বিজ্ঞাপন

‘আল্লাহ বাঁচিয়েছে, ১ মিনিটের জন্য লঞ্চটি ধরতে পারিনি’

June 29, 2020 | 7:10 pm

উজ্জল জিসান, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আরিফ তালুকদার (৩৫)। তিনিসহ ১০ থেকে ১২ জন মুন্সীগঞ্জের মীর কাদিম কাঠপট্টি থেকে প্রতিদিন মর্নিং বার্ড লঞ্চে এসেই ঢাকায় অফিস করতেন। আবার অফিস শেষে রাতে বাড়িতে ফিরতেন। আজও বের হয়েছিলেন ঠিকই। কিন্তু মাত্র এক মিনিটের জন্য তিনি লঞ্চটি ধরতে পারেননি। পরের লঞ্চে এসে জানতে পারেন মর্নিং বার্ড ডুবে গেছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনালের সামনে সারাবাংলার কাছে হাউমাউ করে কেঁদে উঠে বলেন, ‘আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়েছে। মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে লঞ্চটি ধরতে পারিনি। ভাবছিলাম আজ চাকরিটাই মনে হয় চলে যাবে। কিন্তু আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্যই করেন। মীর কাদিম থেকে এসে আমরা যারা অফিস করতাম তাদের মধ্যে ডুবে যাওয়া লঞ্চটিতে পাঁচজন ছিলেন।’

আরিফ বলেন, ‘আমি বংশাল নর্থ সাউথ রোডে যমুনা ব্যাংকে চাকরি করি। প্রতিদিন এই লঞ্চেই যাতায়াত করি। লঞ্চ ধরতে না পেরে মন খারাপ হয়েছিল।’

বিজ্ঞাপন

যমুনা ব্যাংকের ইসলামপুর শাখায় সাব স্টাফ হিসেবে কর্মরত ছিলেন মো. সুমন। তিনিসহ মোট পাঁচজন লঞ্চে উঠেছিলেন। সুমনের মরদেহ ডুবুরিরা উদ্ধার করেছে। দুজন সাঁতরে কিনারে উঠেছে। বাকি দুজনকে এখনও পাওয়া যায়নি বলে জানান সুমনের বড়ভাই সোহাগ।

সোহাগ বলেন, ‘দুই ছেলেকে নিয়ে সুমনের সংসার। সুখী সংসার আজ ভেঙে তছনছ হয়ে গেলো।’

সদরঘাটে আহাজারি করতে করতে আসেন সাইফুল হোসেন ও মিরাজ। লঞ্চডুবিতে ছোটভাই মইনুল হোসেনের খোঁজ করতে এসেছেন। এসেই নৌকায় থাকা ভাইয়ের মরদেহ শনাক্ত করেন তারা। ইসলামপুরে কাপড়ের ব্যবসা করতেন মইনুল। প্রতিদিন সকালে এই লঞ্চে আসতেন তিনি। আর রাতে ফিরে যেতেন।

সাইফুল হোসেন বলেন, ‘আজ আর আমার ভাই বাড়িতে ফিরবে না। ফিরলেও তার নিথর দেহ ফিরবে।’

সোমবার (২৯ জুন) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে মর্নিং বার্ড লঞ্চটি সদরঘাটের অদুরে ময়ুর-২ লঞ্চের ধাক্কায় বুড়িগঙ্গা নদীতে ডুবে যায়। বিআইডব্লিউটিএ জানিয়েছে, লঞ্চটিতে প্রায় ৬০ জনের মতো যাত্রী ছিল।

ফায়ার সার্ভিসের কন্ট্রোল রুম থেকে জানানো হয়েছে, বিকেল চারটা পর্যন্ত মোট ডুবুরিরা ৩৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করেছে।

সারাবাংলা/ইউজে/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন