বিজ্ঞাপন

দেশে এক লাখ নমুনা পরীক্ষা করার রেকর্ড ল্যাবরেটরি মেডিসিনে

June 30, 2020 | 2:20 pm

সৈকত ভৌমিক, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: দেশে নভেল করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) শনাক্ত করতে দেশের প্রথম প্রতিষ্ঠান হিসেবে এক লাখ নমুনা পরীক্ষা করার কৃতিত্ব দেখালো ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারেল মেডিসিন (এনআইএলএমআরসি)। অর্থাৎ দেশে এ পর্যন্ত পরীক্ষা হওয়ার করোনার মোট নমুনার ১৩ শতাংশেরও বেশি পরীক্ষা হয়েছে এই একটি ল্যাবরেটরিতে। এছাড়াও এক দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক নমুনা পরীক্ষাও করা হয়েছে ল্যাবরেটরি মেডিসিন নামে পরিচিত এই প্রতিষ্ঠানটিতে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (২৯ জুন) স্বাস্থ্য অধিদফতরের কন্ট্রোল রুম থেকে পাওয়া তথ্যে জানা যায়, ল্যাবরেটরি মেডিসিনে তিন হাজার ২০২টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এটি বাংলাদেশের কোনো আরটি পিসিআর ল্যাবে একদিনে সর্বোচ্চসংখ্যক নমুনা পরীক্ষা করার রেকর্ড।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত মোট ৯৮ হাজার ৮৮১টি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ল্যাবরেটরি মেডিসিনে।

বিজ্ঞাপন

পরে সোমবার বিকেলে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামসুজ্জামান তুষার জানান, নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে। মঙ্গলবারের (৩০ জুন) নিয়মিত বুলেটিনে স্বাস্থ্য অধিদফতর এ তথ্য জানাবে।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের সোমবারের তথ্য অনুযায়ী, করোনাভাইরাস শনাক্তে এ পর্যন্ত দেশে ৭ লাখ ৪৮ হাজার ৩৪টি নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাবরেটরি মেডিসিনেই এক লাখ নমুনা পরীক্ষা হলো। অর্থাৎ দেশের মোট পরীক্ষা হওয়া নমুনার ১৩ দশমিক ৩০ ভাগ পরীক্ষা হয়েছে এই প্রতিষ্ঠানটিতে। দেশের অন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে জনস্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটে ২৯ জুন পর্যন্ত নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৪৪ হাজার ৭৩২টি। আর আইইডিসিআরে নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৩৯ হাজার ৭২৯টি।

মেডিসিন ও রেফারেল মেডিসিন বিষয়ক জাতীয় এই প্রতিষ্ঠানে করোনাভাইরাসের নমুনা পরীক্ষা শুরু হয় সহকারী অধ্যাপক ডা. আরিফা আকরাম বর্ণার হাত ধরে। তিনি সারাবাংলাকে বলেন, প্রথম দিকে প্রতিষ্ঠানটিতে আমিই একমাত্র ভাইরোলজিস্ট ছিলাম। আমার সঙ্গে আরেকজনকে নিয়ে শুরু আমাদের পথচলা। পথচলা শব্দটা আসলে বললাম এ কারণে যে আমরা কেউ জানি না, এই পরিস্থিতি আমাদের কতদিন কাজ করে যেতে হবে। দেশের জন্য কিছু করতে হবে— এই তাগিদেই আমাদের প্রতিষ্ঠানে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।

বর্ণা বলেন, শুরুতে যখন আমরা দু’জন ছিলাম, তখন আমাদের কোনো শিফটিং ছিল না। পরে নমুনার সংখ্যা বাড়তে থাকে। স্বাস্থ্য অধিদফতরে যোগাযোগের পর এখানে তিন জন ভাইরোলজিস্ট নিয়োগ দেওয়া হয়। পরিচালক স্যার তখন এই প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরি মেডিসিন, মাইক্রোবায়োলজি, ক্লিনিকাল প্যাথলজিসহ বিভিন্ন বিভাগের চিকিৎসকদেরও আমাদের সঙ্গে যুক্ত করতে বললেন। বর্তমানে আমরা টিমওয়ার্কের মাধ্যমে শিফটিং করে কাজ করে যাচ্ছি।

সংশ্লিষ্টরা জানান, এখানে আসা নমুনাগুলো দিনে দিনেই পরীক্ষা করার চেষ্টা করেন তারা। প্রতিষ্ঠানের প্রত্যেকেই এ বিষয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করে চলেছেন। যে কারণে চারটি পিসিআর মেশিনে একযোগে কাজ চলে। নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজনে ভাইরোলজিস্ট ও সংশ্লিষ্টরা রাতের শিফটেও কাজ করে থাকেন।

একদিনে তো বটেই, দেশের সব প্রতিষ্ঠানের আগে লাখ নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে সোমবার রাতে ল্যাবরেটরি মেডিসিনের পরিচালক অধ্যাপক ডা. একেএম শামসুজ্জামান তুষার সারাবাংলাকে বলেন, এসব ল্যান্ডমার্ক অর্জন সম্ভব হয়েছে আমাদের প্রতিষ্ঠানের সবার আন্তরিকতার কারণে। সুশৃঙ্খলভাবে দলগত প্রচেষ্টা, সরকারের সহযোগিতায় ধারাবাহিকভাবে কিট সরবরাহ রাখা, বিভিন্ন জায়গা থেকে সময়মতো আমাদের কাছে নমুনা পাঠানো— সবগুলো নিয়ামকের সঠিক প্রয়োগের মাধ্যমেই লাখ নমুনা পরীক্ষার মাইলফলক অতিক্রম করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, আজ (সোমবার) আমরা সর্বোচ্চ তিন হাজার ২০২টি নমুনা পরীক্ষা করেছি। এগুলোর রিপোর্টও দেওয়া হয়েছে। এরপর ল্যাবে কাজ করা হয়। বর্তমানে নমুনা পরীক্ষার সংখ্যা এক লাখ ছাড়িয়ে গেছে, যা আগামীকালের (৩০ জুন) রিপোর্টে যুক্ত হবে। আমাদের এখন টার্গেট প্রতিদিন আড়াই হাজারের বেশি নমুনা পরীক্ষা করা।

দেশে করোনাভাইরাসের পরীক্ষা শুরু হয় জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) হাত ধরে। ল্যাবরেটরি মেডিসিন নমুনা পরীক্ষার অনুমতি পায় ৩১ মার্চ। প্রতিষ্ঠানের বাজেট থেকেই নমুনা পরীক্ষার প্রয়োজনীয় কিট কেনা হয়। সরকারের পক্ষ থেকেও সহায়তা করা হয়েছে। বর্তমানের ধারাবাহিকতা ধরে রেখে আগামী দিনে আরও বেশি নমুনা পরীক্ষার প্রত্যয় প্রতিষ্ঠানটির পরিচালকসহ সবার।

ল্যাবরেটরি মেডিসিনে লাখ নমুনা পরীক্ষার বিষয়ে আইইডিসিআরের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক ডা. এ এস এম আলমগীর সারাবাংলাকে বলেন, এটি অবশ্যই একটি ভালো সংবাদ যে একটি প্রতিষ্ঠানেই লাখের বেশি নমুনা পরীক্ষা হয়েছে। এটি সবাইকে অনুপ্রাণিত করবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের কোভিড-১৯ কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে গঠিত তথ্য ব্যবস্থাপনা, গণসংযোগ ও কমিউনিটি মবিলাইজেশন কমিটির সদস্য সচিব ডা. আয়েশা আকতার সারাবাংলাকে বলেন, সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করে যাচ্ছে নমুনা পরীক্ষা বাড়ানোর জন্য। এই লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে ল্যাবের সংখ্যাও বাড়ানো হচ্ছে। ল্যাবরেটরি মেডিসিনে এক লাখ নমুনা পরীক্ষা নিশ্চয় অন্যান্য ল্যাবগুলোকেও অনুপ্রেরণা জোগাবে। আশা করছি এভাবেই সবাই মিলে কোভিড-১৯ পরিস্থিতির মোকাবিলা অব্যাহত থাকবে।

সারাবাংলা/এসবি/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন