বিজ্ঞাপন

ভারতীয় দূতাবাসের আয়োজনে অনলাইনে সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা

July 11, 2020 | 8:21 pm

আশীষ সেনগুপ্ত

ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার (আইজিসিসি)- বাংলাদেশে ভারতীয় সংস্কৃতির প্রচার ও প্রসারে ভারতীয় দূতাবাসের অধীনে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র। দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময় করে আসছে এই প্রতিষ্ঠানটি। বাংলাদেশে ভারতীয় শিল্পকলার পরিচিতি ও শেখানোর পাশাপাশি ভারতেও বাংলাদেশের শিল্প ও সাহিত্যকে পরিচিত করাতে কাজ করছে তারা। বাংলাদেশে বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের পাশাপাশি ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার শিক্ষা দিচ্ছে সংস্কৃতির বিভিন্ন শাখায়- যা সমৃদ্ধ করছে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গনকে।

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় দূতাবাসের আয়োজনে অনলাইনে সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা

বৈশ্বিক মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে উৎকণ্ঠা এবং দুশ্চিন্তার মধ্যে সময় পার করছেন সবাই। কোভিড-১৯ ছড়িয়ে পড়েছে সারা বিশ্বে এবং মানুষ হয়ে পড়েছে গৃহবন্দী। চিরচেনা স্বাভাবিক জীবন ছেড়ে কঠিন এক জীবনের সাথে অভ্যস্থ হচ্ছি আমরা। নভেল করোনা ভাইরাস সংক্রমণের এই ঘরবন্দি সময়ে আমাদের সাংস্কৃতিক অঙ্গন ধীরে ধীরে শিফট করে উঠে আসছে অনলাইন বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে। তারই ধারাবাহিকতায় ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারও লকডাউনের এই সময়ে আয়োজন করে চলেছে বিভিন্ন অনলাইনে অনুষ্ঠানের। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে চলছে শিক্ষাদান। এবার তারা আয়োজন করলো অনলাইনে হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সংগীত ও শাস্ত্রীয় নৃত্য শিক্ষার।

বিজ্ঞাপন

ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার তথা আইজিসিসি’র পক্ষ থেকে আয়োজন করা হয়েছে ‘হিন্দুস্থানি শাস্ত্রীয় সংগীত’ শিক্ষার। ৯০ জন শিক্ষার্থী নিয়ে অনলাইনের মাধ্যমে এতে ক্লাস নেবেন ভারতের প্রথিতযশা সংগীত গুরু স্বাগতা মুখার্জি। এরপরই তারা শুরু করছে কত্থক ও মনিপুরী নৃত্যের ওয়ার্কশপ। এতে কত্থক নৃত্য শেখাবেন বাংলাদেশের প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যগুরু মুনমুন আহমেদ এবং মনিপুরী নৃত্য শেখাবেন বাংলাদেশের আরেক প্রথিতযশা নৃত্যশিল্পী ও নৃত্যগুরু ওয়ার্দা রিহাব। প্রতিটি নৃত্য শাখায় ৪৫ জন করে মোট ৯০ জন শিক্ষার্থী অনলাইনে লাইভের মাধ্যমে অংশ নিতে পারবে এই ক্লাসে।

ভারতীয় দূতাবাসের আয়োজনে অনলাইনে সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা

বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন এই আয়োজন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টার’র পরিচালক নিপা চৌধুরী মুঠোফোনে সারাবাংলা’কে বললেন, ‘প্রথমেই বলতে চাই যে, বাংলাদেশ এবং ভারতের সংস্কৃতিচর্চাটা প্রায় একই। দু’দেশের মানসিকতাতেও রয়েছে যথেষ্ট মিল। এই কারনে দু’দেশের মধ্যে সাংস্কৃতিক বিনিময়টাও অনেক সমৃদ্ধ। কিন্তু এখন দু’দেশেই লকডাউন চলছে। যার ফলে ব্যাহত হচ্ছে এই বিনিময়টা। তাই আমরা চাই, সেই বিনিময়টা অব্যাহত থাকুক। কারণ সংস্কৃতি হচ্ছে একমাত্র মাধ্যম যেটাতে খুব সহজেই একে অপরে সুসম্পর্ক গড়ে ওঠে। সংস্কৃতি চর্চায় ভারতের লোকেরা যেমন সমৃদ্ধ, ঠিক তেমনি একই ভাবে বাংলাদেশের লোকেরাও মানসিক ভাবে খুবই সমৃদ্ধ।’

ভারতীয় দূতাবাসের আয়োজনে অনলাইনে সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা

বিজ্ঞাপন

বাংলাদেশের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে তিনি বললেন, ‘ব্যক্তিগতভাবে যে ব্যাপারটা আমার ভীষণ ভালো লাগে, সেটা হচ্ছে, এ দেশের মানুষ গুলো সংস্কৃতির প্রতিটা বিষয়কে খুবই আনন্দের সঙ্গে গ্রহণ করে। কদিন আগেই আমরা একটা ওয়ার্কশপ শেষ করলাম। ছয়টা বিষয়ে ছয় জন গুরুকে নিয়ে- যারা প্রত্যেকেই আইসিসিআর স্কলার ছিলেন। আমরা অবাক হয়ে গেলাম যে, একমাসের একটা ওয়ার্কশপে ৯৫৭ জন অংশ নিল। এটা দেখেই আমরা আরো উৎসাহিত হলাম। সে ওয়ার্কশপটা আমরা করেছিলাম প্রাইভেট ইউটিউব ভিডিও দিয়ে। এবারের ওয়ার্কশপে আমরা একটু পরিবর্তন করলাম। এবার আমরা লাইভ অনলাইন ক্লাসের ব্যবস্থা করছি।’

অনলাইনে আইজিসিসি’র বিভিন্ন আয়োজন প্রসঙ্গে নিপা চৌধুরী জানালেন, ‘দুদেশের শিল্পীদের নিয়েই অনলাইনে আমরা বিভিন্ন আয়োজন করছি। ইতিমধ্যেই রবীন্দ্রজয়ন্তী, নজরুলজয়ন্তী, হেমন্ত মুখার্জীর জন্ম শতবার্ষিকী-সহ বেশ কয়েকটি অনলাইন আয়োজন আমরা সফল ভাবেই সম্পন্ন করতে পেরেছি। প্রতিটা আয়োজনেই দু’দেশের শিল্পীরা ছিলেন। এই আয়োজনের প্রধান উদ্দেশ্য ছিল দু’দেশের মানুষকেই মানসিক ভাবে আনন্দে রাখা। কারণ লকডাউন বা মহামারীর জন্য অনেকেই মানসিক ভাবে দুর্বল হয়ে পড়ছে। অনেক শিল্পীরাও অবসাদে ভুগছেন। সবাই যেন সবধরনের অবসাদ থেকে মুক্ত হয়ে আনন্দে থাকতে পারে, তাই এই চেষ্টা।’

বিজ্ঞাপন

ভারতীয় দূতাবাসের আয়োজনে অনলাইনে সংগীত ও নৃত্যশিক্ষা

তিনি আরো জানালেন, ‘সংগীত, নৃত্যের পাশাপাশি আমরা ইয়োগা-ও শেখাচ্ছি। প্রত্যাশা একটাই- ঘরে বসেই মানসিক ভাবে সবাই সমৃদ্ধ থাকুক, সুচিন্তা করুক। আমরা সবাই যাতে পজেটিভ থাকতে পারি, সেই চেষ্টা চালানো। আর এক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখছেন আমাদের মাননীয় হাইকমিশনার শ্রীমতি রিভা গাঙ্গুলি দাশ এবং ডেপুটি হাইকমিশনার বিশ্বদীপ দে। উনাদের দুজনের পুরোপুরি সহযোগিতা পাচ্ছি বলেই একের পর এক আয়োজন আমরা করতে পারছি। পাশাপাশি বাংলাদেশের জনগনের জন্য ভারতের জনগনের পক্ষ থেকে অনেক অনেক ভালোবাসা পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছি।’

আইজিসিসি’র অনলাইন ক্লাসের রেজিস্ট্রেশনের ঠিকানা- সংগীতের জন্য www.hcidhaka.gov.in/igcc_reg এবং নৃত্যের জন্য www.hcidhaka.gov.in/igcc_workshop। এছাড়াও বিস্তারিত পাওয়া যাবে ফেসবুক পেইজের www.facebook/IndiraGandhiCulturalCentre/ -এই লিংকে।

সারাবাংলা/এএসজি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন