বিজ্ঞাপন

হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না— বিএনপিকে কাদের

July 28, 2020 | 4:44 pm

সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, সরকারের সমালোচনা ও মিথ্যাচার করা বিএনপির চিরায়ত ঐতিহ্য। তাই বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও মিথ্যাচার? বিএনপি আসলে অপরাজনীতির বৃত্ত থেকে বের হয়ে আসতে পারেনি। তিনি বলেন, ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্ধ হয়ে থাকলে সরকারের উদ্যোগ ও সহায়তা দেখতে পাওয়ার কথা নয়। হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না। বিএনপি না দেখলেও পুরো দেশ ও দুর্গত এলাকার মানুষ সরকারের মানবিক সহায়তার কার্যক্রম দেখছে ও উপকৃত হচ্ছে। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে সচিবালয়ে নিজ দফতরে ব্রিফিংকালে এ মন্তব্য করেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

বিজ্ঞাপন

বিদেশগামীদের করোনা পরীক্ষা নিয়ে এখনও কিছুটা বিভ্রান্তি রয়ে গেছে জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘অনেকেই টিকিট জমা দিয়ে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা আগে নমুনা দিচ্ছে পরীক্ষার জন্য। আবার কেউ কেউ ২৪ ঘণ্টা আগে রিপোর্ট পাচ্ছে, কেউ পাচ্ছে না। তাই বিদেশগামীদের ভোগান্তি কমাতে একটি যৌক্তিক সময় নির্ধারণ করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘সম্প্রতি লক্ষণ দেখা দিলেও অনেকেই নমুনা পরীক্ষা করাচ্ছেন না। কোন কোন হাসপাতালের সেবার মান নিয়ে প্রশ্ন ওঠা, নমুনা ফি নির্ধারণ ও নমুনা গ্রহণের দীর্ঘ লাইন, ফলাফল প্রদানে অপ্রয়োজনীয় সময়ক্ষেপণ ইত্যাদি কারণে পরীক্ষার প্রতি মানুষের অনীহা বাড়ছে। অপরদিকে টেলিমেডিসিনের আওতা বাড়ায় ঘরে বসে অনেকেই চিকিৎসা নিচ্ছেন। সাধারণ রোগীরা বিভিন্ন রোগ যন্ত্রণায় হাসপাতালে যাচ্ছেন না। রোগীদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে হাসপাতালগুলোকে দৃশ্যমান সেবার মান ও আন্তরিকতা বাড়াতে হবে।’

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, বন্যা দেশের উত্তরাঞ্চচল থেকে মধ্যাঞ্চল হয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের বিভিন্ন ধরনের সহায়তা দিতে প্রধানমন্ত্রী শুরু থেকেই নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বিএনপি মহাসচিব বন্যার্তদের সহায়তায় সরকারের কোনো ধরনের প্রয়াস খুঁজে পাচ্ছেন না। চোখে দেখছেন না। রাজধানীতে বসে বসে প্রেস ব্রিফিংয়ে মিথ্যাচার করলে দেখতে পাওয়ার কথাও না। বন্যা গুলশানে নয়, দেশের ৩১টি জেলাকে প্লাবিত করেছে। ঘরের দরজা জানালা বন্ধ ও উদ্দেশ্যমূলকভাবে অন্ধ হয়ে থাকলে সরকারের উদ্যোগ ও সহায়তা দেখতে পাওয়ার কথা নয়। হাতের তালু দিয়ে আকাশ ঢাকা যায় না। বিএনপি না দেখলেও দেশের মানুষ এবং দুর্গত এলাকার মানুষ সরকারের মানবিক সহায়তার কার্যক্রম দেখছে ও উপকৃত হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ইতোমধ্যে দেশের ৩১টি জেলায় বন্যার্তদের সহায়তায় এক হাজার ছয়শ তিনটি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এ সকল আশ্রয় কেন্দ্রে প্রায় ৯০হাজার মানুষ আশ্রয় নিয়েছে। গবাদি পশু আশ্রয় নিয়েছে প্রায় ৮২ হাজার। আশ্রয় কেন্দ্রে জরুরি চিকিৎসা সহায়তায় প্রায় নয়শ মেডিকেল টিম কার্যকর রয়েছে। নারী ও শিশুদের নিরাপত্তায় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। বিশেষ ব্যবস্থায় আশ্রয় নেওয়া মানুষের মাঝে রান্না করার খাবার বিতরণ করা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী সার্বক্ষণিক বন্যা পরিস্থিতি মনিটর করছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিচ্ছেন। বন্যায় ক্ষয়ক্ষতি নির্ধারণ এবং বন্যা পরবর্তী পুনর্বাসন কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। দেশের যেকোনো দুর্যোগে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ কখনো দূরে সরে থাকেনি। নিরাপদ দুরত্বে বসে বসে প্রেস বিফ্রিং করেনি। ছুটে গেছেন বিপদগ্রস্থ মানুষের মাঝে। সম্পৃক্ত হয়েছে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা ও মানবিক সহায়তায়। করোনার কর্মহীন মানুষের পাশে থেকে আওয়ামী লীগ যে দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে, তা নজিরবিহীন। একইভাবে শেখ হাসিনার নির্দেশে বন্যা দুর্গত মানুষের পাশেও দলীয় নেতাকর্মী ও জনপ্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক সক্রিয় রয়েছেন। মাটি ও মানুষের দল বলে দেশ ও দেশের মানুষের যেকোনো বিপদে সবার আগে এগিয়ে যাওয়া আওয়ামী লীগের ৭০ বছরের ঐতিহ্য।’

বিজ্ঞাপন

সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘মির্জা ফখরুল সাহেব আরও একটি কথা বলেছেন, বন্যা নাকি সরকারের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফল। বিষয়টি হাস্যকর। প্রত্যেকটি বিষয়ের সঙ্গে সরকারের সমালোচনা-মিথ্যাচার বিএনপির চিরায়ত ঐতিহ্য। তাই বলে প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়েও মিথ্যাচার অপরাজনীতির বৃত্ত থেকে বিএনপি বেরিয়ে আসতে পারেনি। আমি তার কাছে জানতে চাই, সম্প্রতি চীনের ইয়াংজি নদী অববাহিকার বন্যা কি চীনের নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ফল? জাপান ও আসামের বন্যাও কি একই কারণে? তাহলে বিএনপি আমলে যে বন্যা হয়েছিল তা কোন নতজানু পররাষ্ট্রনীতির কারণে হয়েছিল? জানাবেন কি?’

এর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রীভা গাঙ্গুলি দাস সচিবালয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন। এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ -ভারত সম্পর্ক অতীতের যেকোনো সময়ের চেয়ে এখন অধিকতর উষ্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ।’ সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী বাংলাদেশে অবস্থানকালে এবং সড়ক অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পসমূহ এগিয়ে নিতে ভারতীয় হাইকমিশনারকে ধন্যবাদ জানান।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এনআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন