বিজ্ঞাপন

ডাক্তারের বিরুদ্ধে মামলা, আন্দোলন ও প্রতিরোধের ঘোষণা বিএমএর

July 16, 2020 | 12:59 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে মারামারির ঘটনায় ১১ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন (বিএমএ) চট্টগ্রাম শাখা। মামলা প্রত্যাহার না হলে ‘আন্দোলন ও প্রতিরোধের’ ঘোষণা দিয়েছে বিএমএ।

বিজ্ঞাপন

গত রোববার (১২ জুলাই) সকালে চমেক হাসপাতালে চিকিৎসা সরঞ্জাম বিতরণের জন্য যান স্থানীয় সাংসদ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল। কর্মসূচি শেষে তিনি হাসপাতাল ত্যাগের পর নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন ও নওফেলের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের মধ্যে মারামারি হয়। এতে দুই পুলিশসহ অন্তঃত ১৩ জন আহত হয়।

এই ঘটনায় পরদিন নওফেলের অনুসারী চমেক ছাত্রলীগের নেতা খোরশেদুল আলম বাদী হয়ে ১১ চিকিৎসকসহ ৩৬ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলার আসামিদের মধ্যে আছেন, চিকিৎসক সোহেল পারভেজ সুমন, হিমেল চাকমা, সায়েম তানভীর, ওয়াসিম সাজ্জাদ রানা, হাবিবুর রহমান, এম আউয়াল রাফি, ওসমান গণি, ফয়সাল আহমেদ, তাজওয়ার রহমান অয়ন, আরমানউল্লাহ চৌধুরী ও নাবিদ তানভীর এবং চমেক ছাত্র শাহরিয়ার মো. রাহাতুল ইসলাম, আল আমিন ইসলাম শিমুল, সোয়েব আলী খান, ওয়াহিদ মুরাদ শাহীন ও মাহাদি বিন হাশিম। আসামিরা সবাই মেয়র নাছিরের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. মো. রবিউল করিমের পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গত ১২ জুলাই সকাল ১০টায় চমেক হাসপাতালে সদ্য পাস করা ইন্টার্ন ডাক্তারদের একটি অনুষ্ঠান হওয়ার কথা ছিল, যাতে অতিথি হিসেবে আমন্ত্রিত ছিলেন বিএমএ চট্টগ্রাম শাখার সভাপতি ডা. মুজিবুল হক খান। সকালে আয়োজকরা জানতে পারেন, শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল একটি কর্মসূচিতে যোগ দিতে চমেক হাসপাতালে যাবেন। তখন অনুষ্ঠানটি পিছিয়ে দুপুর ১২টায় করা হয়। উপমন্ত্রী হাসপাতালে যাবার পর চমেক ছাত্র সংসদের নেতারা মতবিনিময়ও করেন।

কিন্তু কর্মসূচি শেষে উপমন্ত্রী হাসপাতাল পরই উপস্থিত চিকিৎসক, ইন্টার্ন ডাক্তার ও চমেক ছাত্র সংসদের নেতাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে দাবি করে বিএমএ বলেছে, এর সঙ্গে একদল বহিরাগত সন্ত্রাসী জড়িত। পরিস্থিতি ঘোলাটে করার জন্য বহিরাগত সন্ত্রাসীরা এই হামলা ঘটনা ঘটিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

বিএমএ আরও বলছে, হামলার পর একাধিক চিকিৎসক ও চমেক ছাত্র সংসদের নেতাদের নামে একটি মামলা করা হয়েছে, যা মিথ্যা, হাস্যকর, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। চিকিৎসক সমাজের ঐক্য নষ্ট করতে এই মামলা করা হয়েছে বলে দাবি বিএমএর।

বিএমএ এই মামলা প্রত্যাহার করে হামলায় জড়িত বহিরাগতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হওয়া একটি গ্রুপ চ্যাটের স্ক্রিনশটে শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের সম্মানহানির অভিযোগ এনে চিকিৎসক নেতা মোহাম্মদ ফয়সল ইকবাল চৌধুরীর বিরুদ্ধে পাঁচলাইশ থানায় আরেকটি এজাহার জমা দেন চমেক ছাত্র অভিজিৎ দাশ। ফয়সাল ইকবাল চৌধুরী বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশন, চট্টগ্রাম শাখার সাধারণ সম্পাদক। তিনিও মেয়র নাছিরের অনুসারী। তবে মামলাটি গ্রহণ করা হয়নি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিএমএ অভিযোগ করেছে, ফয়সল ইকবালের বিরুদ্ধে মামলার চেষ্টার সঙ্গেও বহিরাগতরা জড়িত। অথচ ঘটনার দিন তিনি ঢাকায় ছিলেন।

বিজ্ঞাপন

চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ‘মামলা-ষড়যন্ত্র’ বন্ধ না হলে দুর্বার আন্দোলন ও প্রতিরোধ গড়ে তোলা হবে বলে জানিয়েছে বিএমএ।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন