বিজ্ঞাপন

ঈদেও বেতন-বোনাস নেই, ১১শ বাস-ট্রাকেও বদলায়নি বিআরটিসি

July 29, 2020 | 8:23 am

সাব্বির আহমেদ, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: ঈদ বোনাস দূরের কথা, এখনো সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ২৬টি ডিপোর প্রায় সবগুলোতেই গত মে মাস থেকে বেতন বন্ধ। ফলে মে-জুন-জুলাই— এই তিন মাস ধরেই বেতনহীন বিআরটিসির ঢাকাসহ সারাদেশের শ্রমিকরা। আর ঢাকার জোয়ারসাহারা ডিপোর বেতন বকেয়া পড়ে আছে এখনো আট মাস। ঈদুল আজহার যখন বাকি আর মাত্র তিন দিন, তখনো বকেয়া বেতনই বুঝে পাচ্ছেন না শ্রমিকরা। অথচ বিআরটিসি বহরে যুক্ত হয়েছে নতুন ১১শ বাস-ট্রাক।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, বেতন-বোনাস নিয়ে মুখ খোলার মতো অবস্থাতেও নেই শ্রমিকরা। কারণ ক’দিন আগেই গণমাধ্যমে কথা বলার জন্য চার শ্রমিককে বরখাস্ত হতে হয়েছে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের নির্দেশে। ফলে বকেয়া বেতন না পেলেও ভয়ে মুখ বন্ধ বিআরটিসির হাজারও শ্রমিকের।

সূত্র বলছে, শ্রমিকদের বেতন নিয়মিত করতে বহরে যুক্ত হওয়া ১১শ বাস-ট্রাক ব্যবহারের তেমন কোনো উদ্যোগ নিতে দেখা যায়নি বিআরটিসি চেয়ারম্যান এহছানে এলাহীকে। তবে শ্রমিকদের বেতন-বোনাস আটকে যাওয়ার পেছনে তিনি কারণ হিসেবে হাজির করছেন করোনাভাইরাসজনিত পরিস্থিতিকে। তাই শ্রমিকদের বেতন-বোনাস দিতে তিনি মন্ত্রণালয়ের টাকা চেয়ে চিঠি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

আরও পড়ুন: গণমাধ্যমে কথা বলায় ৪ চালককে বরখাস্ত করলেন বিআরটিসি চেয়ারম্যান

দুর্নীতি-অনিয়ম আর লুটপাটের অভিযোগের মুখে একবছর আগে ২০১৯ সালের ২১ জুলাই ফরিদ আহমেদ ভুঁইয়াকে বিআরটিসি চেয়ারম্যানের পদ থেকে অপসারণ করে সরকার। তাকে বদলি করা হয় আর্কাইভ ও গ্রন্থাগার অধিদফতরে। ওই সময় মন্ত্রণালয় থেকে অতিরিক্ত সচিব এহসান ই এলাহীকে বিআটিসির চেয়ারম্যানে দায়িত্ব দেওয়া হয়। ৩ সেপ্টেম্বর তিনি এই দায়িত্ব গ্রহণ করেন।

বিজ্ঞাপন

এহসান ই এলাহীকে চেয়ারম্যান পদের দায়িত্ব দেওয়ার ওই সময়েই বিআরটিসি বহরে ভারত থেকে আসা ১১শ বাস ও ট্রাক যুক্ত হয়। অভিযোগ উঠেছে, একবছর মেয়াদে নতুন এসব বাস-ট্রাকের কোনো সুফল ঘরে তুলতে পারেননি এহসান ই এলাহী। বরং বিআরটিসি অনিময়-দুর্নীতির অভিযোগ যাদের বিরুদ্ধে, মন্ত্রীর নির্দেশের পরও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি তাকে। উল্টো তাদের প্রধান অফিসে নিজের আশপাশে রেখেছেন চেয়ারম্যান।

এদিকে, বিআরটিসি’র বেতন-বোনাস বকেয়া প্রসঙ্গে গণমাধ্যমে কথা বলায় নজিরবিহীনভাবে চার চালককে প্রথমে ঢাকার বাইরে বদলি ও পরে একই কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বিআরটিসি চেয়ারম্যান নিজেই স্বীকার করেছেন, গণমাধ্যমে কথা বলার কারণেই তাদের এ পরিণতি বরণ করতে হয়েছে। বিআরটিসি চেয়ারম্যানের এমন কর্মকাণ্ডে মন্ত্রণালয়ে ঊর্ধ্বতনরাও বিব্রত হয়েছেন।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিসি শ্রমিকদের বকেয়া বেতন প্রসঙ্গে এহসান ই ইলাহী বলেন, সাত থেকে আটটি বাদে বেশিরভাগই ডিপোর শ্রমিকদের বেতন বকেয়া রয়েছে। মন্ত্রণালয়ের টাকা চাওয়া হয়েছে শ্রমিকদের বেতন-ভাতা দেওয়ার জন্য। আর শ্রমিকদের বরখাস্ত করার বিষয়ে তার বক্তব্য, গণমাধ্যমে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে তাদের বরখাস্ত করা হয়েছে।

তবে বরখাস্ত চালকরা বলছেন, তারা বকেয়া বেতন পেতে প্রধানমন্ত্রীর সহযোগিতা চেয়েছিলেন বলেই চেয়ারম্যান তাদের বহিষ্কার করেছেন।

বিজ্ঞাপন

বিআরটিসির প্রধান কার্যালয় সূত্র জানায়, ২৬টি ডিপোর মধ্যে কমপক্ষে ১৫টি ডিপোতে মে মাস থেকে বেতন অনিয়মিত হয়ে গেছে। আর অন্তত পাঁচটি ডিপোতে ৫ থেকে ৮ মাস পর্যন্ত বেতন বকেয়া রয়েছে। ঢাকার ভেতরে সবচেয়ে বেশি বকেয়া পড়ে আছে জোয়ার সাহারা ডিপোতে। এরপর রয়েছে কল্যাণপুর ডিপো। এছাড়া ঢাকার বাইরে বরিশালসহ বেশকয়েকটি ডিপোর শ্রমিকরা কয়েকমাস ধরে বেতনহীন।

সারাবাংলা/এসএ/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন