বিজ্ঞাপন

ভয় ‘কেটে যাওয়ায়’ ফের মুখর কুয়াকাটা সৈকত

August 4, 2020 | 8:30 am

মনিরুল ইসলাম, লোকাল করেসপন্ডেন্ট

কুয়াকাটা (পটুয়াখালী): দীর্ঘ প্রায় চার মাসের বিরতির পর ফের পর্যটকদের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠতে শুরু করেছে সাগরকন্যা কুয়াকাটা। ঈদুল আজহার ছুটিতে দেশি-বিদেশি পর্যটকদের উপস্থিতিতে যেন ফের উৎসবের আবহ ছড়িয়ে পড়েছে এই সমুদ্র সৈকত ঘিরে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, করোনাভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে জারি নিষেধাজ্ঞা শেষে বেশ কিছুদিন আগে পর্যটন চালুর অনুমতি মিললেও এই ঈদের ছুটির মাধ্যমেই মূলত স্বরূপে ফিরতে শুরু করেছে কুয়াকাটা।

বিজ্ঞাপন

ঈদুল আজহার ঠিক আগে থেকেই কুয়াকাটায় উপস্থিত হতে থাকেন দেশি-বিদেশি পর্যটক। তাদের উপস্থিতিতে ঈদের তিনটি দিনেই সমুদ্র সৈকতে ছিল সারাবছরের চিরচেনা কোলাহল। বিশেষ করে সোমালিয়ান ৫ পর্যটকের একটি দল নজর কেড়েছে সবার। আর সৈকত ছাড়াও লেম্বুর চর, ঝাউবন, গঙ্গামতির লেক, কাউয়ার চর, মিশ্রিপাড়া বৌদ্ধ মন্দির, কুয়াকাটার কুয়া, শ্রীমঙ্গল বৌদ্ধ বিহার, রাখাইনদের তাঁত পল্লী, আলীপুর-মহিপুর মৎস্যবন্দরসহ কুয়াকাটা ও আশপাশের দর্শনীয় প্রতিটি স্থানেই ছিল পর্যটকদের আনাগোনা।

পর্যটকরা সমুদ্রের ঢেউয়ের তালে তাল মিলিয়ে যেভাবে ভেসেছেন, তেমনি হৈ হুল্লোড় আর নাচ-গানের পসরাও বসিয়েছেন সৈকতে। সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের মনোরম ক্ষণটি উপভোগ করতেও দেখা গেছে বেড়াতে আসা পর্যটকদের প্রায় সবাইকেই। আর তাদের সঙ্গে সঙ্গেই প্রাণ ফিরেছে কুয়াকাটার পর্যটন শিল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সবার মধ্যে। তারাও যেন দীর্ঘদিনের বিরতি কাটিয়ে ফের চাঙ্গা হয়ে নবোদ্যমে শুরু করেছেন কার্যক্রম।

বিজ্ঞাপন

সব মিলিয়ে কুয়াকাটা বলতে গেলে এখন ‘স্বাভাবিক জীবনে’ ফিরেছে। আর সেই ‘স্বাভাবিকতা’য় হারিয়ে গেছে স্বাস্থ্যবিধি, স্বাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম-কানুন অনুসরণের প্রবণতা। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ঝুঁকি না কাটলেও পর্যটক বা পর্যটনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কাউকেই এসব স্বাস্থ্যবিধি নিয়ে তেমন একটা সচেতনও দেখা গেল না। বরং সৈকতের সৌন্দর্যে মুগ্ধ পর্যটকরা বলছেন, ‘ভয় কাটিয়ে’ই তারা এসেছেন কুয়াকাটায়। আর হোটেল মালিক ও অন্যরা বলছেন, হোটেলগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে বলে সংক্রমণের আশঙ্কা কম।

এ বছর ‘পর্যটন মৌসুম’ শুরু হওয়ার পর থেকেই বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে দেশের অন্যান্য পর্যটন স্পটের মতো কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতও পর্যটক শূন্য হয়ে পড়েছিল। প্রায় সাড়ে তিন মাস বন্ধ থাকার পর গত ১ জুলাই কুয়াকাটায় পর্যটনমুখী ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আনুষ্ঠানিকভাবে খুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে গণপরিবহন চালু হয়ে গেলে দুয়েকজন করে পর্যটক আসছিলেন। তবে ঈদকে ঘিরে পর্যটকদের উপস্থিতি ‘স্বাভাবিক’ হতে শুরু করে। স্থানীয়রা জানাচ্ছেন, প্রথম শ্রেণির বিলাসবহুল হোটেল ও রিসোর্টগুলো বাদে বাকি প্রায় সব আবাসিক হোটেলই কমবেশি ‘অতিথি’ পেয়েছে এই ঈদের সময়টিতে।

বিজ্ঞাপন

কুয়াকাটা সৈকতে ঘুরে বেড়াতে দেখা গেল রফিক-আয়শা দম্পতিকে। জানালেন, এর আগেও একাধিকবার কুয়াকাটায় এসেছেন। কুয়াকাটার প্রেমে পড়েছেন বলে সুযোগ পেলে বারবারই ছুটে আসেন। রফিক সারাবাংলাকে বলেন, পর্যটন নগরী হিসেবে কুয়াকাটার পরিচিতি বাড়ছে। অবকাঠামোরও উন্নয়ন হচ্ছে। এছাড়া আগে ‍কুয়াকাটার সঙ্গে সারাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ছিল না, এখন সেই দুর্বলতাও নেই। সার্বিক দিক থেকেই কুয়াকাটার পর্যটন সক্ষমতা বেড়েছে এবং বাড়ছে।

ভয় ‘কেটে যাওয়ায়’ ফের মুখর কুয়াকাটা সৈকত
খুলনা থেকে বেড়াতে আসা পর্যটক মিলন মিত্র বলেন, কুয়াকাটার হোটেলগুলো মোটামুটি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। আমি দুই বছর আগেও একবার এসেছিলাম। তখনকার চেয়ে এখনকার পরিবেশ অনেক ভালো।

বিজ্ঞাপন

ঈদের তিন দিনে কুয়াকাটা সৈকতে দেখা গেল, পর্যটক যারা এসেছেন, তাদের প্রায় কারও মুখেই নেই মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব মানার ক্ষেত্রেও সচেতন দেখা গেলে না কাউকে। সৈকত ছাড়াও বাকি এলাকাগুলোতেও তারা প্রায় একইরকমভাবে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বছরের অন্য সময়গুলোর মতোই সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য, সৈকতের কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা রেস্তোরাঁগুলোতে কাঁকড়াসহ সামুদ্রিক মাছের ফ্রাই কিংবা অন্য রেস্তোরাঁগুলোতে মজাদার সব খাবারের স্বাদ নিতেই ব্যস্ত। কয়েকজনের কাছে জানতে চাইলে তারা স্পষ্ট জানিয়ে দেন, করোনাভাইরাসের ‘ভীতি’ এখন আর তাদের মধ্যে নেই। বরং দীর্ঘদিন ঘরবন্দি থাকার একঘেয়েমি থেকে মুক্তি পেতেই তারা ঈদের ছুটি কাটাতে ছুটে এসেছেন এই সমুদ্রের তীরে।

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক এম এ মোতালেব শরীফ সারাবাংলাকে বলেন, করোনাভাইরাস মহামারির কারণে দীর্ঘ কয়েক মাস পর্যটনমুখী ব্যবসা বন্ধ ছিল। এরপর এই প্রথম উল্লেখযোগ্য সংখ্যক পর্যটক এসেছে ঈদকে ঘিরে। আরও অনেক পর্যটকই অগ্রিম হোটেল বুকিং দিচ্ছেন। পর্যটকদের আগমন এরকম অব্যাহত থাকলে আমাদের মন্দা কেটে যাবে।

বিজ্ঞাপন

মোতালেব আরও বলেন, কুয়াকাটার প্রতিটি হোটেল স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলছে। তাই এখানে করোনা সংক্রমণের আশঙ্কা কম।

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন