বিজ্ঞাপন

তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

July 30, 2020 | 6:23 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনলাইন নিউজ পোর্টাল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিজ্ঞাপন

দুদক ঢাকা কার্যালয়ে বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) দুদকের উপ-পরিচালক মো. গুলশান আনোয়ার মামলাটি করেন।

দুদকের কোর্ট পরিদর্শক মো. জুলফিকার সারাবাংলাকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিরুদ্ধে ৪২ কোটি টাকা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি ওই সম্পদের উপযুক্ত হিসাব দেখাতে পারেননি। তাই অনুসন্ধান শেষে দুদক তার বিরুদ্ধে মামলার সিদ্ধান্ত নেয়।

বিজ্ঞাপন

যা আছে এজাহারে: ২০০৬ সালে তৌফিক ইমরোজ খালিদী ও আসিফ মাহমুদ বিডিনিউজের দায়িত্ব নেন। এক পর্যায়ে ৮০ শতাংশ বিক্রি করার সিদ্ধান্ত নিয়ে ২০১৯ সালের মে মাসে খালেদী ও তার ছেলে রাদ খালেদীর নামে শেয়ার স্থানান্তর করেন। এ জন্য আসিফ মাহমুদকে ৮০ লাখ টাকা পরিশোধও করা হয়।

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে বিডিনিউজ টুয়েন্টিফোর ডটকমের ৩৭১ কোটি টাকার ভুয়া ভ্যালুয়েশন দেখিয়ে প্রতিটি শেয়ার ১২ হাজার ৫০০ টাকায় দ ৪০ হাজার শেয়ার এল আর গ্লোবাল বাংলাদেশ লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রিয়াজ ইসলামের কাছে বিক্রি করা হয়। এ বাবদ মোট ৫০ কোটি টাকা পরিশোধ করার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়।

এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, তৌফিক ইমরোজ খালেদী তার নামের ২০ হাজার শেয়ার ২৫ কোটি টাকায় রিয়াজ ইসলামের কাছে অবৈধ প্রক্রিয়ায় বিক্রি দেখান। যা পরবর্তীতে বিডিনিউজের অ্যাকাউন্ট হতে খালেদীর ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্ট ও তার ছেলের এইচএসবিসি, ইস্টার্ন ব্যাংক, সাউথ ইস্ট ব্যাংক ও মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের হিসাবে স্থানান্তরিত হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় বিভিন্ন হিসাবে ৪২ কোটি টাকা জমা রেখেছেন, যার বৈধ উৎস নেই।

এছাড়া তৌফিক ইমরোজ খালেদী ও রিয়াজ ইসলামের বিরুদ্ধে পুঁজিবাজার সংক্রান্ত মালিলন্ডারিং অপরাধ বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ ও এক্সচেঞ্জের এখতিয়ার বিধায় দুদক ওই প্রতিষ্ঠানকে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে তথ্য-প্রমাণসহ চিঠি প্রেরণ করেছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

উল্লেখ্য, গত বছর তৌফিক ইমরোজ খালিদীর বিষয়ে অনুসন্ধান শুরু করে দুর্নীতি দমন কমিশন দুদক। দুদকের চিঠি পাওয়ার পর নিজের বক্তব্য জানাতে ওই বছরের ১১ নভেম্বর দুদকে হাজির হন তৌফিক ইমরোজ।

ওই সময় দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছিল, তৌফিক ইমরোজ খালিদীর নিজের এবং বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের হিসাবে ‘বিপুল পরিমাণ টাকা স্থানান্তরের মাধ্যমে অবস্থান গোপন' এবং বিভিন্ন ‘অবৈধ কর্মকাণ্ডের মাধ্যমে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ সম্পদ' অর্জনের অভিযোগে তার বক্তব্য জানা প্রয়োজন।

নিজের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগ বিষয়ে ওই সময় বিডিনিউজ এর প্রধান সম্পাদক তৌফিক ইমরোজ খালিদী ওই সময় বলেন, ‘আমাদের প্রকাশিত কয়েকটি সংবাদ প্রতিবেদন খুবই শক্তিশালী একটি মহলকে নাখোশ করেছে। আর আমার সহকর্মীদের বস্তুনিষ্ঠ ও উদাহরণযোগ্য সাংবাদিকতার মূল্য এখন আমাদের এভাবে দিতে হচ্ছে। কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি বা বেআইনি কর্মকাণ্ডে আমি কখনও জড়িত ছিলাম না। জ্ঞাত আয়ের সাথে অসামঞ্জস্যপূর্ণ কোনো সম্পদ আমার নেই।’

খালিদী জানান, প্রতিবছর তিনি নিয়মিতভাবে এবং স্বচ্ছতার সঙ্গে আয়কর বিবরণী জমা দিয়ে আসছেন। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের যে সংবাদকর্মীদের আয়কর ওয়েজবোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী কোম্পানির পক্ষ থেকে দেওয়ার কথা, তাও যথাযথভাবে নিয়মিত পরিশোধ করা হয়েছে।

‘সম্প্রতি একটি অ্যাসেট ম্যানেজমেন্ট কোম্পানির কাছে কিছু শেয়ার বিক্রির পর কোম্পানিতে আমার মালিকানা এখন ৮ শতাংশের সামান্য বেশি। এ সংক্রান্ত সব কাগজপত্রই সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কাছে আছে।’

তৌফিক ইমরোজ খালিদী বলেন, ‘আমি সবসময়ই আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং এই অভিযোগ আমি আইনিভাবেই মোকাবিলা করব। আমি বিশ্বাস করি, সুষ্ঠু ও ন্যায়সঙ্গত তদন্ত হলে অবশ্যই সত্য প্রকাশিত হবে।’

আরও পড়ুন

সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে খালিদীর বিরুদ্ধে অনুসন্ধানে দুদক’

সারাবাংলা/জেআইএল/একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন