বিজ্ঞাপন

‘দিল্লিতে নেপালের সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র চলছে’

June 29, 2020 | 1:33 am

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

দিল্লি থেকে নেপালের নির্বাচিত সরকার উৎখাতের নীলনকশা তৈরি হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি। রোববার (২৮ জুন) প্রয়াত কমিউনিস্ট নেতা মদন ভান্ডারির ৬৯ তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে নিজ বাসভবন থেকে দেওয়া এক বক্তব্যে তিনি এমন দাবি করছেন। খবর দ্য হিন্দু।

বিজ্ঞাপন

বক্তব্যে নেপালের প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দিল্লি থেকে খবর আসছে সেখানে নেপালের সরকার উৎখাতের নীল নকশা তৈরি হচ্ছে। শুধুমাত্র সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে নেপালের সীমানা পুনঃনির্ধারণের যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে তা সহ্য করতে না পেরেই, পার্লামেন্টে বৈধ সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে সরকার গঠন করা দলকে ক্ষমতা থেকে হটানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ষড়যন্ত্র হচ্ছে হোক। কিন্তু আমাদেরকে ক্ষমতা থেকে কেউ টলাতে পারবে না।

বিজ্ঞাপন

এর আগে, জুনের ১৩ তারিখে নেপালের পার্লামেন্টে নেপালের ভূ-সীমা পুনঃনির্ধারণ করে মানচিত্রে সংশোধনী আনা হয়। ওই সংশোধনীর মাধ্যমে ভারতের উত্তরখন্ড প্রদেশের বিরোধপূর্ণ লিম্পুইয়াধুরা-কালাপানি-লিপুলেখ অঞ্চলকে নিজেদের বলে দাবি করেছে নেপাল। জুনের ১৮ তারিখ ওই সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছেন নেপালের রাষ্ট্রপতি বিদ্যা দেবী ভান্ডারি।

এদিকে, ২০১৬ সালে কে পি শর্মা অলির সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাতের আরো একটি ব্যর্থ চেষ্টা হয়েছিল বলে উল্লেখ করে নেপালের প্রধানমন্ত্রী ভারতের দিকে ইঙ্গিত করে বলেছেন, কেউ কেউ মনে করছে নেপালের প্রাপ্য ভূ-সীমা দাবি করা বড় 'অপরাধ' হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অন্যদিকে, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টির নেতৃত্ব এবং প্রধানমন্ত্রীত্ব একইসঙ্গে নিজের আয়ত্ত্বে রাখার কারণে কে পি শর্মা অলি নিজের পার্টিতেই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন। নভেল করোনাভাইরাসের কারণে সৃষ্ট বৈশ্বিক মহামারি কোভিড-১৯ মোকাবিলায় সরকারের ব্যর্থতার কথা উল্লেখ করে স্ট্যান্ডিং কমিটির সভা ডেকেছিলেন পার্টির কো-চেয়ার ও সাবেক প্রভাবশালী মাওবাদী গেরিলা পুস্প কোমল দহল প্রচণ্ড।

সেখানে, স্ট্যান্ডিং কমিটির ৪১ সদস্যের মধ্যে ৩০ সদস্যই প্রচণ্ড'র পক্ষে থাকায় ওই সভায় যোগ দেওয়া থেকে বিরত ছিলেন প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা অলি।

বিজ্ঞাপন

প্রসঙ্গত, ভারতের সঙ্গে চীনের সীমান্ত উত্তেজনা এবং বহিঃবিশ্বে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য বিস্তার প্রক্রিয়ার মধ্যে দক্ষিণ এশিয়ায় নেপালের কাঁধে ভর করে ভারতের সঙ্গে লড়াই জমজমাট করতে চাইছিল চীন। কিন্তু, নেপালের কমিউনিস্ট পার্টিকে ব্যবহার করে নেপালের জাতিবাদি কৌশলকে দ্বি খন্ডিত করতে চাইছে ভারত - আন্তর্জাতিক রাজনীতি বিশ্লেষকরা এমনটাই মনে করছেন।

আরও পড়ুন -

বিজ্ঞাপন

সীমান্তে সেনা বাড়াল নেপাল, বহুমুখী চাপে ভারত

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন