বিজ্ঞাপন

ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট বন্ধের হুমকি

July 4, 2020 | 5:36 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে দেশে কিছু সময়ের জন্য ইন্টারনেট বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন আইএসপিএবি। শনিবার (৪ জুলাই) এক ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনটি এই হুমকি দেয়।

বিজ্ঞাপন

আইএসপিএবি সভাপতি আমিনুল হাকিম বলেন, ‘ভ্যাট জটিলতার সমাধান না হলে সীমিত আকারে সারাদেশে ইন্টারনেট বন্ধ করার পরিকল্পনা নিয়েছি। সুবিধামতো সময়ে দুই থেকে এক ঘণ্টা ইন্টারনেট বন্ধ রাখব। কবে কখন এই কর্মসূচি নেওয়া হবে তা সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে দাবি না মানা হলে এ কর্মসূচিতে যাব আমরা।’ তিনি বলেন, ‘দাবি মানা না হলে ইন্টারনেট বন্ধের এ কর্মসূচি ধাপে ধাপে অর্থাৎ প্রতিমাসে বা সপ্তাহে সপ্তাহে চলমান থাকবে।’

ইন্টারনেট খাতে ভ্যাটের জটিলতা নিরসন চেয়ে আইএসপিএবি বলছে, ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ আরোপিত ভ্যাট নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে সৃষ্টি হওয়া জটিলতার কারণে চলমান ইন্টারনেট সেবা কার্যক্রম ব্যাহত হতে পারে বলে আইএসপিএবি মনে করছে। গত অর্থ বছরে ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট নির্ধারিত হওয়ায় ইন্টারনেট সেবা খাতে জটিলতা সৃষ্টি হয়। এই সৃষ্ট জটিলতা নিরসনে সাবেক অর্থমন্ত্রীর (আবুল মাল আব্দুল মুহিত) নেতৃত্বে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রী, এনবিআর চেয়ারম্যান এবং বিটিআরসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভার আলোচনায় ইন্টারনেটের প্রতিটি স্তরে (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপের সিদ্ধান্ত হয়। পরে সে অনুযায়ী ইন্টারনেটের প্রতিটি স্তরে (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) ৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করে প্রজ্ঞাপন জারি করে এনবিআর।

বিজ্ঞাপন

কিন্তু এর কয়েক মাসের ব্যবধানে চলতি অর্থবছরের বাজেটে (২০১৯-২০২০) পুনরায় ইন্টারনেট সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং অন্যান্য স্তরে (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপ করায় সাবেক অর্থমন্ত্রীর নের্তত্বে সমাধান করা বিষয়টিতে আবারও আগের জটিলতা সৃষ্টি হয়। এর ফলে প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টারনেটের মূল্য ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ বৃদ্ধি পাচ্ছে। ইন্টারনেটে ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন) খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট আরোপকে বৈষম্যমূলক এবং মূসক আইনের পরিপন্থী বলেও মনে করছে আইএসপিএবি। ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আইএসপিএবি- এর প্রস্তাবনা, ইন্টারনেটের সকল ক্ষেত্রে ৫ শতাংশ অথবা ০ শতাংশ হারে ভ্যাট আরোপে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করলে (ইন্টারনেট সেবায় ৫ শতাংশ ভ্যাট এবং ভ্যালু চেইনের অন্যান্য (আইটিসি, আইআইজি, এনটিটিএন খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট) সৃষ্ট সমস্যা নিরসন হবে। প্রান্তিক পর্যায়ে ইন্টরনেটের মূল্য ৩০ শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কাও দূর হবে। এর ফলে সর্বস্তরের ইন্টারনেট গ্রহীতা ও দেশের জনসাধারণ অপেক্ষাকৃত কম মূল্যে ইন্টারনেট সেবার আওতায় আসতে পারবেন।

সংগঠনটি বলছে, ডিজিটাল বাংলাদেশ বাস্তবায়ন ও দেশের সকল শ্রেণির জনগণের কথা বিবেচনা করে ইন্টারনেটে ভ্যাট জটিলতা নিরসন করে আগামী অর্থবছরের বাজেটে ইন্টারনেটে ভ্যাট আরোপের পরিবর্তিত কাঠামোটি অর্ন্তভুক্ত করার অনুরোধ জানাচ্ছি। অন্যথায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনা করে ইন্টারনেট সেবাকে একই গতিতে সচল রাখতে আমরা কঠোর পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হবো।

বিজ্ঞাপন

এছাড়া সংগঠনটির পক্ষ থেকে আইএলডিসি, আইআইজি (ইন্টারন্যাশনাল ইন্টারনেট গেটওয়ে) এবং আইএসপি (ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার) ইন্ড্রাস্ট্রিকে আইটি এনাবেলড সার্ভিসেস (আইটিইএস) ক্যাটাগরিতে অন্তভূর্ক্ত করার দাবি জানানো হয়েছে৷

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন