বিজ্ঞাপন

শেখ হাসিনা সরকারই দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে: আইনমন্ত্রী

June 30, 2020 | 4:00 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বিএনপির সংসদ সদস্যকে উদ্দেশ্য করে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা সরকারই দেশে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করেছে। আজ দেশে ন্যায় বিচার চলছে। বরং '৭৫ সালে সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশে ন্যায়বিচার বন্ধ করা হয়। ইনডেমনিটি বিলের মাধ্যমে ২১ বছর বিচার বন্ধ রাখা হয়। যাতে বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের বিচার না হয়।’ তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনার সরকারই বঙ্গবন্ধুর হত্যা, যুদ্ধাপরাধী বিচার করে দেশে ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠা করছে।’

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৩০ জুন) জাতীয় সংসদে ছাটাই প্রস্তাবের ওপর বিএনপির সংসদ সদস্য মো হারুনুর রশীদের বক্তব্যে জবাবে আইনমন্ত্রী এসব কথা বলেন।

স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদের বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা শেখ হাসিনা উপস্থিত ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

ছাটাই প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে দেশের বিচারব্যবস্থা স্বাধীন নয় জানিয়ে স্বাধীনতার পূর্বে পাকিস্তান আমলে যে লক্ষ্য নিয়ে আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল সেটা পূরণ করার দাবি জানিয়েছেন বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ।

বিএনপির সংসদ সদস্য হারুনুর রশিদ বলেন, ‘সরকারের সদিচ্ছা থাকতে হবে- আমি বিচার বিভাগকে স্বাধীন করব কি না। বিচার বিভাগ স্বাধীন নয়। বিচার বিভাগ এখনো নির্বাহী বিভাগের অধীন। বিচার বিভাগ, উচ্চ আদালতে বিভিন্ন নির্দেশে বিচারকাজ পরিচালিত হচ্ছে। এটি আমাদের সত্যিকার অর্থে ন্যায় ও সঠিক বিচারের অন্তরায়। দেশের প্রায় ৫০ বছর স্বাধীনতার পার হয়েছে কিন্তু এখনো আমাদের দেশে বিচারকে স্বাধীন করতে পারেনি। আজ বলতে দ্বিধা নেই- সারাদেশে চিহ্নিত মাদকসম্রাট, চিহ্নিত মাদক পাচারকারী, সরকারি সম্পদ আত্মসাৎকারীরা বিচারের আওতার বাইরে। যদি তারা সরকারি দল সমর্থিত হয় তাহলে তো কোনো কথাই নাই।’

তিনি বলেন, ‘আজ বিচারব্যবস্থাকে ঢেলে সাজানোর জন্য যে অর্থ দাবি করেছেন, ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার জন্য যদি আরও অর্থের প্রয়োজন হয় সেই অর্থ দাবি করলে আমরা অবশ্যই দেব। কিন্তু আজ বিচারব্যবস্থার যে দুরবস্থা, এই দুরবস্থা থেকে কেউ রেহাই পাচ্ছেন না। আজ মিথ্যা মামলায় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় ঘুরছে। পুলিশ বাদী ও সাক্ষী হয়ে যে সমস্থ মামলা দেওয়া হচ্ছে সেই মামলায় বিরোধীদলীয় হাজার হাজার নেতাকর্মী রাস্তায় রাস্তায় ঘুরছে, আদালতে ঘুরছে সুপ্রিম কোর্টে ঘুরছে। এই অবস্থা থেকে আমাদের মুক্তির একমাত্র উপায় বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে হবে।’

আইনমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, ‘সরকারি দলের বিপক্ষে যখন রায় দেওয়া হচ্ছিল এই সময়ে অনেক অধস্থন বিচারককে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে তিন ঘণ্টার মধ্যে ছয় ঘণ্টার মধ্যে। সেই নজিরবিহীন ঘটনা ঘটেছে। সেটা পত্র-পত্রিকায় ঢালাওভাবে এসেছে। আমি মনে করি বিচারব্যবস্থাকে স্বাধীন করতে আমাদের স্বাধীনতার পূর্বে যে লক্ষ্য-উদ্দেশ্য ছিল, সেই লক্ষ্য-উদ্দেশ্যকে আমরা পূরণ করার জন্য আইন প্রণয়ন করব। সেই হিসেবে আমরা ব্যবস্থা গ্রহণ করব।’

এই সময় সরকারি দলের এমপিরা প্রতিবাদ করলে হারুন আরও জোর দিয়ে বলেন, হ্যাঁ, পাকিস্তান আমলে। স্বাধীনতা-উত্তর পাকিস্তান আমলের কথা বলেছি। স্বাধীনতার পূর্বের কথা বলছি।

এর জবাবে আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আজ তার (হারুনুর রশিদ) আসল চেহারা বেরিয়ে গেছে। তিনি শুধু পাকিস্তান যেতে চান না। সবকিছু নিয়ে পাকিস্তান যেতে চান। আমরা সেখানে যাব না। সেখানে ন্যায়বিচার ছিল না। আমরা ন্যায়বিচার দিয়েছি।

আইনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা কী দেখেছি সেটা তাকে জবাব দেওয়া দরকার। ১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হত্যা করার পর ইনডেমনিটি অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল। আজ উনি সংসদে বলছেন ন্যায়বিচারের কথা! শেখ হাসিনার সরকার বঙ্গবন্ধু হত্যার মামলা শেষ করেছে। এর মাধ্যমে ন্যায়বিচার হয়েছে। যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের মাধ্যমে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা হয়েছে।’

ছাটাই প্রস্তাবে আলোচনায় অংশ নিয়ে পীর ফজলুর রহমানও বিএনপির সদস্যের বক্তব্যের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা স্বাধীন দেশের মানুষ আমাদের আইনের পরিচালিত হতে চাই। পাকিস্তানি আইনে নয়। আজ ন্যায়বিচারের কথা বলা হচ্ছে অথচ বিএনপির আমলেই দেশে ন্যায় বিচার ছিল না। ন্যায় বিচার জিয়াউর রহমানই হরণ করেছিল।’

এছাড়া সংসদে আইন মন্ত্রী জানান, করোনাভাইরাস জনিত সংকট কেটে গেলে সংবিধানের ষোড়শ সংশোধনীর রিভিউ পিটিশনের শুনানি শুরু হবে। আইনমন্ত্রীর এই বক্তব্যের আগে পার্টির মুজিবুল হক (চুন্নু) ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বক্তব্য দেওয়ার সময় ষোড়শ সংশোধনীর সবশেষ অবস্থা জানতে চান। আইনমন্ত্রীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘এই সংসদে আমরা সংবিধান সংশোধনী করেছিলাম। ষোড়শ সংশোধনী। সেই সংশোধনীটা বাতিল করা হয়েছিল। তারপর আমরা তা আপিল করেছিলাম কি না? আপিল করলে তার কী অবস্থা? আমরা জানি না। আইনমন্ত্রীকে বলবো, এই বিষয়ে ব্যবস্থা নিন। আপনার প্রতি আমাদের বিশ্বাস আছে। আপনার যোগ্যতার প্রতি আমাদের আস্থা আছে।’

জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে একজন সংসদ সদস্য কথা বলেছেন। ষোড়শ সংশোধনীর বিষয়ে রিভিউ পিটিশন হিসেবে আপিল বিভাগে আছে। যখনই করোনাভাইরাস আমাদের ছেড়ে যাবে তখনই শুনানি শুরুকরবো।

সারাবাংলা/এএইচএইচ/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন