বিজ্ঞাপন

রংপুরের ৮ জেলায় বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়নে খরচ বাড়ছে

July 14, 2020 | 12:45 am

জোসনা জামান, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: রংপুর বিভাগের আট জেলার বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নত করতে কাজ করছে সরকার। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন, রংপুর জোন’ শীর্ষক প্রকল্পের মাধ্যমে এটি করা হচ্ছে। ফলে প্রথমবারের মতো প্রকল্পটি সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে বিতরণ ব্যবস্থার ক্ষমতা বাড়বে এবং আধুনিকায়নের মাধ্যমে রংপুর বিদ্যুৎ বিতরণ জোনের স্থিতিশীলতা ও নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ কারণে ব্যয় ও সময় বাড়লেও সংশোধনীতে অনুমোদন দিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন। আজ মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) বৈঠকে এই সংশোধনী উপস্থাপন করা হবে বলে জানা গেছে।

সূত্র জানায়, ‘বিদ্যুৎ বিতরণ ব্যবস্থা উন্নয়ন প্রকল্প, রংপুর জোন’ প্রকল্পটির মূল ব্যয় ছিল এক হাজার ৩৩৪ কোটি ২৮ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ২৭৪ কোটি ৫৭ লাখ টাকা ও বাস্তবায়নকারী সংস্থা বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নিজস্ব তহবিল থেকে ৫৯ কোটি ৭১ লাখ টাকা ব্যয় করা হচ্ছে। এখন প্রথম সংশোধনীর মাধ্যমে ৯৪ কোটি ৯২ লাখ টাকা বাড়িয়ে মোট ব্যয় প্রস্তাব করা হয়েছে এক হাজার ৪২৯ কোটি ২১ লাখ টাকা। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক হাজার ৩৫৩ কোটি ১৪ লাখ টাকা ও সংস্থার তহবিল থেকে ৭৬ কোটি ৬ লাখ টাকা ব্যয় করার কথা বলা হয়েছে। এক্ষেত্রে প্রকল্পটির ব্যয় বাড়ছে ৭ দশমিক ১১ শতাংশ।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, মূল ডিপিপি (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব) অনুযায়ী প্রকল্পটি ২০১৬ সালের জানুয়ারি থেকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাস্তবায়নের লক্ষ্য ছিল। এর মধ্যে একবার ব্যয় বাড়ানো ছাড়াই একবছর মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২০ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছিল। এর মধ্যে বাস্তবায়নের কাজ শেষ না হওয়ায় এখন নতুন করে ছয় মাস বাড়িয়ে ২০২১ সালের জুন পর্যন্ত মেয়াদ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।

পরিকল্পনা কমিশনের একাধিক কর্মকর্তা সারাবাংলাকে জানান, গত মে মাস পর্যন্ত প্রকল্পটির অনুকূলে ব্যয় হয়েছে ৭২১ কোটি ২৫ লাখ টাকা। আর্থিক অগ্রগতি দাঁড়িয়েছে ৫৬ দশমিক ৬০ শতাংশ। এছাড়া বাস্তব অগ্রগতি হয়েছে ৭২ দশমিক ৫০ শতাংশ। এ অবস্থায় প্রথম সংশোধনীর প্রস্তাব পাওয়ার পর গত ৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হয় প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা। ওই সভায় দেওয়া সুপারিশগুলো মেনে সংশোধিত উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাব (আরডিপিপি) পুনর্গঠন করায় একনেকে উপস্থাপনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।

একনেকের জন্য তৈরি প্রকল্পের সার সংক্ষেপে পরিকল্পনা কমিশনের শিল্প ও শক্তি বিভাগের সদস্য (সচিব) প্রদীপ রঞ্জন চক্রবর্তী কমিশনের মতামত দিতে গিয়ে বলেন, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে রংপুর বিভাগে বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের অধীন এলাকায় ২০৩০ সাল পর্যন্ত নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ সরবরাহের সহায়ক অবকাঠামো নির্মিত হবে। এ বিবেচনায় প্রকল্পটির সংশোধনী প্রস্তাব একনেকে উপস্থাপনের সুপারিশ করা হয়েছে।

যেসব এলাকায় বাস্তবায়িত হচ্ছে

প্রকল্পটি রংপুর বিভাগের আটটি জেলার ২৬টি উপজেলা, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকায় বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এলাকাগুলো হচ্ছে— রংপুর সদর উপজেলা; কুড়িগ্রাম সদর উপজেলা; লালমনিরহাট জেলার লালমনিরহাট সদর, কালিগঞ্জ, হাতিবান্ধা ও পাটগ্রাম উপজেলা; নীলফামারী জেলার ডিমলা, দেবীগঞ্জ ও কিশোরগঞ্জ উপজেলা; গাইবান্ধা জেলার গাইবান্ধা সদর, সুদুল্লাপুর, সাঘাটা, ফুলছড়ি, গোবিন্দগঞ্জ ও পলাশবাড়ী উপজেলা; দিনাজপুর জেলার দিনাজপুর সদর, পার্বতীপুর, বেচাগঞ্জ ও ফুলবাড়ী ‍উপজেলা; ঠাকুরগাঁও জেলার ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলা এবং পঞ্চগড় জেলার পঞ্চগড় সদর ও তেঁতুলিয়া উপজেলা।

সংশোধনের কারণ

বিদ্যুৎ বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের পরিমাণ ও ব্যয়ের হ্রাস-বৃদ্ধি, বিজ্ঞাপন-সভা খরচ-আপ্যায়নসহ আনুষাঙ্গিক ব্যয় বৃদ্ধি, ইন্টারনেট ডিউরিং কন্সট্রাকশন (আইডিসি) নামে দু’টি নতুন অঙ্গ বরাদ্দসহ অন্তর্ভুক্তি, ফ্রেইট অ্যান্ড ইন্স্যুরেন্স এবং চার্জ অব ইলেকট্রিসিটি ডিউরিং কনস্ট্রাকশন নামে দু’টি কম্পোনেন্ট বাদ দেওয়া এবং প্রকল্পটি মেয়াদ ছয় মাস বাড়ায় সংশোধনের প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে।

প্রধান প্রধান কার্যক্রম

প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুস ১৮টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে। এছাড়া বিদ্যমান ছয়টি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্র আপগ্রেডেশন, নতুন করে এক হাজার ৯৮২ কিলোমিটার বিতরণ লাইন রেনোভেশন এবং পিসি পোল ফ্যাকটরি স্থাপন করা হচ্ছে।

সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য

গত জুন মাসে শেষ  হওয়া সপ্তম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনায় বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের আওতায় ১৪ হাজার ২০০ কিলোমিটার নতুন লাইন নির্মাণের লক্ষ্য ছিল। এছাড়া ১১৫টি সাব-স্টেশন নির্মাণ বা আধুনিকায়ন, ১৪ লাখ নতুন গ্রাহককে সংযোগ দেওয়া এবং ৯ দশমিক ৮ শতাংশ সিস্টেম লস কমানোর লক্ষ্য ছিল। এ প্রকল্পটির মাধ্যমে নতুন উপকেন্দ্র নির্মাণ, পুরনো উপকেন্দ্র আপগ্রেডেশন, নতুন করে লাইন স্থাপন ও পুরনো লাইন রেনোভেশন করা হচ্ছে। তাই এ প্রকল্পটি সরকারের পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনার লক্ষ্য পূরণে ভূমিকা রাখবে।

সারাবাংলা/জেজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন