বিজ্ঞাপন

‘বুড়িগঙ্গায় সারাদিন খুঁজছি, রাতে টিভিতে দেখি চাচা জীবিত উদ্ধার’

June 30, 2020 | 4:07 pm

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

মুন্সীগঞ্জ: বাদামতলীর ফল ব্যবসায়ী মো. সুমন ব্যাপারী। বড় ভাইদের সাথে সাথেই ফল ব্যবসায় সম্পৃক্ততা শুরু তার। বাড়ি মুন্সীগঞ্জে, আবার ঢাকাতে থাকতে ভালো লাগে না। তাই ব্যবসার খাতিরে ঢাকায় সপ্তাহে তিন দিন থাকলে, মুন্সীগঞ্জ নিজ বাড়ি টঙ্গীবাড়ির আব্দুল্লাহপুরে থাকতেন ৪ দিন।

বিজ্ঞাপন

প্রতিদিনের মতোই সোমবার (৩০ জুন) সকালে ফজরের নামাজ শেষে মায়ের কাছ থেকে বিদায় নিয়ে মীরকাদিম লঞ্চঘাটের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন সুমন ব্যাপারী (৩২)। ঘাটে এসে মর্নিং বার্ড লঞ্চে উঠে যাত্রা করেন সদরঘাটের উদ্দেশে। কিন্তু ঘাটের কাছাকাছি ময়ূরী-২ নামের তিন তলা একটি লঞ্চ মর্নিং বার্ডকে ধাক্কা দেয়। এসময় লঞ্চটি উল্টে গেলে লঞ্চের সাথে সাথে তলিয়ে যান তিনিও।

দুর্ঘটনার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে সারাদিন খোঁজাখুঁজি করেন সুমনের ভাতিজা সাকিব বেপারী। শেষে চাচাকে না পেয়ে ক্লান্ত শরীরে হতাশা নিয়ে বাড়ি ফেরেন বাড়ি। তিনি বলেন, ‘সকালে লঞ্চডুবির সংবাদ পেয়ে চাচার মোবাইলে ফোন দেই। কারণ ওই লঞ্চে চাচার ঢাকা যাওয়ার কথা। তার ফোন বন্ধ পেয়ে ছুটে যাই শ্যামবাজারের বুড়িগঙ্গার তীরে। সারাদিন খোঁজ করে কোন হদিস না পেয়ে রাত সাড়ে ৯টার দিকে বাড়ি ফিরে আসি। পরে রাত ১০টায় একটি টিভি চ্যানেলে ১২ ঘণ্টা পর জীবিত একজনের সংবাদ দেখতে পাই। নিউজটি দেখে নিশ্চিত হই ওই জীবিত ব্যক্তি আমার ছোট চাচা। আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি বেঁচে গেছেন। এখন মিডফোর্ড হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন তিনি, আমি সেখানেই যাচ্ছি।’

বিজ্ঞাপন

ডুবে যাওয়া লঞ্চ থেকে ১৩ ঘণ্টা পর জীবিত উদ্ধার!

 

সুমন বেপারী মা আমেনা খাতুন ছেলের জীবিত উদ্ধার হওয়ার সংবাদ পেয়ে নামাজ পরে আল্লাহর দরবারে শুকরিয়া আদায় করেছেন।

দীর্ঘ ১২ ঘণ্টা পর ডুবে যাওয়া মর্নিং বার্ড লঞ্চের ভেতর থেকে সোমবার রাত ১০টার দিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করা হয় সুমনকে। ডুবুরিরা যখন টিউবের মাধ্যমে লঞ্চটি ওপরে তোলার চেষ্টা করছিলেন তখন লঞ্চটির একাংশ ওপরে উঠে এলেই সুমন বেপারী লঞ্চ থেকে বের হয়ে আসেন। তাৎক্ষণিকভাবে তাকে লাইফ জ্যাকেটে ঢেকে এবং শরীর মেসেজ করে তার শরীর গরম করার চেষ্টা করেন ডুবুরিরা। এরপর সুমন বেপারী চোখ মেলে তাকান।

‘বুড়িগঙ্গায় সারাদিন খুঁজছি, রাতে টিভিতে দেখি চাচা জীবিত উদ্ধার’

কোস্টগার্ড ও নেভির কর্মকর্তারা জানান, তারা যখন উদ্ধার হওয়া ব্যক্তিটিকে বিভিন্ন প্রশ্ন জিজ্ঞেস করছিলেন তিনি চোখের ইশারায় কথার জবাব দেয়ার চেষ্টা করছিলেন। দীর্ঘ সময় পানির নিচে আটকে থাকায় তার শরীরের তাপমাত্রা নেমে গিয়েছিল। পানির নিচে তলিয়ে গেলেও এ ব্যক্তি কীভাবে বেঁচে গেলেন তা নিয়ে জল্পনা-কল্পনা চলছে।

ধারণা করা হচ্ছে, তিনি যেখানে আটকা পড়েছিলেন সেখানে হয়তো সেভাবে পানি প্রবেশ করেনি। আর যখন টিউবের মাধ্যমে বিশেষ প্রক্রিয়ায় লঞ্চটি তোলার চেষ্টা করা হচ্ছিল তখন লঞ্চটি সামান্য ভেসে ওঠার পর ওই ব্যক্তি নিজের প্রচেষ্টায় বেরিয়ে আসেন এবং উদ্ধার কর্মীরা তাকে দেখতে পেয়ে উদ্ধার করে নৌকায় তুলে নেন।

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন