বিজ্ঞাপন

চসিকের চেয়ারে সুজন, দুর্নীতিবাজদের ‘তওবা’ করতে বললেন

August 6, 2020 | 12:13 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রশাসকের দায়িত্ব নিয়েছেন নগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি খোরশেদ আলম সুজন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর্বটি ছিল একেবারেই অনাড়ম্বর। গাড়িবহর নেই, নেতাকর্মীদের ভিড়-স্লোগান নেই, এমনকি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জানানোর আনুষ্ঠানিকতাও ছিল না।

বিজ্ঞাপন

নিজের গাড়িতে চড়ে বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) সকাল পৌঁনে ১০টার দিকে নগরীর টাইগারপাসে চসিকের অস্থায়ী কার্যালয়ে যান প্রশাসক সুজন।

আগে থেকেই অপেক্ষায় থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাকে অভিনন্দন জানান। সরাসরি নির্ধারিত কক্ষে গিয়ে প্রশাসকের চেয়ারে বসেন, যেখানে বসে এতদিন দায়িত্ব পালন করেছেন সদ্যবিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন।

প্রথমেই চসিকের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে পরিচিত হতে সভায় বসেন প্রশাসক সুজন। এসময় সেখানে উপস্থিত হন আ জ ম নাছির উদ্দীন। তিনি নবনিযুক্ত প্রশাসককে অভিনন্দন জানান।

বিজ্ঞাপন

নাছিরকে পাশে নিয়ে প্রথম সভায় খোরশেদ আলম সুজন চসিকে দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমার ওপর অর্পিত দায়িত্ব আমি সর্বোচ্চ সততার মাধ্যমে পালন করতে চাই। আপনারা আপনাদের ওপর অর্পিত দায়িত্ব সততার সাথে পালন করবেন। যারা দুর্নীতি করেছেন, আজ বিসমিল্লাহ করে তওবা করে ফেলেন। আমি যার কাছে অনিয়ম দেখবো, দুই নাম্বারি দেখবো, নগরবাসীর সঙ্গে যারা বেইমানি করবেন তাদের আমি কোনোভাবেই ছাড় দেব না। যারা ঘুষ খায়, মানুষকে কষ্ট দেয় তাদের আমি ছাড় দেব না। এসব অন্যায়ের সঙ্গে আমি আপস করবো না। ভুল করা অপরাধ না। কিন্তু ইচ্ছা করে ভুল করা অপরাধ।’

তিনি বলেন, ‘আমি সিটি করপোরেশনকে দলীয় কার্যালয় বানাবো না। আমি রাজনীতি করবো দলীয় কার্যালয় থেকে। সিটি করপোরেশনে বসে নগরবাসীর সেবা করবো।’

‘এই শহর আমাদের শহর। পৃথিবীর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শহরের একটি চট্টগ্রাম। জলাবদ্ধতা এই শহরের প্রধান সমস্যা। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সেনাবাহিনীকে দিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে কাজ করাচ্ছেন। উনারা রাতদিন পরিশ্রম করছেন। আশা করছি, এক বছরের মধ্যে একটা স্বস্তিদায়ক অবস্থায় আমরা পৌঁছতে পারবো।’

বিজ্ঞাপন

গণমাধ্যম কর্মীদের উদ্দেশে সুজন বলেন, ‘আপনারা গণমাধ্যমে নগরীর সমস্যাগুলো তুলে ধরবেন। আমি ১৮০ দিন সময় পেয়েছি, ১৮০ দিনই আমি রাস্তায় থাকব। আমার ভুল হতে পারে, তবে অসততা থাকবে না। ভুল যদি আপনারা দেখিয়ে দেন সেটা স্বীকার করার এবং সংশোধন করার সৎ সাহস আমার আছে।’

এসময় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘১৮০ দিনের প্রতিটি মুহূর্তকে আমি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি। আমি ১৮০ দিনই রাস্তায় থাকব এবং কাজ করব। আগে আমাকে পুকুরে নামতে দেন। পুকুরে নামলে তখন দেখবেন আমি কিভাবে সাঁতার কাটি।’

সদ্যবিদায়ী মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন প্রশাসক খোরশেদ আলম সুজনকে সর্বোচ্চ সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

বিজ্ঞাপন

দায়িত্ব নিতে চসিক ভবনে যাবার আগে সকালে খোরশেদ আলম সুজন নগরীর জেল রোডে আমানত শাহ’র মাজার জিয়ারত করেন।

১৯৯০ সালের ৩১ জুলাই চট্টগ্রাম চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন গঠনের পর প্রথম মেয়র নিযুক্ত করা হয় জাতীয় পার্টির নেতা মাহমুদুল ইসলাম চৌধুরীকে। ১৯৯১ সালে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর বিএনপি নেতা মীর মোহাম্মদ নাছির উদ্দীন মেয়র নিযুক্ত হন।

১৯৯৩ সালের ২১ ডিসেম্বর থেকে ১৯৯৪ সালের ১০ মার্চ পর্যন্ত প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তৎকালীন চট্টগ্রাম বিভাগীয় কমিশনার ওমর ফারুক। ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের প্রথম নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নেতা এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হন। টানা ১৭ বছর মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন মহিউদ্দিন। এরপর ২০১০ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে জিতে মেয়র হন বিএনপির এম মনজুর আলম। সবশেষ ২০১৫ সালের সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র নির্বাচিত হন আ জ ম নাছির উদ্দীন।

বিজ্ঞাপন

গত ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল। তবে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ পরিস্থিতিতে সেটি স্থগিত করা হয়েছে। স্থগিত হওয়া নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি দলটির নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ জ ম নাছির উদ্দীন। তার বদলে মনোনয়ন পান নগর কমিটির সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এম রেজাউল করিম চৌধুরী।

নির্বাচন না হওয়ায় ১৮০ দিনের জন্য অর্ন্তবর্তীকালীন প্রশাসক নিযুক্ত করা হয়েছে খোরশেদ আলম সুজনকে। এর আগে, ২০০৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর) আসন থেকে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছিলেন। পরে সেটি বদলে ব্যবসায়ী নেতা এম এ লতিফকে দেওয়া হয়। এরপর আরও দুবার একই আসন থেকে মনোনয়ন চেয়ে তিনি ব্যর্থ হন। ২০১৫ সালে এবং ২০২০ সালে দুবার চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে মনোনয়ন চেয়েও পাননি তিনি।

ছাত্রলীগের রাজনীতি থেকে উঠে আসা খোরশেদ আলম সুজন সাবেক মেয়র প্রয়াত এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর ছায়াসঙ্গীর মতো ছিলেন। প্রশাসক পদে মনোনীত হওয়ার পর তিনি নগরীর চশমাহিলে গিয়ে মহিউদ্দিনের কবর জেয়ারত করেন। প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তিনি মহিউদ্দিনকে অনুসরণ করার কথা বলেছেন।

সারাবাংলা/আরডি/এমআই

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন