বিজ্ঞাপন

উত্তর প্রদেশের গ্যাংস্টার, মধ্য প্রদেশ থেকে গ্রেফতার

July 10, 2020 | 8:25 am

একেএম জাকারিয়া

ভারতের উত্তর প্রদেশের কুখ্যাত গ্যাংস্টার বিকাশ দুবে মধ্য প্রদেশের মহাকাল মন্দির থেকে রাজ্য পুলিশের হাতে গ্রেফতার হয়েছে। টানা পাঁচদিনের পুলিশি অভিযানের মুখে তিন রাজ্যজুড়ে (উত্তর প্রদেশ-রাজস্থান-মধ্য প্রদেশ) পালিয়ে বেড়ানোর পর বৃহস্পতিবার (১০ জুলাই) মন্দির থেকে বের হওয়ার সময় পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, এশিয়ান নিউজ ইন্টারন্যাশনাল (এএনআই) প্রকাশিত এক ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, উজাইনের মহাকাল মন্দির থেকে বের হওয়ার রাস্তায় কয়েকজন পুলিশ পরিবেষ্টিত অবস্থায় ওই গ্যাংস্টার চিৎকার করে বলছে - 'ম্যায় বিকাশ দুবে হু, কানপুরওয়ালা'। সঙ্গেসঙ্গেই একজন পুলিশ সদস্য বিকাশ দুবেকে থাপ্পড় কষাচ্ছেন সেই দৃশ্যও ক্যামেরাবন্দি করতে সক্ষম হয়েছে এএনআই।

এর আগে, শুক্রবার (৩ জুলাই) হত্যাসহ অন্তত ৬০ মামলার আসামি এই বিকাশ দুবেকে গ্রেফতারে পুলিশ তার উত্তর প্রদেশের বাড়িতে অভিযান চালালে, আট পুলিশ সদস্যকে পেতে রাখা অ্যাম্বুশের মাধ্যমে হত্যার পর পালিয়ে যায় বিকাশ। অবশেষে, ঘটনাস্থল থেকে ৬০০ কিলোমিটার দূরের অন্য এক রাজ্য (মধ্যপ্রদেশ) থেকে তাকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় পুলিশ।

বিজ্ঞাপন

বিকাশ দুবে'র বরাতে ভারতের এনডিটিভি জানিয়েছে, মহাকাল মন্দিরে ঢোকার মুখে প্রসাদ কেনার সময়ই সে পুলিশের কাছে ধরা পড়ে যায়। কয়েকজন কনস্টেবলকে ডিঙ্গিয়ে সে মন্দিরে প্রবেশ করে বটে, কিন্তু বের হওয়ার মুখে সে গ্রেফতার হয়।

বিজ্ঞাপন

পুলিশের সূত্রগুলোর তথ্য অনুসারে, গ্রেফতার হওয়ার আগে বিকাশ দুবেকে সর্বশেষ হরিয়ানা'র ফরিদাবাদে একটি আবাসিক হোটেলে দেখা গিয়েছিল। পরে সে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রায় ১৫০০ কিলোমিটার ঘুরে (রাজস্থান হয়ে) মধ্য প্রদেশে পুলিশের হাতে ধরা পড়ে।

গ্রেফতার হওয়ার একদিন আগে, তার ব্যাপারে মধ্যপ্রদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরোত্তম মিশ্র বলেছিলেন, বিকাশ দুবে দুই সহযোগীসহ রাজ্য ছেড়ে পালিয়ে গেছে। সে ভুয়া একটি পরিচয়পত্র ব্যবহার করছে।

বিজ্ঞাপন

বিকাশ দুবে'র এই ঘটনা গ্রেফতার না আত্মসমার্পন - এমন প্রশ্নের জবাবে উত্তর প্রদেশের সিনিয়র পুলিশ কর্মকর্তা মোহিত আগারওয়াল এনডিটিভিকে জানিয়েছেন, সে জানে বাঁচার অনেক চেষ্টাই করেছিল। কিন্তু পুলিশ তার অধিকাংশ সহযোগীকে ধরে ফেলায় (তাদের মধ্যে কয়েকজন পুলিশের সঙ্গে এনকাউন্টারে মৃত) তার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে গিয়েছিল।

অন্যদিকে, বিকাশ দুবেকে শুক্রবারের অভিযানের ব্যাপারে আগেভাগেই জানিয়ে দেওয়ায় স্থানীয় থানার ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তাসহ দুইজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়াও, স্থানীয় থানার ৬০ পুলিশ সদস্যকে অন্যত্র বদলি বা পুলিশ লাইন্সে 'ক্লোজড' করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

পাশাপাশি, টানা পাঁচদিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে তিন রাজ্যে ঘুরলো বিকাশ দুবে - এই বিষয়টিকে সামনে এনে, তাকে গ্রেফতারের ব্যাপারে ক্ষমতাসীনদের রাজনৈতিক সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধী রাজনৈতিক দলের সদস্যরা।

এ ব্যাপারে মধ্য প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান এক টুইটার বার্তায় জানিয়েছেন, উত্তর প্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী যোগী আদিত্যনাথের সঙ্গে তার সার্বক্ষণিক যোগাযোগ হচ্ছে। কেউ যদি মনে করে থাকে মহাকাল মন্দিরে গেলেই তার সব পাপমোচন হয়ে যাবে। তাহলে ভুল হবে। তার সরকার কোনো অপরাধীকে ছাড় দেবে না।

প্রসঙ্গত, বিকাশ দুবে উত্তর প্রদেশের কানপুর দেহাত জেলার অধিবাসী। ১৯৯০ সালে তার বিরুদ্ধে প্রথম হত্যা মামলার রেকর্ড পাওয়া যায়। তারপর ৩০ বছরে তার বিরুদ্ধে ৬০টি মামলা দায়ের হয়। তার নিজস্ব গ্যাং নিয়ে মূলতঃ সে জমি দখলের কাজ করতো। ১৯৯৫ সালে সে স্থানীয় বহুজন সমাজ পার্টি (বিএসপি) তে যোগ দেয়। সেখান থেকে হরিকৃষন শ্রীবাস্তব নামে স্থানীয় ভারতীয় জনতা পার্টির (বিজেপি) নেতার সঙ্গে তার সখ্যতা হয় এবং ওই নেতার ছত্রছায়ায় বিকাশ তার সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড পরিচালনা করতে থাকে। ২০০১ সালে সন্তোষ শুক্লা নামে বিজেপি নেতা ও রাজ্যের এক মন্ত্রীকে পুলিশ স্টেশনের মধ্যেই খুন করে আলোচনায় আসে বিকাশ দুবে। বিভিন্ন মামলায় সে কারাভোগ করলেও, রাজনৈতিক চাপের মুখে কয়েকদিন আগে সে মুক্ত হয়। সর্বশেষ আট পুলিশ হত্যার পর থেকে তার ব্যাপারে 'জিরো টলারেন্স' ঘোষণা করে রাজ্য কর্তৃপক্ষ এবং পুলিশ প্রশাসন।

(এএনআই, পিটিআই, এনডিটিভি, ইন্ডিয়া টুডে অবলম্বনে)

সারাবাংলা/একেএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন