বিজ্ঞাপন

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার!

June 29, 2020 | 11:17 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অলৌকিকতা হয়তো একেই বলে। পানিতে ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে একের পর এক উদ্ধার হচ্ছে লাশ। সকালে লঞ্চডুবি, দুপুরের পর থেকেই তো সেখান থেকে কাউকে জীবিত উদ্ধারের সব আশা শেষ। এরপর ‍দুপুর গড়িয়ে বিকেল, বিকেল গড়িয়ে সন্ধ্যার পর রাত। উদ্ধারকারী জাহাজ আসতে না পারায় ম্যানুয়ালি চলছে লঞ্চ উদ্ধারের চেষ্টা। ঠিক এমন সময় লঞ্চডুবির প্রায় ১৩ ঘণ্টা পর কি না সেই লঞ্চ থেকেই উদ্ধার হলেন জীবিত একজন!

বিজ্ঞাপন

ঠিক এমনটিই ঘটেছে সদরঘাটের শ্যামবাজারে। ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চ থেকে রাতে জীবিত উদ্ধার হয়েছেন সুমন ব্যাপারী (৩২)। ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, উদ্ধারের পর তাকে তাৎক্ষণিকভাবে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ক্যাজুয়ালটি ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন- লঞ্চডুবিতে মৃতদের অধিকাংশ মুন্সিগঞ্জের, ১৬ পরিবারকে ক্ষতিপূরণ

বিজ্ঞাপন

জানা গেছে, সুমন ব্যাপারীর বাড়ি মুন্সিগঞ্জ জেলার টঙ্গীবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুরে। বাবা সজল ব্যাপারী। সুমন পেশায় ফল ব্যবসায়ী। বাদামতলিতে ফলের দোকান আছে তার।

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার!

এর আগে, সকাল ৯টার দিকে ময়ূর-২ লঞ্চের ধাক্কায় অর্ধশতাধিক যাত্রী নিয়ে বুড়িগঙ্গায় ডুবে যায় মর্নিং বার্ড। এরপর দিনভর ফায়ার সার্ভিস, কোস্ট গার্ড আর নৌপুলিশের উদ্যোগে চলে উদ্ধার অভিযান। সকালের দিকেই উদ্ধারকারী জাহাজ প্রত্যয়কেও নিয়ে আসার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে নদীর পানি বেশি থাকায় এবং বুড়িগঙ্গা প্রথম সেতুর উচ্চতা কম থাকায় সে জাহাজ পৌঁছাতে পারেনি ঘটনাস্থলে। ম্যানুয়ালি চলতে থাকে মর্নিং বার্ডকে টেনে তোলার কাজ।

আরও পড়ুন- হৃদি ভেসে যায় বুড়িগঙ্গার জলে [ফটো]

এর মধ্যে বিকেল পর্যন্ত ৩২ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় মর্নিং বার্ড থেকে। এর মধ্যে ৩০টি মরদেহ হস্তান্তরও করা হয় পবিারের কাছে। বিআইডাব্লিউটিএসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষগুলো জানায়, মর্নিং বার্ড টেনে তোলার আগ পর্যন্ত তারা তৎপর থাকবেন। রাতেও চলবে এই তৎপরতা।

ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক সালেহ উদ্দিন বলেন, স্বাভাবিক গতিতেই উদ্ধার তৎপরতা চলছিল। সত্যি বলতে, ওই জাহাজ থেকে জীবিত কাউকে উদ্ধার করা যাবে, এমনটি কেউ ভাবেননি। তবে আরও মরদেহ থাকতে পারে, এমন আশঙ্কা নিয়েই কাজ চলছিল। এর মধ্যেই রাত ১০টার দিকে সুমন ব্যাপারীকে উদ্ধার করা হয়। তাকে ওপরে তোলার পরই চোখ মেলে তাকান তিনি। সঙ্গে সঙ্গে তাকে মিটফোর্ড হাসপাতালে (স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল) পাঠানো হয়েছে। আমরা সবাই বিস্মিত এ ঘটনায়।

আরও পড়ুন-

‘বোন লাফ দিলেও মা পারেনি’

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি, মরদেহ বেড়ে ৩২

লঞ্চডুবির ঘটনা পরিকল্পিত হতে পারে: প্রতিমন্ত্রী

বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবি: নৌপরিবহনের তদন্ত কমিটি

‘আল্লাহ বাঁচিয়েছে, ১ মিনিটের জন্য লঞ্চটি ধরতে পারিনি’

ফিরে গেছে প্রত্যয়, ম্যানুয়ালি টেনে তোলা হবে মর্নিং বার্ডকে

পোস্তগোলা ব্রিজে আটকা পড়েছে বিআইডব্লিউটিএ’র উদ্ধারকারী জাহাজ

সারাবাংলা/ইউজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন