা দরকার। এই টাকা কোথায় যাচ্ছে জানেন? এটাও গতকাল বিভিন্ন পত্রিকায় বেরিয়েছে। ৫ হাজার কয়েক‘শ কোটি টাকা সুইস ব্যাংকে জমা হয়েছে। এই টাকা কার? এই টাকা মন্ত্রীদের, এই টাকা আমলাদের, এই টাকা ক্ষমতাসীন দলের লোকদের।’

বিজ্ঞাপন

রিজভী বলেন, ‘ গত ১১-১২ বছর ধরে জনগণের এই টাকা আত্মসাৎ করছে তারা। সেই টাকাই সুইস ব্যাংকে জমা করেছে তারা। এখন আরও টাকা দরকার, সুইস ব্যাংকে আরও কালো টাকা পাঠাতে হবে— এই লক্ষ্য নিয়ে বছরে কয়েকবার বিদ্যুত-জ্বালানি তেলের দাম তারা বৃদ্ধি করছে তারা।’

করোনা মহামারি প্রসঙ্গে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব, ‘মানুষ মরছে, অক্সিজেন সিলিন্ডার নেই, অক্সিমিটার নেই, ঢাকার কয়েকটি হাসপাতাল ছাড়া চিকিৎসা নেই। গণমাধ্যমে সব কথা আসছে না। হাসপাতালে গিয়ে করোনা রোগী কোনো চিকিৎসা পাচ্ছে না। কারণ, জনগণকে সুবিধা দেওয়া, জনগণের কষ্ট লাঘব করার কোনো কাজ তারা করেনি। বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত ভেঙে গেছে, একেবারে ভঙ্গুর। মানুষ এখন কুকুর-বিড়ালের মতো রাস্তায় মারা যাচ্ছে—এটাই হচ্ছে আওয়ামী লীগ সরকারের উপহার।’

বিজ্ঞাপন

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ‘সম্রাটের মতো’ দেশ শাসন করছেন মন্তব্য করে রিজভী বলেন, ‘কোনো এক দেশের সম্রাট বলেছিলেন, আই অ্যাম ‘ল, আমিই হলাম আইন। শেখ হাসিনা হলেন সেই সম্রাটের মতো। আমিই আইন, আমি যেটা বলব, সেটাই মানতে হবে। কিসের পার্লামেন্ট?’

তিনি বলেন, ‘সরকার মনে করে আমি যেটা বলব সেটাই আইন। কেউ কিছু বললে লাল ঘরে পাঠিয়ে দেব, বেশি কথা বলো না, বেশি কথা বললে আমি একেবারে লালঘরে পাঠিয়ে দেব। বিরোধীদল ও বিরোধী মতের জন্য একেবারে পার্মানেন্ট করে রেখেছি লাল ঘর, ইটের লাল দেয়ালের মধ্যে বন্দি করে রাখব।’

বিজ্ঞাপন

‘আমরা বলতে চাই, আমাদের বন্দি করবেন তারপরও আমরা প্রতিবাদ করবো। আমাদেরকে মামলা দেবেন, আমাদেরকে কারাগারে নিয়ে যাবেন—আমরা তো প্রস্তুত সব সময়। কিন্তু আপনার অন্যায়-অবিচার-অত্যাচার-জুলুম আর এদেশের জনগণ কখনোই মেনে নেবে না’— বলেন রুহুল কবির রিজভী।

মানববন্ধনে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সহসভাপতি নবী উল্লাহ নবী, ফিউচার অব বাংলাদেশের শওকত আজিজ ও সাজ্জাদুল হানিফ। উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় নেতা কেজি সেলিম, ফয়সাল প্রধান, আহম্মেদ উল্লাহ, জুনায়েদ চৌধুরী, বাবু তানভীর প্রমুখ।

সারাবাংলা/এজেড/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন