বিজ্ঞাপন

২০ কোটি টাকা খরচ কতটুকু প্রয়োজন ছিল: জি এম কাদের

June 29, 2020 | 6:52 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার খরচ বিষয়ে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন, খবরের কাগজে দেখতে পাচ্ছি, ঢাকা মেডিকেল কলেজে স্বাস্থ্যকর্মীদের খরচ ২০ কোটি টাকার মতো খরচ হয়েছে। খাবার খরচই হয়েছে প্রায় অর্ধেক। কতটুকু প্রয়োজন ছিল, কতটুকু অপচয় হয়েছে কতটুকু দুর্নীতি হয়েছে এখন পর্যন্ত জানি না।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) বাজটে অধিবেশনের ওপর আলোচনা করতে গিয়ে তিনি এ সব কথা বলেন। স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

প্রস্তাবিত বাজেট বাস্তবায়ন এক বিরাট চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে বলেছেন, করোনার কারণে অর্থনীতি বিপর্যস্ত, কর্মহীন হচ্ছে মানুষ, দারিদ্র্যের হার বাড়ছে। সমালোচকরা বলছেন, এই বাজেট গতানুগতিক, অনুমানভিত্তিক। থোক বরাদ্দের ক্ষেত্রে যথাযথ মনিটরিং না করলে অপচয়-দুর্নীতির সম্ভাবনা থাকে।

বিজ্ঞাপন

জি এম কাদের বলেন, ‘আয়ের স্বল্পতা, অন্যদিকে ব্যয়ের বিশালতা সামনে। সর্বত্র কৃচ্ছতাসাধন করতে হবে, কারণ রাজস্ব আদায় হবে না। প্রবাসীরা কর্ম হারাচ্ছে, রেমিটেন্স ২০ থেকে ২৫ ভাগ কমে যাবে, এতে রিজার্ভে টান পড়বে।’

তিনি বলেন, বাজেটেরও বেশি টাকা বাংলাদেশ থেকে পাচার হয়ে গেছে, এই পাচার থামছে না।’

কালো টাকা সাদা করার প্রস্তাবের বিরোধীতা করে তিনি বলেন, ‘এ খাত থেকে বেশি টাকা আসবে না। করোনা কতদিনে শেষ হবে কেউ জানে না। তাই করোনার সঙ্গে বসবাস করেই অর্থনীতিকে সচল করতে হবে। কৃষিখাত সচল থাকলে পৃথিবীর কারো কোনো সহযোগিতা ছাড়া বাংলাদেশ বেঁচে থাকবে, তাই কৃষিখাতে বরাদ্দ আরও বাড়াতে হবে।’ তিনি বর্তমান সংকট মোকাবিলায় দলমত নির্বিশেষে সবাইকে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান।

জিএম কাদের আরও বলেন, ‘সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া থোক বরাদ্দ দিলে সাধারণত এডহক বেসিসে যখন যেখানে দরকার তখন সেখানে খরচ করার একটি প্রবণতা থাকে। কত দরকার, কী দরকার সেটা কে নির্ধারণ করবে? এগুলোর ব্যাপারে সঠিক নিয়ন্ত্রণ রাখা যায় না।’

তিনি বলেন, ‘কালো টাকা সাদা করার ঢালাও সুযোগ শুল্ক আয় বৃদ্ধির বড় ধরনের একটি পদক্ষেপ, আমরা মনে করছি ডেসপারেট মুভ। প্রায় সকল মহল থেকে প্রতিবাদ আসছে। বেশিরভাগ মানুষ মনে করে এটাতে শুধুমাত্র সুনাগরিকদের আইন ও নীতির প্রতি আনুগত্যকে নিরুৎসাহিত করা হবে না, এই সুযোগ দুর্নীতিকে উৎসাহিত করবে।’

বিরোধী দলীয় উপনেতা বলেন, ‘১ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকার ঘাটতি। ঘাটতি কমাতে হলে ব্যয় কমাতে হবে। আয় বাড়াতে হবে। পরিচালন ব্যয় কমানো কঠিন কাজ। তবুও যতটা সম্ভব কৃচ্ছতাসাধনের ব্যবস্থা করতে হবে। উন্নয়ন ব্যয়ে কিছুটা কাটছাঁট করে করোনা সংকট মোকাবিলায় বাড়তি অর্থায়নের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন