বিজ্ঞাপন

করোনায় থেমে গেছে আবরার হত্যাসহ আলোচিত মামলার বিচার

July 13, 2020 | 8:00 am

আরিফুল ইসলাম, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের (কোভিড-১৯) প্রাদুর্ভাবের কারণে মার্চের মাঝামাঝিতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করে। তখন থেকে প্রায় ৬৬ দিন সারাদেশ কার্যত ছিল লকডাউন। এরই মধ্যে অবশ্য দেশে ভার্চুয়াল আদালত চালু হয়েছে। তবে সাধারণ ছুটির পর স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত পরিসরে অফিস খুললেও এখনও নিয়মিত আদালত খুলে দেওয়া হয়নি। এ কারণে থেমে আছে আলোচিত আবরার হত্যাসহ নিম্ন আদালতের গুরুত্বপূর্ণ মামলার বিচার।

বিজ্ঞাপন

ভার্চুয়াল আদালতে সীমিত পরিসের নতুন মামলার কাজ চাললেও পুরাতন মামলার চার্জ গঠন, সাক্ষ্য গ্রহণ, সাফাই সাক্ষী ও আর্গুমেন্ট রায় ঘোষণাসহ অন্যান্য সব কাজ বন্ধ রয়েছে। ফলে ভিকটিম ও আসামিপক্ষ উভয়ই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।

বহুল আলোচিত বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা মামলায় গত ৬ এপ্রিল চার্জ শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হলেও তা এখনও অনুষ্ঠিত হয়নি। মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর বিচারক আবু জাফর মো. কামরুজ্জামানের আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

বিজ্ঞাপন

দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-১ এর পেশকার শামসুদ্দিন সারাবাংলাকে বলেন, ‘বর্তমানে করোনার কারণে মামলাটির কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। যতদিন হলো আদালত বন্ধ রয়েছে, স্বাভাবিক অবস্থা থাকলে ততদিনে মামলাটির সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়ে রায়ের পর্যায়ে পৌঁছে যেত। কিন্তু বাস্তবতা হলো এখনও চার্জ গঠনই শেষ হয়নি।‘

ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী অরিত্রী অধিকারীকে আত্মহত্যার প্ররোচণা দেওয়ার অভিযোগে মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে এসেই থেমে গেছে। বর্তমানে মামলাটি তৃতীয় অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ রবিউল আলমের আদালতে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্যায়ে রয়েছে। আদালত সূত্র জানিয়েছে, এতদিনে মামলাটির রায় হয়ে অভিযুক্ত আসামিরা শাস্তি ভোগ করতো। সংশ্লিষ্ট আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর সাবিনা আক্তার দিবাকে মামলা বিষয়ে জানতে চেয়ে মোবাইল ফোনে কল দিলে তা তিনি রিসিভ করেননি।

বিজ্ঞাপন

পুলিশ হেফাজতে জনি নামে এক যুবককে নির্যাতন করে হত্যা মামলায় পল্লবী থানার তৎকালীন উপ-পরিদর্শক (এসআই) জাহিদুর রহমান জাহিদসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় যুক্তিতর্ক পর্যায়ে থেকেও রায় ঘোষণা হয়নি। এছাড়াও রাজধানীর সিদ্ধেশ্বরী এলাকায় ১৯৮৯ সালে সগিরা মোর্শেদ রিকশা যোগে ভিকারুননিসা স্কুল অ্যান্ড কলেজের দিকে যাওয়ার সময় গুলিতে নিহত হওয়ার ঘটনায় চার্জ গঠন পর্যায়ে থেকে আর এগোয়নি। মামলা দুটি ঢাকা মহানগর দায়রা জজ কে এম ইমরুল কায়েশের আদালতে বিচারাধীন অবস্থায় রয়েছে।

সংশ্লিষ্ট আদালতের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর তাপস কুমার পাল সারাবাংলাকে জানান, পুলিশ হেফাজতে আসামির মৃত্যুর মামলায় এটাই প্রথম রায় হতো। কিন্তু করোনার কারণে তা আটকে গেছে। এছাড়াও ৩০ বছর আগে সগিরা মোর্শেদ হত্যা মামলাটিয় অনেক দূর এগিয়ে যেত। এই মহামারির কারণে সবকিছুই থমকে গেছে।

বিজ্ঞাপন

এছাড়াও লেখক ও মুক্তমনা ব্লগের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ রায় হত্যা, প্রথাবিরোধী লেখক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক ড. হুমায়ুন আজাদ হত্যা, চিত্রনায়ক সোহেল চৌধুরী হত্যা, গুলশানে ২০১৫ সালের দিকে সন্ত্রাসীদের গুলিতে ইতালির নাগরিক তাভেলা সিজার হত্যাসহ বহু আলোচিত মামলার রায় ঘোষণা থেমে আছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর মো. আব্দুল্লাহ আবু সারাবাংলাকে বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ কিছু মামলা আছে যেগুলোর সরাসরি বিচার কাজ পরিচালনা না করলে ন্যায় বিচার ব্যাহত হতে পারে। এছাড়াও জামিনসহ অন্যান্য কাজগুলো ভার্চুয়ালি পরিচালিত হচ্ছে। আশা করছি, আস্তে আস্তে সব অনলাইনেই চলে আসবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, করোনার পরিস্থিতির কারণে ট্রায়াল মামলাগুলোর বিচার কাজে বাধা সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে তৈরি হচ্ছে মামলা জট। এই সমস্যা শুধু আমাদের দেশ নয়, সারা পৃথিবীতেই হচ্ছে। যেহেতু লকডাউন এখনও সম্পূর্ণভাবে উঠে যায়নি, তাই এ অসুবিধাটুকু মেনে নেওয়া ছাড়া কোনো উপায় নেই।

সারাবাংলা/এআই/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন