বিজ্ঞাপন

জরাজীর্ণ বদলিয়ে সিলেটে এবার ভাঙাচোরা ট্রেন

July 1, 2020 | 11:09 pm

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশ রেলওয়ের সবচেয় জরাজীর্ণ ট্রেন কালনী এক্সপ্রেস। চালুর সময় যে জৌলুস ছিল কয়েক বছরের মধ্যে তা হারিয়ে যায়। একের পর এক কোচ কেটে নেওয়া হতে থাকে। আন্তঃনগর নামে ট্রেনটি চললেও সেবা ছিল মেইল ট্রেনের চেয়েও বাজে। গত ৫ বছর ধরে ট্রেনটিতে কোন এসি আসন ছিল না। সবশেষ খাবার গাড়ি ছাড়াই চলছিল ট্রেন। যা কোনো আন্তঃনগর ট্রেনের ক্ষেত্রে বিরল। সেই ট্রেন বদলে পুরাতন আরেকটি ট্রেন এই নামে ছাড়া হলো। রংপুর এক্সপ্রেস ট্রেনটির কোচ এই কালনীতে প্রতিস্থাপন করা হয় করোনার মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

এখন যাত্রীরা এই ট্রেনে উঠে দেখছেন সিট ভাঙা, দরজা খুলে পড়ছে এমন নানা সমস্যা। তারা বলছেন, রেলওয়েতে বরাবরের মতো সিলেট রুট উপেক্ষিত। এ রুটে ট্রেন না দিতে পরিবহন মালিকদের কাছ থেকে উৎকোচ নেয় রেল কর্মকর্তারা এমন সমালোচনাও ওঠে।

জরাজীর্ণ বদলিয়ে সিলেটে এবার ভাঙাচোরা ট্রেন

বিজ্ঞাপন

যুক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়, সড়কপথে সিলেট রুটে একের পর এসি বাস নামে অন্যদিকে রেলপথে কমিয়ে আনা হয় একের পর এক কোচ। ২০১৪ সালে ট্রেন থেকে এসি কোচ খুলে নেওয়া হয়। এরপর একই বছর ট্রেনে আগুন লাগার ঘটনা ঘটে। এরপর থেকে ট্রেনটি মাত্র আটটি কোচ নিয়ে চলত। রেলওয়ের এট একমাত্র আন্তঃনগর ছিল যে সবচেয়ে কম সংখ্যক কোচ নিয়ে চলত।

গত ২১ জুন ট্রেনটির ভাঙা দরজা জানালাসহ ভঙ্গুর দশার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। এরপর রেল মন্ত্রণালয়ের একটি ফেসবুক পেজে বিষয়টি তুলে ধরে ঢাকা বিভাগীয় রেলওয়ে ব্যবস্থাপক নজরে আনা হয়। কিন্তু তারপরও অবস্থার উন্নতি হয়নি বলে যাত্রীদের অভিযোগ।

জরাজীর্ণ বদলিয়ে সিলেটে এবার ভাঙাচোরা ট্রেন

দেখা গেছে, করোনার মধ্যে এই জরাজীর্ণ কোচগুলো বদলে রংপুর এক্সপ্রেসের পুরাতন কোচ বসিয়ে দেওয়া হয়। আর তখনই দেখা যায় চেয়ার ভাঙা, দরজা খুলে পড়া দশাসহ নানা সমস্যা।

সম্প্রতি কালনীতে ভ্রমণ করেছেন এমন যাত্রীরা জানান, এসি কোচে এয়ার ফ্লো ঠিক নেই। মাঝেমধ্যে এসি থেকে পানি পড়তে দেখা যাচ্ছে। রেলওয়ে ঢাকা বিভাগীয় ম্যানেজার এস এম সালাউদ্দিন সারাবাংলা কে জানান, বিষয়টি এখনো তার নজরে আসেনি।

জরাজীর্ণ বদলিয়ে সিলেটে এবার ভাঙাচোরা ট্রেন

কালনী এক্সপ্রেস-এ কেন নতুন কোচ না দিয়ে পুরনো কোচে চালানো হচ্ছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘জনপ্রতিনিধিদের দাবি অনুযায়ী রেলওয়ে কোচ প্রতিস্থাপন করা হয়েছে। সিলেট রুটে পারাবত পাহাড়িকা উদয়ন এবং উপবনে নতুন রেক দেওয়া হয়েছে।’

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির সূত্র জানায়, ঢাকা-সিলেট রুটে গত তিন বছরে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত বিলাসবহুল বাস সংখ্যা বেড়েছে। চালু হয়েছে এনা হুন্দাই বাস, গ্রীন লাইনের হাইডেক শীতাতপ বাস ও লন্ডন এক্সপ্রেসের হাইডেক এসি বাস।

সারাবাংলা/এসএ/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন