বিজ্ঞাপন

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, নেই কোনো সরকারি সহায়তা

June 30, 2020 | 9:02 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

কুড়িগ্রাম: ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, তিস্তা, দুধকুমারসহ ১৬টি নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় জেলার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। তলিয়ে গেছে ফসলি জমি, ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট। ফলে জেলার চিলমারী, উলিপুর, রৌমারী, রাজিবপুর, সদর, নাগেশ্বরী উপজেলাসহ ৯ উপজেলার ৩৫ ইউনিয়নের প্রায় দেড় লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি জীবন যাপন করছে।

বিজ্ঞাপন

গত ৫ দিন ধরে পানিবন্দি এসব মানুষের শুকনো খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকট তীব্র আকার ধারণ করছে। গ্রামীণ রাস্তা-ঘাট তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। চারণভূমি তলিয়ে যাওয়া গবাদি পশু নিয়ে বিপাকে পড়েছেন বন্যাকবলিত মানুষজন। তবে বন্যাকবলিত এসব মানুষ এখনও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি বলে অভিযোগ করেছেন।

কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আরিফুল ইসলাম জানান, ব্রহ্মপুত্রের পানি চিলমারী পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৬ সেন্টিমিটার, নুনখাওয়া পয়েন্টে বিপদসীমার ৬৩ সেন্টিমিটার ও ধরলার পানি সেতু পয়েন্টে বিপদসীমার ৭৩ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সদর উপজেলার যাত্রাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আইয়ুব আলী সরকার জানান, যাত্রাপুর ইউনিয়নে ১৫ হাজার মানুষ গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি জীবন যাপন করছে। এসব মানুষের হাতে কোন কাজ না থাকায় জরুরিভাবে খাদ্য সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তবে এখন পর্যন্ত সরকারিভাবে কোন চাল বা শুকনো খাবার বরাদ্দ পাননি বলেও জানান তিনি।

যাত্রাপুর ইউনিয়নের বদলীপাড়া এলাকার ছকিনা বেওয়া, সুরুজ্জামান, শাহাজাহান জানান, গত ৪ দিন ধরে পানিবন্দি হয়ে আছি। হাতে কাজ নাই, ঘরে খাবারও নাই। এ অবস্থা পরিবার-পরিজন নিয়ে খুব কষ্টে দিন পার করছি।

কুড়িগ্রামে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি, নেই কোনো সরকারি সহায়তা

যাত্রাপুর ইউনিয়নের ১নং ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য ময়নুদ্দিন ভোলা জানান, তার ওয়ার্ডের পানিবন্দি মানুষেরা কষ্টে থাকলেও এখন পর্যন্ত বরাদ্দ না পাওয়ায় তাদের কোন খাদ্য সহায়তা দেওয়া সম্ভব হয়নি।

কুড়িগ্রামের জেলা প্রশাসক মো. রেজাউল করিম জানান, বন্যা কবলিত এসব মানুষের জন্য সরকারিভাবে ৩০২ মেট্রিক টন চাল ও শুকনো খাবারের জন্য ৩৬ লাখ ৬৮ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যা উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে চেয়ারম্যানদের মাঝে বিতরণ শুরু হয়েছে।

কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজার রহমান প্রধান জানান, জেলায় ৫ হাজার ৬৫৮ হেক্টর জমির আমন বীজতলা, আউশ, শাক সবজি, পাটসহ অন্যান্য ফসল পানিতে তলিয়ে গেছে। পানি নেমে যাওয়ার পর ক্ষয়ক্ষতি নিরুপণ করা হবে।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন