বিজ্ঞাপন

রাজধানীতে বসবে ১০ অস্থায়ী পশুর হাট, ইজারা চূড়ান্ত

July 13, 2020 | 11:15 pm

সাদ্দাম হোসাইন, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঈদুল আজহার বাকি আর সপ্তাহ দুয়েক। এই ঈদের অন্যতম অনুষঙ্গ পশু কোরবানির জন্য প্রতিবছরই এরকম সময়ে পশুর হাট নিয়ে সব সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়ে যায়। এ বছর করোনাভাইরাসের কারণে অনলাইনে পশু কেনাকাটার বিষয়টিকে গুরুত্ব দিলেও শেষ পর্যন্ত রাজধানীর পশুর হাট নিয়ে সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। দুই সিটি করপোরেশন রাজধানীতে এখন পর্যন্ত মোট ১০টি অস্থায়ী পশুর হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে। এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকায় পাঁচটি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকায় বসব বাকি পাঁচটি অস্থায়ী পশুর হাট। এর বাইরে উত্তরে গাবতলী ও দক্ষিণে সারুলিয়ার স্থায়ী পশুর হাটেও চলবে কোরবানির পশুর বেচাকেনা।

বিজ্ঞাপন

দুই সিটির লক্ষ্য ছিল অবশ্য বেশি। করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকির মধ্যেও এ বছর রাজধানীতে স্থায়ী দুইটি হাটের বাইরে আরও ২৪টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। কিন্তু ডিএনসিসির ১০টি ও ডিএসসিসির ১৪টি হাটের ইজারার জন্য দুই দফা দরপত্র আহ্বান করেও কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। ফলে সব হাট ইজারা দেওয়া সম্ভব হয়নি। শেষ পর্যন্ত দুই সিটিই পাঁচটি করে হাটের ইজারা চূড়ান্ত করেছে। এর বাইরে অন্য কোনো হাট ইজারা না দেওয়ারও সিদ্ধান্ত নিয়েছে উত্তর সিটি। আর দক্ষিণ সিটি ১৯ জুলাই পর্যন্ত হাট ইজারার ‍সুযোগ উন্মুক্ত রাখলেও ওই সময়ে গিয়ে হাট ইজারা নেওয়ার মতো কাউকে পাওয়া যাবে না বলেও মনে করছে।

ডিএনসিসি’তে চূড়ান্ত ৫ হাট

বিজ্ঞাপন

ডিএনসিসির ইজারা চূড়ান্ত হওয়া হাটগুলো হলো— কাওলা-শিয়ালডাঙ্গা সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তরা ১৭ নম্বর সেক্টরের বৃন্দাবন থেকে উত্তর দিকে বিজিএমইএ পর্যন্ত খালি জায়গা, সম্পূর্ণ নতুন হিসেবে ৪৩ নম্বর ওয়ার্ডের পূর্বাচল ব্রিজসংলগ্ন মস্তুল ডুমনি বাজারমুখী রাস্তার উভয়পাশের খালি জায়গা, ভাটারা সাঈদনগর ও আব্দুল্লাহপুর এলাকায় বেঁড়িবাধ সংলগ্ন মৈয়নারটেক শহীদনগর এলাকা।

এর আগে, ১৮ জুন ডিএনসিসি এলাকায় ১০টি অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারার জন্য দরপত্র আহ্বান করা হয়। যে পাঁচটি হাট ইজারা দেওয়া যায়নি, সেগুলো হলো— উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমের অংশ ও ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ, বাড্ডা ইস্টার্ন হাউজিং (আফতাব নগর) ব্লক-ই সেকশন ৩-এর খালি জায়গা, মোহাম্মদপুর বুদ্ধিজীবী সড়কসংলগ্ন (বছিলা) পুলিশ লাইন ও মিরপুর সেকশন ৬ ওয়ার্ড ৬ (ইস্টার্ন হাউজিং)।

করোনার ঝুঁকি এড়াতে ও কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়ায় উত্তরা ১৫ নম্বর সেক্টরের ১ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমের অংশ এবং ২ নম্বর ব্রিজের পশ্চিমে গোলচত্বর পর্যন্ত সড়কের ফাঁকা জায়গা, ঢাকা পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের খেলার মাঠ ইজারা দেওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসে হাটগুলো বাতিল করে গত দুই জুন একটি বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে ডিএনসিসি।

এ বিষয়ে ডিএনসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা মো. মোজ্জাম্মেল হক সারাবাংলাকে বলেন, আমরা আগেই তিনটি হাটের ইজারা সম্পন্ন করেছিলাম। করোনার ঝুঁকি বিবেচনায় আর কোনো হাট না বসানোর সিদ্ধান্ত হয়েছিল। তবে আজ (সোমবার ১৩ জুলাই) জনস্বার্থে হাট বাড়ানোর বৈঠকে আরও দু’টি হাট (ভাটারা ও মৈয়নারটেক) ইজারার জন্য সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব হাটের জন্য কাঙ্ক্ষিত দর পাওয়া যায়নি। তবু জনস্বার্থে এসব এলাকায় হাট বসানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কারণ ভাটারা এলাকার আশপাশে আর কোনো হাট না থাকায় সে এলাকার বাসিন্দাদের পশু কিনতে উত্তরা যেতে হতো। তাই এ সিদ্ধান্ত।

ডিএসসিসি’তে চূড়ান্ত ৫ হাট

এদিকে, ডিএসসিসির কমলাপুর লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাব সংলগ্ন আশপাশের খালি জায়গা, আফতাবনগর ব্লক-ই, এফ, জি-এর সেকশন ১ ও ২ নম্বর এলাকা, হাজারীবাগ লেদার টেকনোলজি কলেজ সংলগ্ন খালি জায়গা, উত্তর শাহজাহানপুর মৈত্রী সংঘের মাঠ সংলগ্ন খালি জায়গা এবং পোস্তগোলা শ্মশানঘাট সংলগ্ন খালি জায়গাসহ মোট পাঁচটি হাট ইজারার জন্য চূড়ান্ত করা হয়েছে। তবে সংস্থাটিতে তৃতীয় দফায় আহ্বান করা দরপত্র খোলা হবে ১৯ জুলাই। ওই দিন বাকি হাটগুলোতে কাঙ্ক্ষিত দর পেলে ইজারা দেওয়া হবে। আর না পাওয়া গেলে পাঁচটি হাটই চূড়ান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে বলে জানা গেছে। তবে বাকি হাটগুলো ইজারা হওয়ার সম্ভাবনা কম বলেও মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ হাট প্রস্তুতের জন্য কমপক্ষে সময় লাগে ১৫ দিন। ১৯ জুলাই ইজারা নেওয়া হলে প্রস্তুতির জন্য ইজারাদারের হাতে সময় থাকবে মাত্র পাঁচ-ছয় দিন। এ অল্প সময়ে কেউ হাট ইজারা নিতে রাজি হবে বলে মনে করছে না ডিএসসিসির সম্পত্তি বিভাগ সংশ্লিষ্টরা।

গত ১৪ জুন ১৪টি অস্থায়ী হাট ইজারা দিতে দরপত্র আহ্বান করে ডিএসসিসি। হাটগুলো হলো উত্তর শাহজাহানপুর খিলগাঁও রেলগেট বাজারের মৈত্রী সংঘ মাঠ, হাজারীবাগের ইনস্টিটিউট অব লেদার টেকনোলজি মাঠসংলগ্ন উন্মুক্ত এলাকা, কামরাঙ্গীর চরের ইসলাম চেয়ারম্যানবাড়ির মোড় থেকে বুড়িগঙ্গার বাঁধ, পোস্তগোলা শ্মশানঘাট, শ্যামপুর বালুর মাঠ, মেরাদিয়া বাজার, আরমানিটোলা মাঠ, লিটল ফ্রেন্ডস ক্লাবসংলগ্ন গোপীবাগ বালুর মাঠ ও কমলাপুর স্টেডিয়ামসংলগ্ন বিশ্বরোড, দনিয়া কলেজ মাঠসংলগ্ন খালি জায়গা, ধূপখোলা মাঠ, সাদেক হোসেন খোকা মাঠের পাশে ধোলাইখাল ট্রাক টার্মিনাল, ডিএসসিসির আফতাবনগরের (ইস্টার্ন হাউজিং) ব্লক ই, এফ, জি ও এইচ এবং সেকশন-১ ও ২, আমুলিয়া মডেল টাউন এবং লালবাগের রহমতগঞ্জ খেলার মাঠ।

দরপত্র আহ্বানের প্রথম দফায় ২৮ জুন টেন্ডার খোলা হয়। তখন মাত্র তিনটি হাটের কাঙ্ক্ষিত দর পেয়ে ইজারা চূড়ান্ত করা হয়। বাকি হাটগুলো ইজারার জন্য ফের দরপত্র আহ্বান করা হয়। দরপত্র খোলা হয় ৮ জুলাই। এ দফায় হাট মূল্যায়ন কমিটি ফের কাঙ্ক্ষিত দর পেয়ে আরও দু’টি হাটসহ মোট পাঁচটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করে। বাকি হাটগুলো দর না পাওয়ায় ফের তৃতীয় দফায় দরপত্র আহ্বান করা হয়, যা আগামী ১৯ জুলাই খোলা হবে। ওই দিনই চূড়ান্ত হবে, ডিএসসিসিতে নতুন আর কোনো হাট বসবে কি না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডিএসসিসির প্রধান সম্পত্তি কর্মকর্তা রাসেল সাবরিন সারাবাংলাকে বলেন, আমাদের পাঁচটি হাটের ইজারা চূড়ান্ত করা হয়েছে। বাকি আর কোনো হাট চূড়ান্ত হবে কি না, সে সিদ্ধান্ত ১৯ জুলাই তৃতীয় দফার দরপত্র খোলার পর জানানো হবে। তবে ওই দিন যদি নতুন কোনো হাটের জন্য কাঙ্ক্ষিত দর না পাওয়া যায়, তাহলে এখনকার পাঁচটি হাটই চূড়ান্ত থাকবে। নতুন কোনো হাট বসিয়ে ডিএসসিসি হাসিলও আদায় করবে না, হাটও বসাবে না।

এদিকে, চাহিদার তুলনায় হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় নগরবাসীর মাঝে দেখা দিয়েছে মিশ্রপ্রতিক্রিয়া। কেউ কেউ বলছেন, হাটের সংখ্যা কম হওয়ায় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার চাপ থাকবে বেশি। বাড়তি ভিড়ের কারণে করোনার সংক্রমণের ঝুঁকিও বেড়ে যাবে এতে।

পুরান ঢাকার বাসিন্দা মো. ভাস্কর সারাবাংলাকে বলেন, ঢাকায় হাট কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত সঠিক মনে হচ্ছে না। ঢাকা দক্ষিণে অনেক মানুষের বসবাস। বিশেষ করে পুরান ঢাকার এত এলাকার জন্য মাত্র একটি হাট পোস্তগোলা শশানঘাট। এত মানুষের চাপ এই একটি হাট কিভাবে সামলাবে? ধোলাইখাল ও ধুপখোলা হাট দিলে বিশাল অঞ্চলের মানুষের খুব উপকার হতো। মানুষ স্বাস্থ্যসম্মতভাবে হাটে ঘোরাফেরাও করতে পারত। এক জায়গায় চাপ থাকত না।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী তাজুল ইসলাম সারাবাংলাকে বলেন, এবছর করোনাভাইরাসের কারণে ভিন্ন এক প্রেক্ষাপটে ঈদুল আজহা উদযাপিত হবে। প্রতিবছরের মতো এ বছরও পশুর হাটে লোকসমাগম বেশি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এতে করে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বেশি থাকবে। তাই আমরা যথাসম্ভব চেষ্টা করছি হাটের সংখ্যা কমাতে। করোনা মোকাবিলায় গঠিত টেকনিক্যাল কমিটির পক্ষ থেকে আমাদের সে নির্দেশনা দেওয়া আছে। তাই হাটে যাওয়ার ব্যাপারে আমরা নিরুৎসাহিত করে সবাইকে অনলাইনে বেচাকেনার পরামর্শ দিচ্ছি। হাটের সংখ্যা কম হওয়ার কারণে অনেক এলাকার বাসিন্দাদের দুর্ভোগ হতে পারে। তবে বৃহত্তর স্বার্থে এ দুর্ভোগ মেনে নেওয়ার অনুরোধ করব।

অনলাইনে পশু কেনার বিষয়ে উৎসাহিত করে মন্ত্রী আরও বলেন, এরই মধ্যে ‘ডিজিটাল হাট’ নামে একটি পশুর হাটের অনলাইন প্ল্যাটফর্ম উদ্বোধন করা হয়েছে। সবাইকে অনুরোধ করব, যাদের পক্ষে সম্ভব তারা যেন অনলাইন থেকে কোরবানির পশু কিনে নেন। এতে হাটে ভিড় কমবে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকিও কমবে।

সারাবাংলা/এসএইচ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন