বিজ্ঞাপন

লকডাউন প্রত্যাহার চেয়ে হাইকোর্টে রিট

June 29, 2020 | 5:11 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সরকার ঘোষিত রেড জোনগুলোতে ঢালাও লকডাউন প্রত্যাহার ও দেশব্যাপী স্বাভাবিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পুনরায় চালুর নির্দেশনা চেয়ে হাইকোর্টে রিট দায়ের করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মঞ্জুরুল করিমের পক্ষে এ রিট দায়ের করা হয়। সোমবার (২৯ জুন) রিটের বিষয়টি জানিছেন রিটকারীর আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ।

তিনি জানান, বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিমের ভার্চুয়াল হাইকোর্ট বেঞ্চে শুনানি হবে।

বিজ্ঞাপন

রিট আবেদনে বলা হয়, সরকার সম্প্রতিকালে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় দেশের বিভিন্ন এলাকাকে রেড জোন হিসেবে চিহ্নিত করে সেখানে ঢালাওভাবে লকডাউন জারি করেছে।

বাংলাদেশে প্রচলিত ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৮’-এর অধীনে কেবলমাত্র সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের চলাচল, বসতবাড়ি কিংবা ব্যবহৃত দ্রব্যাদিতে সরকার নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে পারে। অসুস্থ মানুষদের কারণে সমগ্র এলাকা কিংবা সমগ্র শহর লকডাউন করার কোনো আইনগত এখতিয়ার সরকারের নেই।’

‘তাছাড়া ‘কোভিড-১৯‘ রোগকে এখনো বাংলাদেশ সরকার উক্ত আইনের অধীনে ‘সংক্রামক ব্যাধি’ হিসেবে ঘোষণাও করেনি। এমতাবস্থায় করোনাভাইরাসের নামে সুস্থ-সবল নাগরিকদের সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত পেশার স্বাধীনতা, চলাচলের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপের আইনগত কর্তৃত্ব সরকারের নেই।’

রিটে আরও বলা হয়, লকডাউন করোনায় মৃত্যুহার থামাতে পারে—এমন ধারণার কোনো প্রমাণিত বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। কারণ সারাবিশ্বে যেসব দেশে করোনায় সবচেয়ে বেশি হারে মৃত্যু হয়েছে (মিলিয়ন জনসংখ্যায় মৃত্যুহার হিসেবে), তার প্রথম ১০টিতেই লকডাউন হয়েছিল। অপরদিকে লকডাউন না হয়েও সুইডেন মৃত্যুহারের দিক থেকে ১১তম অবস্থানে আছে। আবার অনেক দেশে লকডাউন তুলে নেওয়ার পর আক্রান্তের সংখ্যা হ্রাস পেয়েছে। এ ব্যাপারে গত ২২ মে ব্রিটিশ দৈনিক ‘দ্য সান’ পত্রিকায় বিস্তারিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।

‘রসায়নে নোবেলজয়ী বিজ্ঞানী ও স্ট্যানফোর্ড ইউনিভার্সিটির প্রফেসর মাইকেল লেভিট আরও প্রায় দুমাস আগেই বলেছেন, করোনাভাইরাস মহামারী রোধে বিশ্বব্যাপী জারিকৃত লকডাউন ‘বিশাল ভুল’ ছিল। এতে সমাজের বড় ক্ষতির পাশাপাশি কোনো ধরনের হার্ড ইমিউনিটি প্রতিষ্ঠিত হয়নি।’

‘হার্ড ইমিউনিটি হলো এই ধরনের ভাইরাস থেকে রক্ষার একমাত্র বিজ্ঞানসম্মত উপায়। দেশে হার্ড ইমিউনিটি অর্জন করতে হলে সুস্থ-সবল নাগরিকদের চলাচলের ওপর বেআইনিভাবে আরোপকৃত সকল বিধিনিষেধ প্রত্যাহার করতে হবে। তাই ‘সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ, নিয়ন্ত্রণ ও নির্মূল) আইন-২০১৯‘ অনুসরণে কেবলমাত্র অসুস্থ ও দুর্বল লোকদের জন্য বিশেষ স্বাস্থ্যরক্ষামূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করে বাকি নাগরিকদের ওপর থেকে লকডাউনের নামে আরোপকৃত যাবতীয় বিধিনিষেধ প্রত্যাহারের জন্য রিটে আবেদন জানানো হয়েছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন