বিজ্ঞাপন

‘পাটকলগুলো যতদ্রুত সম্ভব উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে’

July 28, 2020 | 3:08 pm

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: অবসায়নের পরে দেশের পাটকলগুলো তথা মিলগুলোকে সরকারি নিয়ন্ত্রণে পাবলিক প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি), যৌথ উদ্যোগ জিটুজি বা লিজ মডেলে পরিচালনার মাধ্যমে যত দ্রুত সম্ভব আবার উৎপাদনে ফিরিয়ে আনা হবে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে তেজগাঁওয়ের জেডিপিসি সম্মেলন কক্ষে এক মতবিনিময়সভায় তিনি এসব কথা বলেন। রাষ্ট্রায়ত্ব পাটকলসমূহে বিরাজমান পরিস্থিতির স্থায়ী সমাধান এবং পাটখাতকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে সরকারি সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন প্রসঙ্গে এই সভার আয়োজন করা হয়।

আবুল কালাম বলেন, ‘পিপিই নিয়ে আমাদের ভালো-মন্দ দুটোই অভিজ্ঞতা আছে। তবে কিভাবে পাটকলগুলোকে আবার উৎপাদনমুখি করা হবে সেজন্য একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। সেটা নিয়ে আমাদের কাজ চলছে। এছাড়া পাটকলগুলো কিভাবে আছে তথা কি কি সম্পদ রয়েছে সেগুলোর একটি তালিকা করতে জেলা প্রশাসকের একজন প্রতিনিধি এবং বিজেএমসির প্রতিনিধিসহ একটি কমিটি করা হয়েছে। তারা কাজ করে যাচ্ছে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, বিজেএমসিকে পুনগঠন করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছে। বিজেএমসির কর্মকর্তা-কর্মচারীকে অবশ্যই জবাবদিহিতার আওতায় আনা হবে। এছাড়া ২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত শ্রমিকদের ৮ হাজার ৯৫৪ জনের সকল বকেয়া, বর্তমানে কর্মরত ২৪ হাজার ৮৮৬জন শ্রমিকের বকেয়া মজুরি, শ্রমিকদের পিএফ জমা, গ্র্যাচুইটির ২৭ শতাংশ অবসর সুবিধা পরিশোধ করা হবে। সেজন্য সরকার ৫ হাজার কোটি টাকা দিয়েছে।’

মতবিনিময়সভায় বিজেএমসির সচিব এহতেশামুল হক বলেন, ‘বর্তমানে পাটপণ্য উৎপাদনে বিজেএমসির অবদান মাত্র ৮.২১ শতাংশ। রফতানিতে এ হার আরও কম ৪.৪৫ শতাংশ। প্রায় ৬০ থেকে ৭০ বছর আগের যন্ত্রপাতি দিয়ে স্থাপিত এসব মিলের কার্যক্ষমতা সময়ের ব্যবধানে শূণ্যের কোঠায় নেমে এসেছে। এছাড়া আর্থিক দূরাবস্থার কারণে চলতি ব্যয় মেটাতে সবার পিএফ ও গ্র্যাচুইটি তহবিলের জমা ভেঙে ফেলা হয়েছে। এমনকি ২০১৪ সাল থেকে অবসরপ্রাপ্ত প্রায় ৯ হাজার শ্রমিকের প্রাপ্য এবং বর্তমানে কর্মরত ২৫ হাজার শ্রমিকের মজুরির অংশ বিশেষও অর্থের অভাবে পরিশোধ করা সম্ভব হয়নি।’

বিজ্ঞাপন

তিনি আরও বলেন, ‘বিজেএমসি শ্রমিক আন্দোলন থামাতে বা আন্দোলনের অংশ হিসেবে শ্রমিকদের গেট মিটিং পরিচালনার জন্য বিজেএমসি কোনো অর্থ খরচ করেনি। এমনকি সিবিএ কার্যক্রম পরিচালনার জন্যও বিজেএমসি কোন অর্থ ব্যয় করেনি। এছাড়া নতুন মডেলে যেসব মিল চালু হবে সেখানে অবসায়নকৃত বর্তমান শ্রমিকরা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কাজের সুযোগ পাবে। একই সাথে এসব মিলে নতুন কর্মসংস্থানেরও সুযোগ সৃষ্টি হবে।’

শ্রমিকদের দাবি দাওয়া বিষয়ে এহতেশামুল হক আরও বলেন, ‘শ্রমিকদের চাকরি থেকে অবসান এবং পাটকলসমূহ বন্ধ ঘোষণার ক্ষেত্রে শ্রম আইনের সকল বিধান অনুসরণ করা হয়েছে। একই সাথে শ্রমিকদের পাওয়া পরিশোধে যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শ্রমিকদের ১ জুলাই থেকে অবসায়নের ক্ষেত্রে শ্রম আইনের বিধান অনুযায়ী ৬০ দিনের তথা নোটিশ মেয়াদের মজুরি ব্যতীত আর কোন দাবি-দাওয়া নেই।’ ইতোমধ্যে ৩০ দিনের মজুরি শ্রমিকদের দেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/এমও

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন