বিজ্ঞাপন

ক্রেতাশূন্য বিপণি বিতানে, বিক্রি নিয়ে হতাশা

July 31, 2020 | 5:34 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: করোনাভাইরাস, দেশজুড়ে বন্যা ও অর্থনৈতিক সংকটের কারণে ঈদুল ফিতরে অধিকাংশ বিপণি বিতানে প্রত্যাশা অনুযায়ী বেচাকেনা হয়নি। আবার দীর্ঘদিন লকডাউন থাকায় পহেলা বৈশাখ, ঈদুল ফিতরেও মার্কেটগুলো এক প্রকার বন্ধ ছিল। কোরবানির ঈদেও ভালো বেচাকেনার প্রত্যাশা থাকলেও তা পূরণ না হওয়ায় হতাশা দেখা দিয়েছে ব্যবসায়ীদের মধ্যে।

বিজ্ঞাপন

রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেট ঘুরে দেখা গেছে, কোরবানির ঈদের সময় রাজধানীর বিভিন্ন বিপণি বিতান খোলা থাকলেও ক্রেতাদের উপস্থিতি ছিলো খুবই নগণ্য। অধিকাংশ বিপণি বিতান ক্রেতার অপেক্ষায় থাকলেও কাঙিক্ষত পরিমাণ ক্রেতা না মেলায় বেচাকেনার পরিমাণও ছিল অনেক কম। আড়ংয়ের মতো শোরুমগুলোতে সাধারণ সময়ে ক্রেতাদের উপচে পড়া ভীড় চোখে পড়লেও এবার ঈদের সময়েও স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে কম বেচাকেনা হয়েছে। এতে করে বরাবরের মতো আড়ংয়ের কাউন্টারগুলোতে বিল পরিশোধের জন্য আগের মতো দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে ক্রেতাদের বিল পরিশোধ করতে হয়নি।

এছাড়া ঈদের দুই সপ্তাহ আগে থেকেই রাজধানীর নিউ মার্কেট, গাউছিয়া, চাঁদনী চক, বসুন্ধরা শপিং কমপ্লেক্স, ইস্টার্ন প্লাস ও ধানমন্ডির বিপণি বিতানগুলোতে সারাবছরই ভীড় লেগে থাকলেও এবার কোরবানির ঈদে সময় মার্কেটগুলোতে আগের সেই চিরচেনা দৃশ্য চোখে পড়েনি। অন্যদিকে রাজধানীর মতিঝিল, পল্টন, গুলিস্থান ও বায়তুল মোকারম এলাকার ফুটপাতে সাধারণ ঈদের সময় নিম্নআয়ের মানুষের কেনাকাটর কারণে ফুটপাত দিয়ে হাঁটা চলার সমস্যা হতো। কিন্তু এবার ছিল তার ঠিক উল্টো। এসব মার্কেট ও ফুটপাতগুলোতে আগের মতো তেমন ক্রেতা উপস্থিতি দেখা যায়নি। এখানেও ক্রেতার সংখ্যা ছিল হাতে গোনা। ফলে বেচাকেনার পরিমাণও ছিল অনেক কম।

বিজ্ঞাপন

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ ফ্যাশন ডিজাইনার অ্যসোসিয়েশনের সভাপতি ও অঞ্জনস শোরুমের মালিক শাহীন আহমেদ সারাবাংলাকে বলেন, ‘গত পহেলা বৈশাখ ও ঈদুল ফিতরের সময় করোনার কারণে কোনো বেচাকেনা করা সম্ভব হয়নি। আমরা ভেবেছিলাম বর্তমানে করোনার ভীতি কাটিয়ে মানুষ কিছুটা স্বাভাবিকের দিকে যাচ্ছে। এখন মানুষ ঘরের বাইরে কম বেশি বের হচ্ছে এবং কোরবানি দিচ্ছে। ফলে আমাদের বেচাকেনা ভালো হবে। কিন্তু তা হয়নি।‘

তিনি বলেন, ‘গত সপ্তাহে টুকটাক বেচাকেনা হলেও আমরা ভেবেছিলাম এই সপ্তাহে বেচাকেনা বাড়বে। কিন্তু তা হয়নি। বরং চলতি সপ্তাহে বেচাকেনা গত সপ্তাহের চেয়েও অনেক কম হয়েছে। গত বছরের সঙ্গে তুলনা করলে এবার ঈদে বেচাকেনার পরিমাণ গত বছরের ঈদের চেয়ে অর্ধেক হবে।’

বেচাকেনা কম হওয়ার কারণ প্রসঙ্গে শাহীন আহমেদ বলেন, ‘করোনার কারণেই মূলত বেচাকেনা কম হয়েছে। এছাড়া সারাদেশে বন্যার কারণেও বেচাকেনা কম হয়েছে।’

আড়ংয়ের বিক্রয়কর্মী শাহনাজ বেগম বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে আমাদের যেরকম বেচাকেনা হয়, এবার ঈদেও সে রকম বেচাকেনা হয়। ক্রেতাদের উপস্থিতি স্বাভাবিক সময়ের চেয়েও অনেক কম ছিল।’

শান্তিনগরের ইস্টার্ন প্লাসের ফাহিমা সু-এর মালিক মো. আখতার হোসেন সারাবাংলাকে বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে কোরবানির ঈদে রোজার ঈদের তুলনায় বিক্রি কম হয়ে থাকে। কিন্তু এবার ঈদে কোনো ক্রেতা নেই বললেই চলে। ঈদের এক সপ্তাহ আগে থেকে প্রতিদিন গড়ে ১৫০ থেকে ২০০ জোড়া জুতা বিক্রি হলেও বর্তমানে দিনে ২০ জোড়াও বিক্রি করতে পারছি না। গাউছিয়া মার্কেটের নাঈমা ফ্যাশনের বিক্রেতা সাজ্জাত হোসেন বলেন, ‘গত রোজার ঈদে কোন বেচাকেনা হয়নি, এবার কোবানির ঈদের আগে বিক্রি হবে আশা করেছিলাম, কিন্তু ক্রেতার দেখা নেই।‘

তিনি বলেন, ‘স্বাভাবিক সময়ে গাউছিয়া ও নিউ মার্কেট এলাকায় হকার ও ফুটপাতের ব্যবসায়ীদের জন্য সাধারণ মানুষ চলাফেরা করতে পারে ন। কিন্তু মার্কেটের ভেতর ও ফুটপাত ব্যবসায়ীরা থাকলেও এবার তাদের পণ্য কেনার কোনো ক্রেতা নেই।’

অন্যদিকে রাজধানীর মতিঝিল আইডিয়াল স্কুলের ফুটপাতে ফুটপাতে বাচ্চাদের পোশাক ব্যবসায়ী সবুজ মিয়া বলেন, ‘এবার ফুপাতে বেচাকেনা নেই বললেই চলে। সাধারণ যাদের আয় কম তারা ফুটপাত থেকে কেনে কিন্তু কেন জানি এবার তাদের দেখা মিলিছে না। স্বল্প আয়ের লোকজন করোনার কারণে তাদের আয় রোজগার বন্ধ হওয়ায় ঢাকা ছেড়ে চলে গেছে। ফলে বেচাকেনা না হওয়ায় পরিবার নিয়ে বিপদে আছি।‘

সারাবাংলা/জিএস/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন