বিজ্ঞাপন

সিনহা নিহতের ঘটনা বিচ্ছিন্ন নয়, ক্রসফায়ার বিকাশের উদাহরণ: টিআইবি

August 5, 2020 | 10:03 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: কক্সবাজারের টেকনাফে মেরিন ড্রাইভে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের নিহত হওয়ার ঘটনাটিকে সেনা কর্তৃপক্ষ ও পুলিশ বাহিনী ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে মনে করলেও ভিন্নমত পোষণ করেছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)। বুধবার (৫ আগস্ট) সংস্থাটির পাঠানো এক বিবৃতিতে বলা হয়, সেনা কর্মকর্তা নিহতের ঘটনা কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয় বরং এটি ‘ক্রসফায়ার সংস্কৃতি’ বিকাশের উদাহরণ। ওই ঘটনার বিশ্বাসযোগ্য তদন্ত নিশ্চিতের পাশাপাশি বিচারবহির্ভূত হত্যা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানানো হয়।

বিজ্ঞাপন

টিআইবির বিবৃতিতে বলা হয়, ওই ঘটনার কঠোর জবাবদিহিতা নিশ্চিতের কোনো বিকল্প নেই। এ ঘটনায় পুলিশের করা একাধিক মামলার সঙ্গে সেনা বাহিনীর ‘প্রাথমিক তদন্তের’ বক্তব্য একেবারেই বিপরীত। এই বৈপরীত্যগুলো আমলে নিয়ে গ্রহণযোগ্য তদন্ত করে জনগণকে জানাতে হবে আদতেই পুলিশ ‘আত্মরক্ষার্থে’ গুলি চালিয়েছিল কী-না? নিহতের সঙ্গী শিক্ষার্থী ও অন্য সব সাক্ষীর নিরাপত্তাসহ সব অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।’

আরও পড়ুন
পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজরের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি
মেজর সিনহার মাকে টেলিফোন, বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর
পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার মৃত্যু: আরও ‘শক্তিশালী’ তদন্ত কমিটি

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘একে একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই, বরং তা বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের সংস্কৃতিকে স্বাভাবিকতায় রূপান্তরের একটি উদাহরণমাত্র। ২০১৮ সালের ৪ মে থেকে সারাদেশে শুরু হওয়া মাদকবিরোধী অভিযানে গত ৩০ জুলাই পর্যন্ত শুধু কক্সবাজার জেলায় পুলিশ, বিজিবি ও র‌্যাবের সঙ্গে শতাধিক বন্দুকযুদ্ধের ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৮৭ জন। অথচ দেশের সংবিধান সব নাগরিকের আইনি সুরক্ষা পাওয়ার যে অধিকার দিয়েছে, তাতে মাদক ব্যবসায় জড়িত থাকলেই কাউকে বিনা বিচারে হত্যা করার কোনো অধিকার দেওয়া হয়নি। নিহতদের বেশ কয়েকজন কোনোভাবেই ইয়াবা ব্যবসার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না, এমন তথ্য-প্রমাণ নিয়ে বিভিন্ন সময় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। এমনকি চাঁদা দেওয়া না হলে ‘ক্রসফায়ারে দেওয়ার’ মতো অভিযোগও খুব কম নয়।

টিআইবি‘র বিবৃতিতে আরও বলা হয়, এই বর্বরতার দায় প্রত্যক্ষভাবে জড়িতদের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কোনো প্রতিষ্ঠানই এড়াতে পারে না। দেশে ইয়াবা ব্যবসার লাগাম টানা যায়নি, ‘বড় বড় ক্রীড়নকরা’ একরকম ‘প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষা’ নিয়ে বহাল তবিয়তে আছে। আর পুলিশ বাহিনী, সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে গঠিত এলিট ফোর্স র‌্যাব, বিজিবি একেবারে প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু ‘মাদক ব্যবসায়ী’ ও বেশকিছু ‘নিরপরাধ’ মানুষকে ‘বন্দুকযুদ্ধের’ নামে হত্যা করেছে। এ সব ঘটনায় কোনো গ্রহণযোগ্য তদন্ত ও আইনগত পদক্ষেপ না নেওয়ায় এটা নিশ্চিতভাবেই বলা যায় যে, কার্যত দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীগুলো বিনাবিচারে হত্যার লাইসেন্স বা দায়মুক্তি পেয়ে গেছে।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুলিশের গুলিতে সাবেক সেনা কর্মকর্তা নিহত হওয়ার ঘটনাকে এই সামগ্রিক পরিস্থিতির আলোকেই বিবেচনা করতে হবে। কারণ দেশের সংবিধান যেখানে কোনো নাগরিককেই বিনা-বিচারে হত্যার অনুমোদন দেয় না, সেখানে ‘দায়মুক্তির’ অপব্যবহারের বিষয়টিও অবান্তর। টিআইবি আশা করে সরকার এই ঘটনার সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য তদন্ত নিশ্চিত করার পাশাপাশি বিনা বিচারে হত্যার সংবিধানবিরোধী অবস্থান থেকে সরে আসার কার্যকর উদ্যোগ নেবে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানসমূহ নিজেদের মর্যাদা ও জনআস্থা সমুন্নত রাখার স্বার্থে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবে। পাশাপাশি এ মর্মান্তিক ঘটনায় নিহত সাবেক সেনা কর্মকর্তার সহকর্মী তিন শিক্ষার্থীর সর্বোচ্চ আইনি সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে।

সারাবাংলা/জিএস/ একে

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন