বিজ্ঞাপন

চমেকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে মারামারি, পুলিশসহ আহত ১৩

July 12, 2020 | 4:26 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। এতে ছাত্রলীগের উভয়পক্ষের ১১ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। মারামারি থামাতে গিয়ে দু’জন পুলিশ সদস্যও আহত হয়েছেন। চমেক ক্যাম্পাসে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

বিজ্ঞাপন

রোববার (১২ জুলাই) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে চমেক হাসপাতালে একটি কর্মসূচিতে যান শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। তিনি হাসপাতাল ত্যাগের পর চমেকে ছাত্রলীগের দু’পক্ষ ক্যাম্পাসে মারামারিতে জড়ায়। তবে উভয়পক্ষ তাদের ওপর হামলা হয়েছে বলে দাবি করেছে।

চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ছাত্রলীগ দীর্ঘদিন ধরে নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের নিয়ন্ত্রণে আছে। তাদের একক আধিপত্যের বিপরীতে সম্প্রতি শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী পরিচয়ে ছাত্রলীগের আরেকটি অংশ ক্যাম্পাসে সক্রিয় হয়েছে। মূলত এই দু’পক্ষের নেতাকর্মীরাই মারামারিতে জড়িয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

নওফেলের অনুসারী ছাত্রলীগ নেতা চমেকের তৃতীয় বর্ষের ছাত্র অভিজিৎ দাশ সারাবাংলাকে জানান, উপমন্ত্রী নওফেলের গাড়ি হাসপাতাল এলাকা ত্যাগের পরই তাদের ওপর হামলা শুরু হয়। এসময় উপমন্ত্রীর নাম ধরে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে মেয়র নাছিরের অনুসারী ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। ক্রিকেট স্ট্যাম্প ও হকিস্টিক দিয়ে তাদের আঘাত করা হয়েছে। পুলিশ প্রথমে নির্বিকার থাকলেও পরে উভয়পক্ষকে ধাওয়া দিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেয়। হামলায় তাদের ৬ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন।

অভিজিৎ জানান, হামলায় তিনি নিজেও আহত হয়েছেন। এছাড়া চমেকের পঞ্চম বর্ষের ছাত্র খোরশেদ বিন মেহেদি ও ইমন সিকদার, দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র সাজেদুল ইসলাম হৃদয় ও মিনহাজুর রহমান এবং তৃতীয় বর্ষের হোজাইফা বিন কবির আহত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

তার দাবি, চমেক ছাত্রলীগের সভাপতি পরিচয়দানকারী হাবিবুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ইসলাম শিমুল, চমেক ছাত্র সংসদের ভিপি এম এ আউয়াল রানা, ইন্টার্ণি ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের ওসমান গণি, হিমেল চাকমা, সোহেল পারভেজ সুমন, আরমানউল্লাহ চৌধুরী, ইনজামুল হক, সায়েম তানভীর ও হাসানুল করিম ঘটনাস্থলে হামলায় অংশ নিয়েছেন।

চমেকে ছাত্রলীগের দু’গ্রুপে মারামারি, পুলিশসহ আহত ১৩
মেয়র নাছিরের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক আল আমিন ইসলাম শিমুল সারাবাংলাকে বলেন, ‘উপমন্ত্রী মহোদয় এসেছিলেন। আমরা উনাকে রিসিভ করি। উনার সঙ্গে কিছু বহিরাগত এসেছিলেন। উপমন্ত্রী চলে যাবার পর বহিরাগতরা আমাদের ওপর হামলা করে। ইন্টার্নি চিকিৎসকেরা ছিলেন, তাদেরও মারধর করা হয়। পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। আমাদের পাঁচজন আহত হয়েছে।’

বিজ্ঞাপন

শিমুলের তথ্য অনুযায়ী, আহতরা হলেন- সানি প্রান্তিক, মাসুম বিল্লাহ, ফয়সাল আহমেদ, অনির্বাণ দে ও মাহাদী বিন হাশেম। এদের মধ্যে মাসুম বিল্লাহ ও ফয়সাল ইন্টার্নি চিকিৎসক। বাকিরা চমেকের বিভিন্ন বর্ষের ছাত্র।

স্থানীয় পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবুল কাশেম ভূঁইয়া সারাবাংলাকে বলেন, ‘উপমন্ত্রী স্যার হাসপাতালে প্রোগ্রাম শেষে চলে যাবার পর কয়েকজন ছাত্র প্রথমে ঝগড়া, এরপর ধাক্কাধাক্কি শুরু করে। কিল-ঘুষি মারতে থাকে। মারামারি থামাতে গিয়ে আমাদের থানার দুই জন সদস্য আহত হয়েছেন। এখন পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/আরডি/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন