বিজ্ঞাপন

বুয়েটে কমিটি: ছাত্রদলের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ যাচ্ছে আজ

July 27, 2020 | 6:38 pm

রাহাতুল ইসলাম রাফি, ঢাবি করেসপন্ডেন্ট

আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের পর শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে গত বছরের ১১ অক্টোবর বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বুয়েট) সব ধরনের সাংগঠনিক ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা করে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তবে ১০ মাস পেরোতে না পেরোতেই বুয়েট কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের তোয়াক্কা না করে বিশ্ববিদ্যালয়টিতে আহ্বায়ক কমিটি গঠন করেছে বিএনপির ভ্রাতৃপ্রতিম ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রদলের এমন কর্মকাণ্ডকে বুয়েটের নিয়ম-নীতি ও সিদ্ধান্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক জানিয়ে ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে’ অংশগ্রহণকারীদের বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে বুয়েট কর্তৃপক্ষ। এ বিষয়ে আজকেই ছাত্রদলের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে বলে সারাবাংলাকে জানিয়েছেন বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার।

গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) দিবাগত রাতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারির সই করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েটের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। কমিটির আহ্বায়ক আসিফ হোসেন রচি, যুগ্ম-আহ্বায়ক ফয়সাল নূর। এ ছাড়া আলী আহমদকে সদস্য সচিব এবং নওরোজ রহমান ইমন ও মুসাওয়ার আহমেদ শফিককে সদস্য রাখা হয়েছে কমিটিতে।

বিজ্ঞাপন

একই বিজ্ঞপ্তিতে বুয়েট ছাড়া অন্য তিনটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও আংশিক কমিটি গঠন করার কথা জানায় ছাত্রদল। সেগুলো হলো— ঢাকা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (ডুয়েট), ইডেন মহিলা কলেজ ও স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ। বিজ্ঞপ্তিতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সভাপতি কেন্দ্রীয় সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামল এই চারটি আংশিক কমিটিকে অনুমোদন দিয়েছেন বলে উল্লেখ করা হয়।

কমিটি ঘোষণার পরদিন বিষয়টি নজরে এসেছে উল্লেখ করে যথাযথ নিয়ম অনুসরণ করে ‘শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপে অংশগ্রহণকারী’ শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানায় বুয়েট কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়টির ছাত্রকল্যাণ পরিদফতর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘বুয়েটে বিদ্যামান আইন অনুসারে রাজনৈতিক দলের ছাত্র সংগঠনের কর্মকাণ্ড অংশগ্রহণ করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ।’

কমিটি ঘোষণা প্রসঙ্গে জানতে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি ফজলুর রহমান খোকন ও সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন শ্যামলের মোবাইল ফোনে বারবার কল করা হলেও তারা রিসিভ করেননি। তবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দফতর সম্পাদক আবদুস সাত্তার পাটোয়ারি সারাবাংলাকে বলেন, বুয়েট কর্তৃপক্ষ সেখানে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ করেছে। কিন্তু আমরা মনে করি, ছাত্রদের অধিকার, দাবি-দাওয়ার কথা বলার জন্য সেখানে একটি কমিটি থাকার প্রয়োজন আছে। সে কারণেই আমরা আহ্বায়ক কমিটি দিয়েছি।

এদিকে ছাত্রদলের সদ্য ঘোষিত বুয়েট কমিটির আহ্বায়ক ২০০৮-০৯ সেশনের শিক্ষার্থী আসিফ হোসেন রচির কাছে তার নিজের ও কমিটির অন্য সদস্যদের ছাত্রত্ব আছে কি না, জানতে চাইলে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে ছাত্রদলের একটি সূত্র জানিয়েছে, আহ্বায়ক আসিফসহ কমিটির আরও কয়েকজনের ছাত্রত্ব এখনো বিদ্যমান।

কমিটি ঘোষণার পর বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতর থেকে একজন শিক্ষক যোগাযোগ করেছে জানিয়ে বুয়েট ছাত্রদলের আহ্বায়ক আসিফ হোসেন রচি সারাবাংলাকে বলেন, ‘ছাত্রকল্যাণ পরিদফতর থেকে ফারজাদ স্যার আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন। পদপ্রাপ্তি ও তা গ্রহণ করছি কি না— এই ব্যাপারে সাধারণ কিছু কথাবার্তা হয়েছে। এর বাইরে কোনো কথা হয়নি।’

ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে বুয়েটের ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান সোমবার (২৭ জুলাই) সকালে সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি, এদের কারোর ছাত্রত্ব নেই। আমরা একটি প্রক্রিয়ার মধ্যে আছি। তাদের শনাক্ত করতে একটু সময়ের প্রয়োজন আছে। সব ঠিকঠাক জেনে তারপর বিধি অনুযায়ী তাদের ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

তবে বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার সারাবাংলাকে জানিয়েছেন, ছাত্রসংগঠনের রাজনীতি নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও বুয়েটে কমিটি গঠনের কারণে ছাত্রদলের কাছে আজ সোমবারই কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে।

বুয়েট উপাচার্য বলেন, ‘আজই ছাত্রদলের কাছে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হবে। এরপর বাকি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’ তবে ছাত্রদলের শিক্ষার্থীদের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে— জানতে চাইলেও পরিষ্কার কিছু বলেননি বুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক সত্যপ্রসাদ মজুমদার।

শাস্তির বিষয়ে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ পরিদফতরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘এটা তো আমার একজনের সিদ্ধান্তে হবে না। এ সংক্রান্ত কমিটি আছে আমাদের। আলোচনার মাধ্যমে কমিটিই ব্যবস্থা নেবে।’

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন