বিজ্ঞাপন

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও আপলোড করায় মিশরে ৫ নারীর জেল

July 28, 2020 | 10:14 pm

রোকেয়া সরণি ডেস্ক

সামাজিক মাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করে 'পারিবারিক মূল্যবোধ' প্রভাবিত করার দায়ে মিশরের পাঁচ নারীকে সাজা দিয়েছেন সেদেশের একটি আদালত। পাঁচ নারীর প্রত্যেককে দুই বছরের জেল ও অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, সামাজিক মাধ্যম টিকটক ও ইনস্টাগ্রামে ভিডিও শেয়ার করে 'পারিবারিক নৈতিকতা বিনষ্টের' অভিযোগে মিশরের হানীন হোসাম ও মাওদা এলাদমসহ পাঁচ জনের বিরুদ্ধে ৯টি অভিযোগ আনে রাষ্ট্রপক্ষ। সোমবার (২৭ জুলাই) এসব মামলার রায় দেন আদালত। এতে প্রত্যেককে ২ বছরের কারাদণ্ড ও ৩ লাখ মিশরিয় ডলার জরিমানা করা হয়।

এর আগে, গত এপ্রিলে হানিন হোসামকে গ্রেফতার করা হয়। ১৩ লাখ ফলোয়ারের টিকটক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি ৩ মিনিটের একটি ভিডিও পোস্ট করে তিনি জানিয়েছিলেন, ফলোয়াররা তার সঙ্গে কাজ করে অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এছাড়া ব্যঙ্গাত্মক ভিডিও পোস্ট করার দায়ে গত মে মাসে গ্রেফতার হয়েছিলেন আল-আধম। তার টিকটকে একাউন্টে ফলোয়ার রয়েছে প্রায় ২০ লাখ। বাকি তিন নারী আল আধম ও হানিন হোসামকে সামাজিক মাধ্যমে তাদের কর্মকাণ্ড চালাতে সাহায্য করার অভিযোগে সাজা দেন আদালত।

বিজ্ঞাপন

মিশরের আদালতের এ রায়ে দেশটিতে রক্ষণশীল নীতির প্রভাব ফের স্পষ্ট হলো। এ রায়ের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন দেশটির উদারপন্থীরা।

আল আধমের আইনজীবী আহমেদ হামজা আল-বাহকিরি জানিয়েছেন, এ রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করা হবে। তিনি বলেন, এ ঘটনা ব্যক্তি স্বাধীনতা ও সামাজিক নৈতিকতার মধ্যকার পার্থক্য বিষয়ে কঠোর রক্ষণশীল মিশরে গভীর সামাজিক বিভক্তি স্পষ্ট করে তুলে ধরেছে।

প্রায় ১০ কোটি জনসংখ্যার মিশরের ৪০ শতাংশ নাগরিক ইন্টারনেট ব্যবহার করেন। সেদেশে তরুণ-তরুণিরাই মূলত ইন্টারনেটের সিংহভাগ ব্যবহার করেন। সামাজিক মাধ্যমে ব্যবহাররকারীর সংখ্যাও মিশরে উল্লেখযোগ্য।

নারী অধিকার নিয়ে কাজ করেন এমন আইনজীবী ইন্তিসার আল সাঈদ বলেন, এই রায় প্রত্যাশিত ছিল না। রায়টি আমাদের হতবাক করেছে। আপিলে কী হয় তা দেখার অপেক্ষায় আছি।

সারাবাংলা/আইই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন