বিজ্ঞাপন

করোনাকালেও বেতন নেই, রিকশা চালাচ্ছেন চিনিকল শ্রমিকরা

July 11, 2020 | 8:00 pm

ডিস্ট্রিক করেসপন্ডেন্ট

জয়পুরহাট: করোনাকালে তিন মাসের বেতন না পেয়ে জয়পুরহাট চিনিকলে শ্রমিকরা পড়েছেন বিপাকে। বেতন না পেয়ে জীবন চালাতে কেউ কেউ রিকশা নিয়ে নেমে পড়েছেন পথে। চিনিকল কর্তৃপক্ষ বলছে, চিনি বিক্রি হলে শ্রমিক-কর্মচারীদের পাওনা পরিশোধ করা হবে।

বিজ্ঞাপন

শনিবার (১১ জুলাই) চিনিকল সূত্রে জানা যায়, জয়পুরহাট চিনিকলে একহাজার শ্রমিক কর্মচারী কাজ করে। গেল মাড়াই মৌসুমে চিনিকলে আখের লক্ষ্যমাত্রা ৫৫ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হলেও কৃষকদের কাছ থেকে আখ ক্রয় করা হয়েছে প্রায় ৫৪ হাজার মেট্রিক টন। যা থেকে সাড়ে ৩ হাজার মেট্রিক টন চিনি ও ২ হাজার মেট্রিক টন চিটাগুড় উৎপাদন হয়। মৌসুম শেষে এখন পর্যন্ত ১১ কোটি টাকার চিনি ৫ কোটি টাকার চিটাগুড় মজুদ থাকলেও গত তিন মাস থেকে বেতন দেওয়া হয়নি শ্রমিক-কর্মচারীদের।

বেতনের দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করা শ্রমিকরা। বেতন না পাওয়া রমজান আলী বলেন, ‘সাত জনের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। তিন মাস থেকে বেতন না পেয়ে তরকারির অভাবে লবণ দিয়ে ভাত মেখে খেতে হচ্ছে পরিবারের সদস্যদের। তাই বাধ্য হয়ে রিকশা চালাতে নেমেছি।’

বিজ্ঞাপন

ফিরোজ হোসেন বলেন, ‘বয়স্করা পরিস্থিতি বুঝতে পারলেও শিশুদের কোনোভাবে সামলানো যাচ্ছে না। তারা ভাত ও মাছ খেতে চায়, কিন্তু না পেয়ে কান্নাকাটি করে। তাই পরিবারের কথা ভেবে রিকশা চালাচ্ছি।’

এদিকে গত তিন মাসের বকেয়া বেতনের দাবিতে গত এক সপ্তাহ থেকে আন্দোলন করছেন শ্রমিকরা। আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৮টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত চিনিকলের সামনে রাস্তায় অবরোধ-বিক্ষোভ মিছিল করেন প্রায় তিন শতাধিক শ্রমিক।

বিজ্ঞাপন

করোনাকালেও বেতন নেই, রিকশা চালাচ্ছেন চিনিকল শ্রমিকরা

বিক্ষোভ মিছিল শেষে চিনিকল চত্বরে সমাবেশে বক্তব্য দেন- জয়পুরহাট চিনিকলের শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি আলী আক্তার, সহ-সভাপতি সমলেম হোসেন বিশ্বাস, সহ-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক জুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক সাকিম মাহমুদ, ইলিয়াস বিশ্বাস রিপন প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

চিনিকল শ্রমিক কর্মচারী ইউনিয়নের সহ-সাধারণ সম্পাদক জহুরুল হক জুয়েল বলেন, ‘গেল তিন মাসের মূল বেতন, গ্রাচুইটি এরিয়া বিলসহ প্রায় ১৫ কোটি টাকা বকেয়া রেখেছে চিনিকল কর্তৃপক্ষ। বেতন না পাওয়ায় পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করতে হচ্ছে শ্রমিকদের।’

জয়পুরহাট চিনিকলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মোহাম্মদ আবু বকর বলেন, ‘রিফাইনার চিনি বাজারে কেজি প্রতি ২ থেকে ৩ টাকা কমে যাওয়ায় দেশি চিনির চাহিদা কম। সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক চিনি বিক্রি করে বকেয়া বেতন পরিশোধ করার জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। চিনি বিক্রি হলেই শ্রমিক-কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হবে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন