বিজ্ঞাপন

বগুড়ায় অনলাইন কোরবানির হাট চালুর উদ্যোগ

July 15, 2020 | 9:59 pm

আমজাদ হোসেন মিন্টু, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

বগুড়া: করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে রাখতে বগুড়ায় অনলাইনে কোরবানি পশু বেচাকেনার উদ্যোগ নিয়েছে জেলা প্রশাসন। ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে অনলাইনে তথ্য সরবরাহের কাজ। ফেসবুকে ‘অনলাইন কোরবানি পশুর হাট, বগুড়া’ নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। যেখানে স্থানীয় খামারি ও পশু পালনকারী ক্ষুদ্র কৃষক যুক্ত থাকতে পারবেন। অনলাইন কেনাকাটায় খামারি ও ক্রেতা উভয়ের স্বার্থ এবং নিরাপত্তা বজায় রাখার ব্যাপারটিকে গুরুত্ব দিয়ে দেখছে জেলা প্রশাসন। মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জেলার প্রাণী সম্পদ কার্যালয়ের পক্ষ থেকে অনলাইনে পশুর দাম, ছবি ও বিক্রেতার ঠিকানা সংযুক্ত করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

প্রাণী সম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, অনলাইন প্ল্যাটফর্মে কোরবানির পশু, খামারি ও ক্ষুদে কৃষকদের প্রয়োজনীয় তথ্য আপলোড করা হচ্ছে। অনলাইন পশুর হাট কার্যকর করা গেলে করোনা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণ করা যাবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

করোনাভাইরাস সংক্রমণে উত্তরের জেলাগুলোর মধ্যে বগুড়া শীর্ষে। আক্রান্তের সংখ্যা প্রায় পৌনে ৪ হাজার এবং মারা গেছেন ৭২ জন। প্রাণী সম্পদ বিভাগের দাবি, এবার রোজার ঈদের পর সংক্রমণ বেড়ে গেছে এবং এখনও ৯টি উপজেলায় লকডাউন চলছে। একারণে কোরবানি ঈদে অনলাইন পশুর হাটকে গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

জেলা প্রশাসক মোঃ জিয়াউল হক জানান, এবার পশুর হাটে বাড়তি সর্তকতা অবলম্বন করা হয়েছে। প্রতিটি হাটে প্রবেশ ও বের হওয়ার আলাদা পথ থাকবে।  হাটে না গিয়ে অনলাইনে পশু কেনার ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এতে ক্রেতা ও বিক্রেতা উভয়ই নিরাপদ থাকবেন।

জেলা প্রশাসক আরও জানান, জেলায় এবার কোরবানিযোগ্য পশু আছে ৩ লাখ ৭৬ হাজার। অনলাইন পশুর হাট কার্যকর করার ব্যাপারে প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করা হচ্ছে।

অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে খামারিরা কোরবানির পশু  জেলার বাইরে পাঠাতে পারবেন।  বগুড়ায় বেশ কয়কজন খামারি আগে থেকেই অনলাইনের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন স্থানে গরু বিক্রি করেন। এদের একজন বগুড়া সদরের সাবগ্রাম এলাকার খোরশেদ আলম জানান, এবার তিনি অনলাইনের  ১৩ টি গরু বিক্রি করেছেন। এখনো ১২টি গরু রয়েছে। এগুলোর একেকটির দাম ৫ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত। তবে করোনার কারণে গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার চাহিদা কিছুটা কম বলে জানান তিনি।

বগুড়া জেলা প্রাণী সম্পদ কর্মকর্তা ডা. রফিকুল ইসলাম তালুকদার জানান, বগুড়ায় প্রায় ৪০ হাজার ৮শ খামার রয়েছে। ৩টি বেশি পশু পালন করেন এমন ব্যক্তি খামারির আওতাভুক্ত। এর বাইরে অনেক পরিবার গরু ছাগল পালন করেন। ইউনিয়ন পর্যায় থেকে লাইভ স্টক সার্ভিস প্রোভাইডার (এলএসপি) ও কমিউিনিটি এক্সটেনশন এজেন্ট ফর লাইভস্টক (সিল) সদস্যরা খামারি ও কৃষকদের কাছ থেকে কোরবানিযোগ্য পশুর তথ্য, ছবি এবং বিক্রেতার মোবাইল নম্বর সংগ্রহ করছেন।

বগুড়ার পুলিশ সুপার আলী আশরাফ ভূইঞা জানান, জেলার কোরবানির হাটগুলোতে একটি খুঁটির সঙ্গে একটি গুরু থাকবে। এছাড়া অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি কঠোরভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ডা. মোস্তাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, করোনা সংক্রমণ নিয়স্ত্রণে কোরবানির পশুর হাটে যথাযথ ব্যবস্থা নেয় হচ্ছে। তবে অনলাইন পশুর হাট চালু হলে স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও কমে যাবে।

সারাবাংলা/টিসি

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন