বিজ্ঞাপন

‘করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই’

June 28, 2020 | 4:30 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনা সংকট মোকাবিলায় সরকারের কোনো রোডম্যাপ নেই বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বিজ্ঞাপন

রোববার (২৮ জুন) দুপুরে রাজধানীর উত্তরার বাসা থেকে জুম মিটিংয়ের মাধ্যমে নয়াপল্টনে আয়োজিত একটি ফ্রি মেডিক্যাল ক্যাম্প উদ্বোধনকালে তিনি এ অভিযোগ করেন। জাতীয়তাবাদী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দল এ মেডিক্যাল ক্যাম্প আয়োজন করে।

মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কয়েকদিন আগে চীনা বিশেষজ্ঞরা এসেছিলেন। তারা বলে গেছেন বাংলাদেশে সব কিছু এলোমেলো। এখানে কোথায় রোগ আছে, সেটাই খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। অর্থাৎ তারা (সরকার) সমস্যা চিহ্নিত করতে পারছেন না এবং চিহ্নিত করার কোনো ব্যবস্থা তাদের নেই।’

বিজ্ঞাপন

‘স্বাস্থ্য অধিদফতর যে গাইড লাইন দেবে, সেই গাইড লাইনও তারা দিতে পারে নাই। গোটা বাংলাদেশে কোভিড-১৯ মোকাবিলা করার জন্য যে রোড ম্যাপ, পরিকল্পনা, প্রতিরোধ ব্যবস্থা, তার সবটাই অনুপস্থিত’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘সরকারের স্বাস্থ্যব্যবস্থা এবং গোটা হেলথ সিস্টেম একেবারে ভেঙে পড়েছে, একেবারেই লেজে গোবরে অবস্থা হয়ে গেছে। স্বাস্থ্য খাতের ব্যাপারে চরম অবহেলা, উদাসিনতা, কোভিড-১৯-এর ব্যাপারে সঠিক সিদ্ধান্ত নিতে না পারা এবং ভ্রান্ত নীতি গ্রহণ করার কারণে দেশে করুণ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে।’

ফখরুল বলেন, ‘এখানে কারও কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। সরকারের তরফ থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতর আছে। তারা একেক সময়ে একেক রকম কথা বলছে। ঢাকা উত্তর সিটির মেয়র গতকাল বলেছেন যে, আর কাল বিলম্ব না করে এখন রেড জোন ভিত্তিক ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন।’

‘দেখুন কতটা সামঞ্জস্যহীনতা হলে, কতটা নৈরাজ্য সৃষ্টি হলে এ রকম হয়! অনেক আগেই বলা হয়েছে, দেশে রেড জোন, ইয়েলো জোন, গ্রিন জোন করা হবে। ঢাকা শহরের রেড জোন করে একদম কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করে লকডাউন করবে। একমাত্র পূর্ব রাজাবাজার ছাড়া কোথাও হয়েছে বলে আমার জানা নেই। আমার মনে হয়, সরকার জানেও না তারা কী করবে, কী করতে চাচ্ছে’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যের বিষয় হলো, আমাদের সরকার প্রথম থেকে এই ভয়াবহ বৈশ্বিক মহামারিকে উপেক্ষা করেছে, অবহেলা করেছে। এটার পেছনে তাদের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য ছিল। পরবর্তীকালে যখন এটা একটা মহামারি আকারে সমগ্র বিশ্বের ‍ছড়িয়ে পড়া শুরু করেছে তখন তারা কথা বলতে শুরু করেছে, কাজ করতে শুরু করেছে।’

প্যাকেজ প্রণোদনা সম্পর্কে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সেটা মূলত ছিল ব্যাংক ঋণ। এই মুহূর্তে সরকারের উচিত ছিল মানবিক দিকটা গুরুত্ব দেওয়া। যে মানুষগুলোর কাজ বন্ধ হয়ে গেছে, কর্মহীন হয়ে পড়ছে অথবা যারা কাজ পাচ্ছে না তাদের বেঁচে থাকার জন্য প্রয়োজনীয় টাকা সরকার দিতে পারেনি।’

তিনি বলেন, ‘মাত্র আড়াই হাজার টাকা করে প্রধানমন্ত্রীর একটা অনুদান ৫০ লাখ মানুষকে দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু সেটাও দলীয়করণ করার ফলে যাদের পাওয়ার কথা ছিল তারা পায়নি। বিএনপির পক্ষ থেকে স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘ মেয়াদী যে প্যাকেজ প্রস্তাবনার কথা বলা হয়েছিল, সেটাতেও সাড়া দেয়নি সরকার।’

প্রস্তাবিত ২০২০-২১ অর্থবছরে বাজেটে স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্ধের সমালোচনা করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘বাজেটে স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ সবচাইতে কম। কী দুর্ভাগ্য এই জাতির। আজকে রাস্তায় মানুষ মারা যাচ্ছে। টেস্ট করতে পারছে না, কোনো টেস্ট হচ্ছে না। এরপরেও ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরীর গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের কিট সরকার নাকচ করে দিয়েছে।’

‘আমরা পত্র-পত্রিকায় দেখছি যে, সিন্ডিকেট কাজ করছে এগুলো কেনার জন্যে। এই চরম দুঃসময়েও দুর্নীতিতে ছেয়ে গেছে স্বাস্থ্য বিভাগ’— বলেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বাংলাদেশের মানুষ খুব অসহায় হয়ে পড়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, ‘তারা কোনো দিক-নির্দেশনা খুঁজে পাচ্ছে না। সরকারের দুর্নীতির কারণে সমস্ত দেশে কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে। এখন গ্রামে গ্রামে করোনাভাইরাসের রোগী দেখা যাচ্ছে।’

ফখরুল বলেন, ‘এই রোগের জন্য অক্সিজেন প্রয়োজন, সেই অক্সিজেন কোথাও পাওয়া যাচ্ছে না। এমনকি হাসপাতালগুলোতে অক্সিজেন নেই। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার প্রতি মানুষের যে কতটা অনীহা সেটা প্রমাণিত হয় তখন, যখন হাসপাতালগুলোর কোভিড শয্যা খালি পড়ে থাকে। কারণ, মানুষ হাসপাতালে যেতে চাচ্ছে না। হাসপাতালের যে ব্যবস্থা সেই ব্যবস্থায় কেউ আস্থা আনতে পারছে না।’

তিনি বলেন, ‘বেশিরভাগ মানুষ ঘরের মধ্যে চিকিৎসা নিচ্ছেন, ঘরের মধ্যে তারা প্রাণ দিচ্ছেন। এই অবস্থায় আজকে প্রয়োজন মানবতার স্বার্থে সকল রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন, গোষ্ঠীকে এক সঙ্গে কাজ করা।’

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দলকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, ‘হোমিওপ্যাথিক নিসন্দেহে একটি কার্যকর চিকিৎসা ব্যবস্থা। ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথ দীর্ঘদিন ধরে বেঁচে আছেন। তিনি হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা করেন। বাংলাদেশে বহুদিন আগে উনি যখন এসেছিলেন তখন তার সঙ্গে হোমিও প্যাথিক বাক্সটি ছিল।’

করোনাভাইরাস প্রতিরোধমূলক হোমিওপ্যাথিক ওষুধ ‘আর্সিনিক এলবাম-৩০’ ও ‘ব্রায়ানিয়া এলবাম-৩০’ কয়েক‘শ মানুষের মধ্যে বিতরণ করে জাতীয়তাবাদী হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দল।

সংগঠনটির সভাপতি ডা. আরিফুর রহমান মোল্লার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক ডা. শফিকুল আলম নাদিমের পরিচালনায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন হোমিও প্যাথিক চিকিৎসক দলের সহসভাপতি মশিউজ্জামান পান্নু, মজিবুল্লাহ মুজিব, সাংগঠনিক সম্পাদক এ কে এম জাকির হোসেন ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গাজী নিজাম উদ্দিন।

সারাবাংলা/এজেড/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন