বিজ্ঞাপন

‘ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায় উপকূলের মানুষ’

July 14, 2020 | 4:45 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ‘ত্রাণ নয়, টেকসই বেড়িবাঁধ চায় উপকূলের মানুষ।’ উপকূলের টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণের এক জাতীয় সংলাপে এমন দাবি উঠে আসে। এ সময় পানিসম্পদ উপমন্ত্রী টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প নেওয়ার কথা জানান। যে প্রকল্পগুলোর কাজ চলতি অর্থবছরেই শুরু হবে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি (ডিআরইউ) মিলনায়তনে ‘উপকূলে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে জরুরি করণীয়’ শীর্ষক জাতীয় সংলাপে এ দাবি উঠে আসে।

সংলাপে পানিসম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, ‘ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণে ৮ হাজার কোটি টাকার ৪টি প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছরে এসব প্রকল্পের কাজ শুরু হবে, যা আগামী দুই থেকে তিন বছরের মধ্যে শেষ হবে।’ এছাড়া উপকূল উন্নয়ন বোর্ড গঠনের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে বলে তিনি জানান।

বিজ্ঞাপন

সংলাপে গৃহীত সুপারিশে বলা হয়, জলবায়ু পরিবর্তন ও দুর্যোগকে মাথায় রেখে স্থায়ী ও মজবুত বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে, যার নিচে ১০০ ফুট, উপরে ৩০ ফুট এবং যার উচ্চতা হবে ৩০ ফুট। বাঁধ রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি তহবিল গঠন ও বাঁধ ব্যবস্থাপনায় স্থানীয় সরকারকে সম্পৃক্ত করতে হবে। ওয়াপদা বাঁধের ১০০ মিটারের মধ্যে চিংড়ি বা কাঁকড়ার ঘের তৈরিতে সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞা দ্রুত কার্যকর করতে হবে। উপকূলীয় জনগণের নিরাপদ খাবার পানির টেকসই ও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।

সংলাপে পরিবেশ ও নাগরিক আন্দোলনের প্রতিনিধিরা বলেন, উপকূলীয় অঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা নির্ভর করে বেড়িবাঁধের ওপর। বাঁধের ক্ষতি হলে তাদের সবকিছু ভেসে যায়। বাড়িঘর নষ্ট হয়, ফসলের ক্ষতি হয়। তাই ওই অঞ্চলের মানুষের কাছে জরুরি খাবার না দিয়ে বাঁধটা শক্ত করে বানিয়ে দেওয়ার দাবিটাই প্রধান।

বিজ্ঞাপন

তারা বলেন, এই মুহূর্তে বাঁধের ফাঁদ জনজীবন বিপন্ন করে তুলেছে। পরিকল্পনা হয়, বাজেট হয়, কিন্তু স্থায়ী ও শক্তিশালী বেড়িবাঁধ হয় না। বিভিন্ন সময়ে বাঁধ সংস্কারে যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়, তা বাস্তবায়নে চরম অনিয়ম হয় বলে দাবি করেন তারা।

সংলাপে অংশ নেন খুলনা-৬ (পাইকগাছা-কয়রা) আসনের সংসদ সদস্য মো. আক্তারুজ্জামান বাবু, সাবেক সংসদ সদস্য মো. নবী নেওয়াজ, ডিআরইউ’র সভাপতি রফিকুল ইসলাম আজাদ, বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা) যুগ্ম সম্পাদক মিহির বিশ্বাস, নৌ সড়ক ও রেলপথ রক্ষা জাতীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে, জনউদ্যোগের তারিক হোসেন, ফেইথ ইন অ্যাকশনের নৃপেন বৈদ্য, লিডার্সের সানজিদুল হাসান, সাংবাদিক আব্দুল্লাহ মুয়াজ প্রমুখ।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসএ/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন