বিজ্ঞাপন

চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন শুরু

July 12, 2020 | 9:30 pm

এম এ কে জিলানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের উন্নয়নে মালামাল পরিবহনের জন্য করা ট্রান্সশিপমেন্ট চুক্তির আওতায় চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার শুরু হচ্ছে। এই রুটটি নিয়মিত করতে রোববার (১২ জুলাই) ট্রায়াল রান হিসেবে কলকাতা বন্দর থেকে চট্টগ্রাম বন্দরের উদ্দেশে একটি জাহাজ যাত্রা শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

জাহাজটি আগামী ১৪ জুলাই (বৃহস্পতিবার) চট্টগ্রাম বন্দরে পৌঁছলে জাহাজের মালামাল কুমিল্লার বিবির বাজার অথবা আখাউড়ার সড়ক পথ দিয়ে ভারতের আগরতলায় পৌঁছবে।

নৌ পরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী সারাবাংলাকে বলেন, ‘ভারত তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যের পণ্য পরবিহনের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর ব্যবহার করবে। এই রুটটি নিয়মিত করতে ট্রায়াল শুরু হয়েছে। যার আওতায় ভারতের কলকাতা থেকে আগামী ১৪ জুলাই একটি জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আসছে। ট্রায়াল রানে কী কী সমস্যা হয় সেগুলো চিহ্নিত করে সংশোধনের পর নিয়মিত রুট চালু হবে।’

বিজ্ঞাপন

প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী আরও বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে আমাদের ঐতিহাসিক সম্পর্ক। এই রুটটি চালু হলে এই সম্পর্কের আরও উন্নতি হবে এবং আঞ্চলিক সহযোগিতা বাড়বে। এ ছাড়া ভারত আমাদের নৌ ও সড়ক পথ ব্যবহার করে তাদের উত্তর পূর্বাঞ্চলে পণ্য পরিবহন করলে আমরা অর্থনৈতিকভাবেও লাভবান হব।’

বাংলাদেশের মধ্যে দিয়ে ভারত যে তার তাদের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে পণ্য পরিবহন করবে, এজন্য বাংলাদেশ কী পরিমাণ মাশুল পাবে। জানতে চাইলে প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বন্দরের স্বাভাবিক যে নিয়ম রয়েছে সে নিয়ম অনুযায়ী, বন্দর ব্যবহার সাপেক্ষে ভারত মাশুল পরিশোধ করবে। রাজস্ব বোর্ডের শুল্ক, বন্দরের চার্জ, সড়ক ব্যবহার করার জন্য যে সকল মাশুল নির্ধারিত আছে, সেগুলোর সবকিছুই ভারত পরিশোধ করবে।’

জানা গেছে, ট্রায়াল রানের জন্য চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম শুল্ক কর্তৃপক্ষ এরই মধ্যে সকল ব্যবস্থা নিয়েছে। ট্রায়াল রান গত মার্চ মাসে শুরু হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু করোনা আক্রমণের কারণে পিছিয়ে জুলাইতে হচ্ছে।

বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে নৌ বাণিজ্য বাড়াতে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় ১৯৭২ সালের ১ নভেম্বর প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) স্বাক্ষরিত হয় এবং নৌ বাণিজ্য নিরবচ্ছিন্নভাবে চলমান থাকে। উক্ত প্রটোকলের মেয়াদ গত ২০১৫ সালের ৩১ মার্চ উত্তীর্ণ হলে ২০১৫ সালের ৬ জুন পুনরায় পিআইডব্লিউটিটি স্বাক্ষরিত হয়।

বিগত ২০১৫ সালের ৬ জুন ভারতের প্রধানমন্ত্রীর বাংলাদেশ সফরকালে বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যে কোস্টাল শিপিং বিষয়ক চুক্তি, প্রটোকল অন ইনল্যান্ড ওয়াটার ট্রানজিট অ্যান্ড ট্রেড (পিআইডব্লিউটিটি) এবং চট্টগ্রাম ও মোংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি/প্রটোকল/সমঝোতা স্মারকপত্র স্বাক্ষর হয়। পরবর্তী সময়ে ২০১৭ সালের ৮ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরকালে বাংলাদেশ-ভারত প্রটোকল রুটের সিরাজগঞ্জ-দৈখাওয়া এবং আশুগঞ্জ-জকিগঞ্জ রুট উন্নয়ন, কোস্টাল এবং প্রটোকল রুটে যাত্রী ও পর্যটকবাহী জাহাজ চলাচল এবং দু’দেশের মধ্যে নেভিগেশন সহায়ক সহযোগিতা সংক্রান্ত তিনটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর হয়।

সারাবাংলা/জেআইএল/এমআই

বিজ্ঞাপন

Tags: , ,

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন