বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যমে কথা বলায় ৪ চালককে বরখাস্ত করলেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান

July 13, 2020 | 2:46 pm

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বকেয়া বেতনের দাবি নিয়ে গণমাধ্যমে কথা বলায় চার চালককে বরখাস্ত করলেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান এহসান ই এলাহী। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া চার চালকই জোয়ার সাহারা বাস ডিপোর। ৮ মাসের বেতন বকেয়া ছিল শত শত চালকের। প্রতিমাসের বেতনের সঙ্গে বকেয়া বেতনে দেওয়ার প্রতিশ্রতি ছিল বিআরটিসির। সেই দাবি গণমাধ্যমে বলায় তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে বলে ডিপো সূত্র জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সোমবার (১৩ জুলাই) সারাবাংলার কাছে তাদের বরখাস্ত নোটিশ কপি এসেছে। এতে দেখা চেয়ারম্যান তাদের সাময়িক বরখাস্ত করেছেন। বরখাস্তের কারণ হিসেবে তিনি লিখেছেন, ‘গত ২১এপ্রিল কতৃপক্ষের বিনা অনুমতিতে ইলেক্ট্রনিক মিডিয়াতে অন্যান্য বিষয়ে মিথ্যা ভ্রান্ত বানোয়াট সাক্ষাৎকার প্রদান করে বিআরটিসির ভাবমূর্তি জনসম্মুখে ক্ষুণ্ন করায় চাকুরি প্রবিধানমালা ১৯৯০ এর ৪৫ (১) বিধান মোতাবেক ১ জুলাই থেকে করপোরেশনের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বরখাস্ত হওয়া চার চালক হলেন, আবুল কালাম, মো. মকবুল আহমদ, মো. মিজানুর রহমান ও আল আমিন হাওয়ালাদার।

গণমাধ্যমে কথা বললে চাকরি থেকে বরখাস্ত করার এমন ঘটনা বিআরটিসির ইতিহাসে নজিরবিহীন।

বিজ্ঞাপন

সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের সচিব নজরুল ইসলামের কাছে নজিরবিহীন এ ঘটনা সম্পকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘গণমাধ্যমে কথা বলতে তার মন্ত্রণালয়ের অধীন কারও বাধা নেই। বিআরটিসি চেয়ারম্যান দ্বারা চালক চালক বরখাস্তের ঘটনা তিনি এখনও জানেননি। বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে বক্তব্য জানাতে পারবেন বলে উল্লেখ করেন।’

গণমাধ্যমে কথা বলার একই অপরাধে দুইবার তাদের শাস্তি দেওয়ার কথা স্বীকার করেছেন চেয়ারম্যান এহসানে এলাহী। প্রথমবার তাদের ঢাকা থেকে বিভিন্ন জায়গায় বদলি করা হয়। এর মধ্যে মিজানুর রহমানকে বগুড়া পাঠানো হয়। এরপর সে সব কর্মস্থলে যোগ দেন তারা। এরমধ্যে তাদের আবার ওই একই অপরাধে দ্বিতীয়বার শাস্তি দেওয়া হয়। এবার তাদের সরাসরি বরখাস্তের নোটিশ।

বিজ্ঞাপন

এমনকি নোটিশ দেওয়ার প্রক্রিয়াতেও ভুল দেখা যায়। বরখাস্ত করার নোটিশে চেয়ারম্যান সাক্ষর করে ১ জুলাই। ওইদিন থেকেই বরখাস্ত উল্লেখ করা হয় নোটিশে। কিন্তু ১০ জুলাই পর্যন্ত তারা কমস্থলে চাকরি করছিলেন। ১১ জুলাই তাদেরকে নোটিশ ধরিয়ে দেওয়া হয়।

বিআরটিসিরি জোয়ারসাহারা ডিপোর বেশ কয়েকজন চালকের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, ‘চেয়ারম্যান একটি বিশেষ পক্ষের দ্বারা সুবিধা ভোগ করে প্রতিপক্ষ হিসেবে এই চার চালককে বরখাস্ত করেছেন।’

বিজ্ঞাপন

চারজনের মধ্যে দু’জন ছিলেন বিআরটিসি শ্রমিক সংগঠনের বিভিন্ন পদে প্রার্থিতার কথা ছিল। তাদের কোনো প্রতিপক্ষ থেকে চেয়ারম্যন অনৈতিক সুবিধা গ্রহণ করে থাকতে পারেন বলে মনে করেন বরখাস্ত হওয়া চালকের সহকমীরা।

এ বিষয়ে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের এহসানে এলাহীর সঙ্গে যোগযোগ করা হলে সারাবাংলাকে তিনি জানান, ‘তারা তো অন্যায় করেছে। আমার অনুমতি নেবে না? মানে প্রশাসনের তো একটা সিস্টেম আছে।’

বিআরটিসির একজন চালককে গণমাধ্যমে কথা বললে কি শাস্তি পেতে হয়- এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, ‘অবশ্যই পানিশমেন্ট পাবে। সে তো মিথ্যা বানোয়াট তথ্য দিয়েছে।’

কি সেই মিথ্যা বানোয়াট তথ্য কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তারা ৮ মাসের বকেয়া বেতন পায়নি বলেছে। এটা তো আগের বকেয়া।’

যে ভিডিও যে সাক্ষাতকার প্রকাশ পাওয়ায় চার চালককে বরখাস্ত করা হয় সেটি সারবাংলা.নেট- এ প্রকাশিত হয় ২১ এপ্রিল। নিচে দেওয়া হলো।

ভিডিওতে দেখা যায়, চালকার তাদের বকেয়া বেতন দাবি করেছে। করোনার মধ্যে মানবেতর জীবন যাপন করা এই চালকদের দাবি ছিল বকেয়া বেতন। তবে কেন তারা বকেয়া শব্দ উল্লেখ না করে ৮ মাস বেতন পায়নি বললো এই অপরাধে তাদের দুবার শাস্তি দিলেন চেয়ারম্যান। প্রথমবার বগুড়া বদলি আর দ্বিতীয়বার চাকরি থেকে বরখাস্ত।

ভিডিও পর্যালোচনা করে দেখা যায়, সেখানে রিপোর্টার নিজেই বকেয়ার বিষয়টি তুলে ধরেছেন। আর চালকদের বেতন যে ৮ মাসের পাওয়া সেটাও সত্য। যা চেয়ারম্যান নিজেও স্বীকার করেছেন।

এছাড়া বেতন যে বকেয়া ৮ মাস তাদের পাওয়া সেটার একটি ভিডিও স্টোরিও সারাবাংলা প্রকাশ করে। সেখানেও বিষয়টি উল্লেখ ছিল ।

দুনীতি অনিয়মসহ বিভিন্ন অভিযোগ সাবেক চেয়ারম্যান ফরিদ আহমেদ ভূঁইয়াকে সরিয়ে দিয়ে অতিরিক্ত সচিব এহসানে এলাহীকে চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত করা হয়। ওই সময় বিআরটিসিকে এসে এক সভায় সেতুমন্ত্রী বলেছিলেন, দুনীতি ও অনিময়ম দূর করতেই নতুন চেয়ারম্যানকে দেওয়া হয়েছে। ওই সময় আগের দুনীতি ও অনিয়মদের দ্রুত তদন্ত করতে মন্ত্রী নতুন চেয়ারম্যানকে নিদেশ দিয়ে যান। নতুন চেয়ারম্যান অদৃশ্য কারণে সেই তদন্তে গড়িমসি করেন।

প্রধান কাযালয়ে যাদের বিরুদ্ধে দুনীতির অভিযোগ তাদের রেখে অন্যদের বিভিন্ন ডিপোতে সরিয়ে দেন। এছাড়া নতুন বাস বহর পেয়েও বিআরটিসিকে লোকসান থেকে রক্ষা করতে পারেনি চেয়ারম্যান। এখনও বেশিরভাগ ডিপোতে বকেয়া বেতন পড়ে আছে।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন