বিজ্ঞাপন

অর্থবিল পাস, আরও সহজ হলো পুঁজিবাজারে কালো টাকা বিনিয়োগ

June 29, 2020 | 8:31 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত আরও শিথিল করা ছাড়া বাজেটে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তন হয়নি। তাই অর্থবিলেও আসেনি পরিবর্তন। নির্দিষ্ট হারে কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে তিন বছর তা বাজারে রাখার যে শর্ত দেওয়া হয়েছিল, তা কমিয়ে একবছর করা হয়েছে। এর সঙ্গে ছোটখাট কিছু পরিবর্তন এনে অর্থবিল-২০২০ জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে বিলটি কণ্ঠভোটে পাস হয়। এর আগে, বিলের ওপর বিরোধী দলের সদস্যদের দেওয়া জনমত যাচাইয়ের প্রস্তাব এলে তা কণ্ঠভোটে নাকচ করা হয়।

বিলটি পাসের আগে সমাপনী বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আশা করেন, মানুষ বাজেট বাস্তবায়নে এগিয়ে আসবে। তিনি গত ১১ জুন ২০২০-২১ অর্থবছরের জন্য পাঁচ লাখ ৬৮ হাজার কোটি টাকার বাজেটের সঙ্গে অর্থবিল-২০২০ সংসদে উপস্থাপন করেছিলেন। আগামীকাল মঙ্গলবার পাস হবে মূল বাজেট। পহেলা জুলাই বুধবার থেকে শুরু হবে নতুন অর্থবছর।

বিজ্ঞাপন

কঠোর সতর্কতা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে অনুষ্ঠিত সংসদ অধিবেশনে অর্থ বিলের উপর সংশোধনী প্রস্তাব এনে বক্তৃতা করেন সরকারি ও বিরোধী দলীয় সদস্যরা। বিরোধী দলীয় চিফ হুইপ মসিউর রহমান রাঙ্গা, জাতীয় পার্টির পীর ফজলুর রহমান, কাজী ফিরোজ রশীদ ও মুজিবুল হক চুন্নু এবং আওয়ামী লীগের আবুল হাসান মাহমুদ আলী ও আলী আশরাফের কয়েকটি প্রস্তাব অর্থমন্ত্রী গ্রহণ করেন। পরে সেগুলো কণ্ঠভোটেও পাস হয়। তবে ওই সকল সংশোধনী প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে সংসদে যে অর্থবিল পাস হয়েছে, তাতে বড় ধরনের কোনো পরিবর্তনের প্রস্তাব ছিল না। মোবাইল সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক ১০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ১৫ শতাংশ করার প্রস্তাব প্রত্যাহারের যে দাবি ছিল, তাতেও কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি। তবে অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা পুঁজিবাজারে বিনিয়োগের ক্ষেত্রে শর্ত কিছুটা শিথিল করা হয়েছে।

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল জাতীয় সংসদে তার বাজেট প্রস্তাবে ১০ শতাংশ কর দিয়ে অপ্রদর্শিত আয় বৈধ করার সুযোগ আরও বিস্তৃত করেন। কোনো প্রশ্ন ছাড়াই ফ্ল্যাট ও অ্যাপার্টমেন্ট কেনা, দালান নির্মাণ এবং অর্থনৈতিক অঞ্চল ও হাইটেক পার্কে অপ্রদর্শিত আয়ের অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ গত অর্থবছরেই ছিল। ২০২০-২১ সালের বাজেটে গচ্ছিত অর্থ, সঞ্চয়পত্র, শেয়ার, বন্ড বা অন্য কোনো সিকিউরিটিজের ক্ষেত্রেও একই সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

কোনো জরিমানা ছাড়া কেবল ১০ শতাংশ কর দিয়ে যে কেউ তার অবৈধভাবে অর্জিত অথবা কর ফাঁকি দিয়ে গোপনে সঞ্চিত অর্থ এসব খাতে বিনিয়োগ করতে পারবেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বা সরকারের অন্য কোনো কর্তৃপক্ষ ওই টাকার উৎস জানতে চাইবে না। তবে কেউ পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত কোনো শেয়ারে অপ্রদর্শিত আয়ের টাকা বিনিয়োগ করতে চাইলে তিন বছরের ‘লক ইন’ বা বিক্রয় নিষেধাজ্ঞার শর্ত দেওয়া হয়, যা পরিবর্তনের দাবি জানিয়ে আসছিলেন শেয়ারবাজার সংশ্লিষ্টরা।

ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই) ও চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) পাশাপাশি বালাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনও ‘লক ইনের’ ওই শর্ত তুলে দেওয়ার সুপারিশ করেছিল। তবে এভাবে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হলে সৎ করদাতাদের প্রতি ‘অবিচার’ করা হয় বলে অনেকেই এর বিরোধিতা করেন। এ অবস্থায় অর্থমন্ত্রী পুঁজিবাজারে কালো টাকার ‘লক ইন’ ৩ বছরের পরিবর্তে একবছর করে তার সঙ্গে অন্য কিছু সংশোধনী এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে পাস হয়।

‘মানুষকে রক্ষা ও ক্ষতিগ্রস্থ অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এবারের বাজেট’

 

অর্থবিল পাসের আগে বাজেটের ওপর নিজের সমাপণী বক্তব্য দেন অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল। তার আগে বাজেট আলোচনায় অংশ নেন সংসদ নেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথা অনুযায়ী, অর্থবিলে কোনো পরিবর্তন আনতে হলে অর্থমন্ত্রীর সমাপনী বক্তব্য এবং অর্থবিল পাসের আগে প্রধানমন্ত্রী তার বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রীকে সে বিষয়ে অনুরোধ করেন। এরপর প্রধানমন্ত্রীর অনুরোধ আমলে নিয়ে অর্থমন্ত্রী সেসব বিষয়ে পরিবর্তন এনে অর্থবিল পাসের প্রস্তাব করেন। কিন্তু এবার প্রধানমন্ত্রী কোনো পরিবর্তন আনতে অর্থমন্ত্রীকে অনুরোধ করেননি।

বাজেটের উপর বক্তৃতায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাজেট বাস্তবায়ন কঠিন কিছু নয়। অতীতের সব বাজেটই বাস্তবায়ন করেছে আওয়ামী লীগ সরকার। এবারের বাজেটও সরকার বাস্তবায়নে সক্ষম হবে।’

পরে সমাপণী বক্তব্যে অর্থমন্ত্রী মুস্তফা কামাল বলেন, ‘করোনাভাইরাস মহামারিকালে অভূতপূর্ব অর্থনৈতিক সংকটের মধ্যে বিশাল রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্য ধরে আগামী অর্থবছরের যে বাজেট প্রস্তাব করা হয়েছে তা বাস্তবায়নে দেশের সব মানুষ এগিয়ে আসবে বলে আমি আশাবাদি। দ্য ইকোনমিস্ট ২ মে ২০২০ তারিখে গবেষণামূলক একটি প্রতিবেদনে ৬৬টি উদীয়মান সবল অর্থনীতির দেশের তালিকা প্রকাশ করেছে তাতে বাংলাদেশ রয়েছে নবম শক্তিশালী অবস্থানে।’

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন