বিজ্ঞাপন

জলাবদ্ধতা এড়াতে খাল-নালার আবর্জনা অপসারণে সেনাবাহিনীর ৮ টিম

July 9, 2020 | 11:18 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: বর্ষাকে সামনে রেখে খাল-নালায় জমে থাকা আবর্জনা দ্রুত অপসারণ এবং আটকে থাকা পানি দ্রুত নিষ্কাশনের জন্য আটটি টিম গঠন করেছে সেনাবাহিনী। এর মধ্যে চারটি নিয়মিত টিম ও চারটি কুইক রেসপন্স টিম হিসেবে কাজ করবে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্প বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা সেনা কর্মকর্তারা।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৯ জুলাই) থেকে চট্টগ্রাম মহানগরীকে চারটি জোনে ভাগ করে এই কার্যক্রম শুরু করেছে সেনাবাহিনী। এর ফলে এবারের বর্ষায় আগের মতো জলাবদ্ধতা তৈরি হবে না বলে আশা করছে তারা।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনের জন্য ৫ হাজার ৬১৬ কোটি ৪৯ লাখ ৯০ হাজার টাকার একটি প্রকল্প ২০১৭ সালে একনেকে পাস হয়। চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (সিডিএ) তত্ত্বাবেধানে সেনাবাহিনী প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। ২০১৭ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২০ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত প্রকল্পের মেয়াদকাল ধরা হয়। তবে মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ হয়নি। ২০১৮ সালের ২৮ এপ্রিল থেকে খালের আবর্জনা অপসারণের মধ্য দিয়ে শুরু হয় প্রকল্পের কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

প্রকল্প পরিচালক সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ারিং কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের লে. কর্নেল শাহ আলী সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, এবার বর্ষা শুরুর আগেই তারা নগরীর ৪১ ওয়ার্ডের কাউন্সিলরদের সঙ্গে সমন্বয় করে ২৪০ কিলোমিটার ড্রেনের আবর্জনা পরিষ্কার করেছে। এর ফলে এসব ড্রেন দিয়ে দ্রুত পানি খালে চলে যাবে। এছাড়া প্রস্থ ও গভীরতা বাড়িয়ে নতুন ৫২ দশমিক ৮৮ কিলোমিটার নতুন ড্রেন তৈরির কাজ চলছে।

‘গতবারের বর্ষার অভিজ্ঞতায় আমরা দেখেছি, চট্টগ্রাম শহরে ২২টি স্পটে পানি জমে থাকে। সেই স্পটেই আমরা ৫২ কিলোমিটারের বেশি নতুন ড্রেন করছি, যেগুলো আগে ছিল না। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটারের বেশি এরই মধ্যে চালু হয়ে গেছে। পুরো কাজটা জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু করোনার কারণে আমরা পারিনি। আশা করছি, আগস্টের মধ্যে শেষ হবে,—’ বলেন সেনা কর্মকর্তা শাহ আলী।

এর বাইরে টানা বৃষ্টি হলে কোথাও যেন পানি আটকে না থাকে, সেজন্য আটটি টিম করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, চারটি নিয়মিত টিমের প্রতিটিতে ২৫ জন করে ১০০ সদস্য রাখা হয়েছে। আর চারটি কুইক রেসপন্স টিমের প্রতিটিতে ১০ জন করে সদস্য আছেন। মুরাদপুরে ফ্লাইওভারের প্রবেশপথ থেকে উত্তরের অংশ, একই জায়গা থেকে দক্ষিণে বাকলিয়া, পতেঙ্গা ও হালিশহর— এই চারটি জোনে নগরীকে ভাগ করা হয়েছে।

লে. কর্নেল শাহ আলী সারাবাংলাকে বলেন, ‘নিয়মিত টিমের সদস্যরা রাতদিন ২৪ ঘণ্টা কাজ করছে। যেখানেই আবর্জনা জমে পানিপ্রবাহে প্রতিবন্ধকতা তৈরির খবর কাউন্সিলর কিংবা জনসাধারণের কাছ থেকে পাচ্ছি, সেখানেই তারা যাচ্ছে এবং পরিষ্কার করছে। আর কুইক রেসপন্স টিম আপাতত তাদের কাজ মনিটরিং করছে। টানা বৃষ্টি ‍শুরু হলে কোথাও যদি জলাবদ্ধতা হয়, তারা জরুরি ভিত্তিতে সেখানে প্রতিবন্ধকতা অপসারণ করবে। আমরা আজ (বৃহস্পতিবার) থেকে কাজ শুরু করেছি। ১০ দিনের মধ্যে আশা করি খালের সঙ্গে সংযুক্ত ড্রেনগুলো পরিষ্কার করে ফেলতে পারব।’

প্রকল্পের আওতায় ৩৬টি খালের আবর্জনা অপসারণ, খনন, ব্রিজ-কালভার্ট নির্মাণের কাজও চলছে বলে জানিয়েছেন এই সেনা কর্মকর্তা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন