বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি কমছে, বাড়ছে রোগ-বালাই

August 5, 2020 | 3:46 am

ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট

সিরাজগঞ্জ: সিরাজগঞ্জ ও কাজিপুর পয়েন্টে তিন দিন পানি বাড়ার পর ফের কমতে শুরু করেছে যমুনার পানি। এ নিয়ে গত ৪০ দিনে যমুনায় চতুর্থ দফায় পানি বাড়লেও পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) বলছে, যমুনার পানি এখন কমতে থাকবে। তবে দীর্ঘ সময় পানি না নামায় বিভিন্ন রোগ-বালাইয়ে ভুগছেন বানভাসি মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে যমুনার পানি সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে রেকর্ড করা হয় ১৩ দশমিক ৬৬ মিটার। গত ২৪ ঘণ্টায় ৯ সেন্টিমিটার কমে ওই সময় বিপৎসীমার (১৩ দশমিক ৩৫ মিটার) ৩১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। একই সময়ে কাজিপুর পয়েন্টে রেকর্ড করা হয় ১৫ দশমিক ৫১ মিটার। আগের ২৪ ঘণ্টায় এই পয়েন্টেও ৯ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার (১৫ দশমিক ৫১ মিটার) ২৬ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল যমুনা।

সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী রনজিৎ কুমার সরকার বলেন, গত তিন দিন বাড়ার পর আবারও পানি কমতে শুরু করছে। তবে চতুর্থ দফায় যমুনার পানি দ্রুত কমতে থাকায় বিভিন্ন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আতঙ্কের মধ্যে দিন পার করছে বন্যাকবলিত মানুষেরা।

বিজ্ঞাপন

সিরাজগঞ্জ পয়েন্টে পানি কমছে, বাড়ছে রোগ-বালাই

এদিকে, ঘর-বাড়ি থেকে পানি নেমে না যাওয়ায় দুর্ভোগ বেড়েই চলেছে বানভাসি মানুষদের। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ও বিভিন্ন উঁচু জায়গায় আশ্রয় নেওয়া মানুষগুলো গবাদী-পশুর সঙ্গে গাদাগাদি করে বসবাস করায় দেখা দিয়েছে ডায়রিয়াসহ চর্মরোগ, জ্বর ও ঠান্ডাসহ নানা রোগ-বালাই। কিন্তু আয়-রোজগার না থাকায় পানিবন্দি মানুষগুলো সঠিকভাবে চিকিৎসাও করতে পারছেন না। এতে রোগ-বালাই নিয়েই তাদের কষ্টে দিন কাটাতে হচ্ছে। এছাড়াও বিশুদ্ধ পানির অভাবে পেটের পীড়ায় ভুগছে অনেকেই।

বিজ্ঞাপন

জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহিম বলেন, চার দফায় পানি বাড়ায় জেলার সাতটি উপজেলার ৬৪টি ইউনিয়নে নিম্নাঞ্চলের ১ লাখ ১৮ হাজার পরিবারের ৫ লাখ মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। বান্যাকবলিতদের জন্য ৫৬৩ দশমিক ৫ মেট্রিক টন চাল, ৫ হাজার ৮৯০ প্যাকেট শুকনো খাবার ছাড়াও নগদ ৮ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

সিরাজগঞ্জ সিভিল সার্জন ডা. জাহিদুল ইসলাম জানান, বন্যাকবলিত প্রতিটি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করা হয়েছে। বাঁধে আশ্রয় নেওয়া মানুষদের ওষুধ ও স্যালাইন দেওয়া হচ্ছে। সেই সঙ্গে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবরও নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী বানভাসি মানুষদের স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন