বিজ্ঞাপন

সিএমপির হেফাজতে ওসি প্রদীপ, নেওয়া হচ্ছে কক্সবাজার আদালতে

August 6, 2020 | 2:04 pm

স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট

চট্টগ্রাম ব্যুরো: টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কে পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা মো. রাশেদ খানের মৃত্যুর ঘটনায় টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) প্রদীপ কুমার দাশকে হেফাজতে নিয়েছে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি)। এরপর তাকে নিয়ে বিশেষ নিরাপত্তায় কক্সবাজারের দিকে রওনা দিয়েছে সিএমপির টিম। তিনি আদালতে আত্মসমর্পণে সম্মত হয়েছেন বলে জানা গেছে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) দুপুর পৌনে ২টার দিকে চট্টগ্রাম নগরীর দামপাড়া পুলিশ লাইনে সিএমপি কার্যালয় থেকে প্রদীপ কুমার দাশকে নিয়ে সিএমপির তিনটি গাড়ির বহর কক্সবাজারের দিকে রওনা দেয়।

নগরীর দামপাড়া থেকে শাহ আমানত সেতু পর্যন্ত সেই গাড়িবহর অনুসরণ করে এই প্রতিবেদক দেখেছেন, প্রথমে একটি খুলশী থানা পুলিশের এসকর্ট গাড়ি আছে। এরপর দুটি একই রঙ ও একই মডেলের মাইক্রোবাস আছে। মাঝের মাইক্রোবাসে পুলিশ সদস্যদের মাঝখানে প্রদীপ কুমার দাশকে বসা অবস্থায় দেখা গেছে।

বিজ্ঞাপন

সিএমপি কমিশনার মো. মাহাবুবর রহমান সারাবাংলাকে বলেন, ‘প্রদীপ কুমার দাশ দামপাড়ায় বিভাগীয় পুলিশ লাইন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। সেখান থেকে আমরা তাকে নিজেদের হেফাজতে নিই। তিনি আমাদের জানিয়েছেন, তিনি কক্সবাজার আদালত আত্মসমর্পণ করবেন। যেহেতু তার নিরাপত্তার একটি বিষয় আছে, সেজন্য আমরা তাকে বিশেষ নিরাপত্তা সহকারে কক্সবাজারে পাঠাচ্ছি। সিএমপি তাকে আটক বা গ্রেফতার করেনি।’

আরও পড়ুন- মেজর সিনহা নিহতের ঘটনায় টেকনাফের ওসি প্রত্যাহার

বিজ্ঞাপন

অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনায় তার বড় বোনের দায়ের করা মামলার দুই নম্বর আসামি প্রদীপ কুমার দাশ। মামলাটি আদালতের নির্দেশে টেকনাফ থানায় নথিভুক্ত হওয়ার পর তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হয়। এর আগে, গতকাল বুধবার (৫ আগস্ট) রাতে তাকে প্রত্যাহার করা হয়। এ নিয়ে এ ঘটনায় মোট ১৫ জনকে প্রত্যাহার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ সদর দফতর।

৩১ জুলাই রাত ৯টার দিকে টেকনাফের বাহারছড়ায় কক্সবাজার-টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কের শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে পুলিশের গুলিতে মারা যান অবসরপ্রাপ্ত মেজর সিনহা রাশেদ খান। এ ঘটনায় বুধবার মেজর সিনহার বড় বোন শারমিন শাহরিয়া ফেরদৌস কক্সবাজারের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

বিজ্ঞাপন

মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, অবসরপ্রাপ্ত সেনা কর্মকর্তা সিনহা একটি তথ্যচিত্র ধারণের কাজ করছিলেন। ৩১ জুলাই রাতে ওই দিনের শুটিং শেষ হলে তিনি টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ দিয়ে ফিরছিলেন। শামলাপুর তল্লাশি চৌকিতে তার গাড়ির গতিরোধ করা হলে তিনি অবসরপ্রাপ্ত মেজর পরিচয় দিলেও পুলিশ তাকে লাঞ্ছিত করে এবং একপর্যায়ে পুলিশ পরিদর্শক লিয়াকত আলী তাকে গুলি করলে তার মৃত্যু হয়।

আরও পড়ুন- ‘সিনহা নিহতের ঘটনা বিচ্ছিন্ন, যৌথ তদন্ত চলছে

বিজ্ঞাপন

এ ঘটনায় বুধবার সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদ ও পুলিশের মহাপরিদর্শকের (আইজিপি) নেতৃত্বে সেনা ও পুলিশ সদর দফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা কক্সবাজার পরিদর্শন করেন। তারা সেখানকার সেনা ও পুলিশ কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করেন। পরে সেনাপ্রধান ও আইজিপি এক যৌথ ব্রিফিংয়ে অংশ নেন।

যৌথ ব্রিফিংয়ে তারা বলেন, পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার মৃত্যুর ঘটনাটি বিচ্ছিন্ন বলে মনে করছে দুই বাহিনী। এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জয়েন্ট এনকোয়ারি টিম গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির ওপর সেনাবাহিনী ও পুলিশের পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তদন্তে এ ঘটনায় জড়িত হিসেবে যাদের নাম বেরিয়ে আসবে, তাদের বিচার হবে জানিয়ে সেনাপ্রধান ও আইজিপি বলেন, ব্যক্তি অপরাধের দায় কোনো প্রতিষ্ঠানের বা বাহিনীর হবে না।

আরও পড়ুন-

লিয়াকতসহ ৯ পুলিশের বিরুদ্ধে সিনহার বোনের মামলা

পুলিশের গুলিতে অবসরপ্রাপ্ত মেজরের মৃত্যু: তদন্ত কমিটি

মেজর সিনহার মাকে টেলিফোন, বিচারের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর

৩ মাসের মধ্যে সিনহা হত্যার বিচার ও দোষীদের ফাঁসি চায় রাওয়া

উসকানিতে সেনা-পুলিশ সম্পর্ক নষ্ট হবে না: সেনাপ্রধান ও আইজিপি

পুলিশের গুলিতে মেজর সিনহার মৃত্যু: আরও ‘শক্তিশালী’ তদন্ত কমিটি

সারাবাংলা/আরডি/টিআর/পিটিএম

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন