বিজ্ঞাপন

এবারের ঈদে দেখা মিলছে না মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের!

August 1, 2020 | 7:41 pm

গোলাম সামদানী, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: প্রতিবছর কোরবানির ঈদে রাজধানী জুড়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের আনাগোনা লক্ষ্য করা গেলেও এবারের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। এবারের ঈদে সন্ধ্যা পর্যন্তও দেখা যায়নি তাদের। ফলে চামড়া বিক্রি করতে না পেরে অধিকাংশ মানুষ নিকটবর্তী মসজিদ ও মাদরাসায় চামড়া দান করছেন। রাজধানীর মতিঝিল, মগবাজার, পুরনা পল্টন, মিরপুর ও মোহাম্মদপুর এলাকায় সরেজমিনে ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সূত্র জানায়, গত বছর চামড়া কিনে বড়ধরনের লোকসানের কারণে এবার কোনো মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া কিনছেন না। এছাড়াও করোনা ভাইরাস এবং অর্থনৈতিক মন্দার কারণেও এবার রাজধানীতে তাদের দেখা মিলছে না। রাজধানীর বেশির ভাগ এলাকা ঘুরে ও তথ্য নিয়ে মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীদের কোনো খবর পাওয়া যায়নি।

মিরপুর এলাকায় প্রতিবছর কোরাবানির ঈদে চামড়া কিনতেন আমিরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘পর পর কয়েক বছর চামড়া কিনে লোকসান হয়েছে। এ বছর তাই চামড়া কেনার ঝুঁকি নিইনি। কারণ চামড়া কিনে এখন আর লাভ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়াও করোনাভাইরাসের কারণে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ঝুঁকি নিয়ে চামড়া কেনার কোন মানে হয় না।’

বিজ্ঞাপন

এদিকে চামড়া বিক্রি করতে না পারা মতিঝিল এজিবি কলোনির বাসিন্দা মো. আবদুল হাকিম সারাবাংলাকে বলেন, ‘সন্ধ্যা নাগাদ কোন মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী চামড়া কিনতে আসেনি। ফলে কোরবানির পশুর চামড়া মাদরাসায় দান করে দিয়েছি।’

তিনি বলেন, ‘এমন এক সময় ছিলে, যখন কোরবানির পশুর চামড়া কেনার জন্য মহল্লায় মহল্লায় তরুণদের মধ্যে রীতিমতো মারামারি হতো। কে কোন এলাকার নিয়ন্ত্রণ করে চামড়া কিনবে তা নিয়ে টেন্ডারবাজির মতো বিভিন্ন গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষ বেঁধে যেত। তখন চামড়ার দামও ছিল প্রচুর। প্রতিটি গরুর চামড়া আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত বিক্রি হতো।’ একই মত এজিবি কলোনির আহম্মদ আলী ও কাউসার আহমেদের।

মিরপুর শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা এসএমএ কালাম বলেন, ‘৯০ হাজার টাকা দিয়ে গরু কিনেছি। চামড়া বিক্রি করার কোনো নিয়তও ছিল না। কারণ প্রতিবছরই চামড়া মাদরাসায় দান করি। কিন্তু মজার বিষয় হলো- এ বছর চামড়া কেনার জন্য কোনো মৌসুমি ব্যবসায়ীকে মহল্লায় দেখা যাযনি। ফলে বাধ্য হয়ে মহল্লার প্রায় সবাই চামড়াগুলো মসজিদে দান করে দিযেছেন।’

এদিকে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে কাঁচা চামড়া সংগ্রহ করে রাস্তার মোড়ে মোড়ে এনে বিক্রির জন্য সেগুলো জমা করছেন মাদরাসা শিক্ষার্থীরা। কিন্তু তা কেনার জন্য কোনো ক্রেতার দেখা মিলছে না।

রাজধানীল মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা জিএইচ এম কাজাল বলেন, ‘প্রতি বছর চামড়াজাত পণ্যের দাম বাড়লেও কমছে কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়ার দাম। বিষয়টি খুবই রহস্যজনক। আর সরকারও সবসময় ব্যবসায়ীদের কথা শুনেই চামড়ার দাম নির্ধারণ করছে, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য হতে পারে না।’ তিনি প্রশ্ন করেন? ‘চাহিদা যদি নাই থাকতো তাহলে ব্যবসায়ীরা কেন কাঁচা চামড়া রফতানির বিরোধিতা করেন।

উল্লেখ্য, গত ২৬ জুলাই ব্যবসায়ীদের সঙ্গে এক বৈঠকে কোবানির চামড়ার দাম নির্ধারণ করে দেয় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এ সময় বলা হয়, এ বছর লবণযুক্ত গরুর কাঁচা চামড়ার মূল্য ঢাকায় প্রতিবর্গফুট ৩৫ থেকে ৪০ টাকা, ঢাকার বাইরে ২৮ থেকে ৩২ টাকা। অন্যদিকে সারাদেশে ছাগলের চামড়া প্রতি বর্গফুট ১৩ থেকে ১৫ টাকা এবং বকরির ১০ থেকে ১২ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

সারাবাংলা/জিএস/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন