বিজ্ঞাপন

নারী নির্যাতনের অভিযোগ: আত্মসমর্পণের সিদ্ধান্ত সিপিবি নেতার

July 25, 2020 | 11:10 am

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: সিপিবি’র অফিসে কথিত নির্যাতনের অভিযোগ মিথ্যা-বানোয়াট-ভিত্তিহীন এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির ডেমরা শাখার সম্পাদক এস এম শুভ। তিনি বলেন, ‘আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অতি শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করব। যথাযথ সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সুরাহা হবে এবং নিশ্চিতভাবেই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হবো।’

বিজ্ঞাপন

শুক্রবার (২৪ জুলাই) রাতে একটা বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে এসব তথ্য জানান শুভ।

তিনি বলেন, ‘গত ১৬ জুলাই কলাবাগান থানায় আমার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় উল্লেখিত সকল অভিযোগ কল্পিত, মিথ্যা-বানোয়াট। আমাকে রাজনৈতিক ও সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করা এবং হেনস্থা করার হীন উদ্দেশ্যে এই মামলা দায়ের করা হয়েছে। দায়েরকৃত মামলার প্রেক্ষাপটে বিভিন্ন গণমাধ্যমে ও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনার পরিপ্রেক্ষিতে স্বাভাবিকভাবেই আমার পরিচিত অনেকেই বিভ্রান্তির মধ্যে আছেন। বাস্তবিক নানা সীমাবদ্ধতার কারণে আমার পক্ষে নিজের অবস্থান সম্পূর্ণরুপে তুলে ধরা সম্ভব হয়নি। আইনগত বিষয়টি মাথায় রেখেই যতটুকু সম্ভব আমার বক্তব্য তুলে ধরার চেষ্টা করছি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, ‘আমি জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতির দায়িত্বে ছিলাম। পরবর্তী সময়ে ছাত্র ইউনিয়ন কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতির দায়িত্বও পালন করি। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর শেষ করে আমি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক সদস্য হিসেবে এখন পর্যন্ত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছি। এর অংশ হিসেবেই আমি ডেমরায় লতিফ বাওয়ানী জুট মিলস্‌ শ্রমিক ইউনিয়নের সহকারী সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মার্চ ২০২০ পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করি। পরবর্তীতে ক্ষেতমজুর সমিতির কুমিল্লায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতির কাজের সাথে যুক্ত হই। নিজের জীবন যাপনের ক্ষেত্রে নীতি-নৈতিকতা ও আদর্শকেই সবসময় অবলম্বন করেছি। আর সে কারণেই সারাদেশে অসংখ্য শুভানুধ্যায়ীদের কাছে আমার সৎ ও স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। বাদীর দায়েরকৃত মামলার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশিত হওয়ায় স্বাভাবিকভাবেই শুভানুধ্যায়ী মহল বিভ্রান্তিতে রয়েছেন।’

মামলায় উল্লেখিত অভিযোগ আমাকে বিস্মিত ও মর্মাহত করেছে। ‘ব্যবসা করা’র উদ্দেশ্যে ‘যৌতুক’ এর দাবি সংক্রান্ত অভিযোগটি কল্পনাপ্রসূত এবং সম্পূর্ণ অবান্তর। যা ঘটেনি সে বিষয়ে ব্যাখ্যা বা বক্তব্য দেওয়া সম্ভব নয়। এ প্রসঙ্গে শুধু উল্লেখ করতে চাই, বাদী ইতিপূর্বে গত ৩০ জুন বাংলাদেশ ক্ষেতমজুর সমিতি বরাবর আরো একটি লিখিত অভিযোগ প্রদান করেন। অভিযোগপত্রের কোথাও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের প্রসঙ্গটি উল্লেখ করা হয়নি। পরবর্তীতে গত ১০ জুলাই অভিযোগকারি সশরীরে হাজির হয়ে ক্ষেতমজুর সমিতির নেতাদের কাছে অভিযোগের বিষয়ে ঘণ্টাব্যাপী বিশদ বর্ণনা দেন। কিন্তু কোথাও যৌতুকের দাবিতে নির্যাতনের কিংবা অতীতে কোনো নির্যাতনের প্রসঙ্গ উল্লেখ করেননি। বিষয়টি কৌতূহলের জন্ম দেয় এবং অভিযোগের সত্যতা ও গ্রহণযোগ্যতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।

বিজ্ঞাপন

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ২০১৫ সাল থেকে আমি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির সার্বক্ষণিক কর্মী এবং এখনও সেই সিদ্ধান্তে অটল রয়েছি। ফলে ব্যবসা করার প্রসঙ্গটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

সিপিবি অফিসে বাদীকে ‘নির্যাতনের’ বিষয়টি সম্পূর্ণ মিথ্যা-ভিত্তিহীন এবং গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মনে করছি। বিগত ১ বছর যাবৎ আমি বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টির অফিসে বাস করছি। বাদী ইতিপূর্বেও অসংখ্যবার সিপিবি অফিসে এসে আমাকে ব্ল্যাকমেল ও বিভিন্ন সিনক্রিয়েট করার চেষ্টা করলেও সর্বদাই তাকে নিবৃত্ত করার চেষ্টা করেছি। ইতিপূর্বে তিনি পার্টি অফিসের ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্মহত্যার হুমকিও প্রদান করেন। উল্লেখ্য গত ২১ জুন রাতে আমার রুমের সামনে প্যারাডাইস ক্যাবলসের শতাধিক আন্দোলনরত শ্রমিক অবস্থান করছিলেন। আমার রুম বরাবর এবং নিচতলা পর্যন্ত সিসি ক্যামেরা রয়েছে, যা পর্যবেক্ষণ করলেই ‘নির্যাতনের’ ভিত্তিহীন অভিযোগটি সহজেই মিথ্যা হিসেবে প্রমাণিত হবে। এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন জাগে যে, তিনি যদি ২১ জুন উল্লেখিত নির্যাতনে আহত হয়ে থাকেন তাহলে চিকিৎসা নিতে হাসপাতালে না যেয়ে বাসায় গেলেন কেন? পরবর্তীতে ঢাকা মেডিকেল কলেজে যান ঘটনার চার দিন পর গত ২৫ জুন। এ বিলম্বের বিষয়টিও সন্দেহের উদ্রেক করে। কেননা তিনি নিজেই নিজের ক্ষতিসাধন করার মাধ্যমে উদ্দেশ্য হাসিল করার জন্য ইতিপূর্বে বহু ঘটনার জন্ম দিয়েছিলেন যার সাক্ষী হয়ে আছেন তার পরিচিত অনেকেই। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, ইতিপূর্বে অসংখ্যবার ঘুমের ঔষধ খাওয়া, স্যাভলন পান, এন্টিকাটার দিয়ে হাত কাটা, ছাদ থেকে লাফিয়ে পড়ার চেষ্টা করার মতো প্রভৃতি ঘটনাকে ব্যবহার করেছেন নিজের উদ্দেশ্য চরিতার্থে। মামলার বাদীর সঙ্গে আমার বিয়ের ঘটনাটিও অস্বাভাবিক এবং জবরদস্তিমূলক যা ফৌজদারি অপরাধও বটে।

বিজ্ঞাপন

পূর্ব পরিচয়ের সূত্রে বাদী গত ১৩ জুন আমাকে পরিকল্পনার অংশ হিসেবে মগবাজারে নিয়ে যান। নিজের ব্যাগ থেকে কেরোসিনের বোতল বের করে গায়ে ঢেলে আগুন লাগিয়ে আত্মহত্যার হুমকি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে বিয়ে করার জন্য চাপ দিতে থাকেন। সেখানে উপস্থিত বাদীর দু’জন সাবেক সহকর্মীর সহযোগিতায় আমাকে বল প্রয়োগের মাধ্যমে বিয়ের প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে বাধ্য করেন। বিয়েতে আমার পরিবারের এমনকি আমার পরিচিত কোনো ব্যক্তি উপস্থিত ছিলেন না। দু’জনের সামাজিক অবস্থানের কথা চিন্তা করে আমি কোনো আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করি নি। কিন্তু আমি কোনোভাবেই বিয়ের বিষয়টি মেনে নিতে পারি নি। সে কারণেই তিনি আমাকে ও আমার পরিবারকে নিয়মিতভাবে হয়রানি করা, আত্মহত্যা ও মামলার হুমকি এবং ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে আসছিলেন দীর্ঘ সময় ধরে।

আজ থেকে ৬ মাস পূর্বে বাদীকে আমি সমঝোতার ভিত্তিতে ডিভোর্স প্রক্রিয়া শুরু করার প্রস্তাব দিলে তিনি ভয়াবহ মানসিক নির্যাতন শুরু করেন এবং যত্র-তত্র হেনস্তা করতে থাকেন ও মামলার হুমকি প্রদান করেন। তাই আমি মনে করি গত ২১ জুনের ঘটনাটি বাদীর পূর্ব পরিকল্পিত যেন আমি ডিভোর্সের প্রক্রিয়া শুরু করতে না পারি। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, গত ১৯ জুলাই আমি বাদীকে ডিভোর্সের নোটিশ পাঠিয়েছি যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। তাই আমি মনে করি ডিভোর্সের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে এবং আমার রাজনৈতিক অবস্থান ও সুনাম নষ্ট করতেই বাদী প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে ‘যৌতুক’ ও ‘নির্যাতন’ এর মত জঘন্য অপরাধের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছেন।

বিজ্ঞাপন

‘নির্যাতন’ প্রসঙ্গে বাদীর অভিযোগকে সুকৌশলে ব্যবহার করে ষড়যন্ত্রকারীরা নিজদের এজেন্ডা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে সিপিবি'র অফিসকে টার্গেট করেছে। সিপিবি'র আদর্শিক রাজনৈতিক অবস্থানকে বিতর্কিত করতেই সুযোগসন্ধানীরা নোংরা অপপ্রচারে লিপ্ত রয়েছে। এ বিষয়ে সজাগ ও সচেতন থাকার জন্য গণমাধ্যম ও সচেতন মহলের প্রতি বিশেষ অনুরোধ জানাচ্ছি।

সমাজে নারীরা আজও বহুমাত্রিক নির্যাতন ও সহিংসতার শিকার যার বিরুদ্ধে আমার সুস্পষ্ট রাজনৈতিক অবস্থান এবং ভূমিকা রয়েছে। দায়েরকৃত মামলার ধারা ১১(গ) প্রকৃত অর্থে যৌতুকের দাবিতে নির্যাতিত নারীদের বিচার পাওয়া ও সুরক্ষার লক্ষ্যে প্রণীত। মিথ্যা অভিযোগের ভিত্তিতে ১১ (গ) ধারার অপব্যবহার প্রকৃত নির্যাতিতদের বিচার পাওয়ার প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করবে এ আশঙ্কা করি। আমি আশা করছি বাদীর শুভবুদ্ধির উদয় ঘটবে এবং তিনি তার দায়েরকৃত মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করে নেবেন।

আমি দেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। আইনগত প্রস্তুতি সম্পন্ন করে অতি শীঘ্রই আত্মসমর্পণ করব। যথাযথ সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই অভিযোগের সুরাহা হবে এবং নিশ্চিতভাবেই আমি নির্দোষ প্রমাণিত হবো।

সারাবাংলা/ইউজে/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন