বিজ্ঞাপন

‘বাংলাদেশে অফিস খোলার প্রতিশ্রুতি দিয়েও রাখেনি ফেসবুক’

August 7, 2020 | 1:21 am

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট

ঢাকা: বাংলাদেশে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুক অফিস দেওয়ার কথা বললেও তারা তাদের কথা রাখেনি। বরং ‘ব্যবসা ছোট’ দাবি করে বাংলাদেশে এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক কর্তৃপক্ষ। অনেকটা চুপিসারেই এইচটিটিপুল নামের একটি বিজ্ঞাপনি সংস্থাকে বাংলাদেশে নিয়োগ দিয়েছে ফেসবুক। এতে একদিকে যেমন দেশের টাকা বিদেশে পাচার হয়ে যেতে পারে, তেমনি বিজ্ঞাপন থেকে রাজস্ব আহরণও কঠিন হয়ে দাঁড়াতে পারে।

বিজ্ঞাপন

সম্প্রতি বেসরকারি একটি টেলিভিশন চ্যানেলের এক আলোচনা অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে এসব কথা বলেন সাবেক কর কমিশনার আব্দুল কাফি এবং অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের সাধারণ সম্পাদক মুনীর আহমেদ খান।

আরও পড়ুন- বাংলাদেশে ফেসবুকের বিদেশি এজেন্ট নিয়োগ চুপিসারে!

ফেসবুক নিজে না এসে বাংলাদেশে এজেন্সি নিয়োগ দেওয়ায় কী ধরনের জটিলতার মুখোমুখি হয়েছেন?— আলোচনায় এমন প্রশ্নের জবাবে মনির আহমেদ বলেন, ফেসবুককে বাংলাদেশ সরকার কয়েকবার বাংলাদেশে সরাসরি অফিস স্থাপনের জন্য বলেছিল। জঙ্গি ও সন্ত্রাসবাদ তৎপরতা প্রতিরোধ এবং ট্যাক্সের টাকাটা সঠিকভাবে আহরণের জন্যই তাদের অফিস স্থাপন করতে বলা হয়েছিল। কোনো টাকা যেন বিদেশে পাচার না হয়, সেটিও উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু দেখা গেল, তারা (ফেসবুক) অফিস স্থাপন না করে এইচটিটিপুল নামে একটি কোম্পানিকে নিয়োগ দিলো। তাদের আগে কখনো দেখা যায়নি। তারা বাংলাদেশে কিভাবে কাজ করবে, সেটা নিয়েও প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। ফলে সরকারের পক্ষে রাজস্ব আহরণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। এমনকি ছোট ছোট অনেক এজেন্সি তখন বাংলাদেশে আসবে।

বিজ্ঞাপন

তিনি বলেন, বাংলাদেশে কিন্তু বিজ্ঞাপনি সংস্থাগুলোর জন্য কয়েক হাজার কোটি টাকার বাজার রয়েছে। এই খাতে ১৫ শতাংশ ভ্যাট রয়েছে। তাই লাগামহীন ঘোড়াকে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়বে। ফেসবুক একটি তথ্য ভাণ্ডার ও জনপ্রিয় যোগাযোগ মাধ্যম। ফলে সরকারের সুনির্দিষ্ট নীতিমালা না থাকলে পরবর্তী সময়ে একে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে না।

এইচটিটিপুলের কার্যক্রম এবং এর দায় সম্পর্কে জানতে চাইলে মুনীর আহমেদ বলেন, আমাদের দেশের ব্যবসায় এটা সরাসরি প্রভাব ফেলবে। ফেসবুকে ব্যবসা বাড়ছে। যে পরিবর্তনটা ১০ বছরে হতো, করোনাকালে দেখা গেছে সেটা একবছরেই হয়ে গেছে। দেশে এটার বাজার বাড়ছে। সেজন্য কোথায় থেকে পেমেন্ট হচ্ছে, কী হচ্ছে— এগুলো নিয়ন্ত্রণ করতে আইসিটি মন্ত্রণালয় কয়েকবার তাদের সঙ্গে বসেছে। ফেসবুক কিন্তু আশ্বাস দিয়েছিল যে তারা বাংলাদেশে অফিস করবে। কিন্তু হঠাৎ করে তারা একটা এজেন্সিকে দায়িত্ব দিলো। কিন্তু এটা এজেন্সির মাধ্যমে কিভাবে হয়? এরকম হলে নিশ্চিত থাকবেন, এটি বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন শিল্পে আঘাত হানবে।

এ ঘটনায় অ্যাডভারটাইজিং এজেন্সিজ অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না— জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সরকারের কাছে একটি আবেদন দেবো। এখন এটা নিয়ে আমরা আলোচনা করছি। তবে সবকিছু বিবেচনা না করে কোনো পদক্ষেপ নিলে সেখানে ভুল হতে পারে। তাই সবদিক ভেবে দেখা হচ্ছে।

বিজ্ঞাপন

ভারতের হায়দারাবাদে ফেসবুকের অফিস আছে, দেশটিতে এক টাকা রাজস্ব ফাঁকি দিয়েও ফেসবুকের ব্যবসা করার সুযোগ নেই। সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কেন তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে পারছে না?— এমন প্রশ্নের জবাবে সাবেক কর কমিশনার আব্দুল কাফি বলেন, ফেসবুককে বাংলাদেশে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছিল। কিন্তু তারা ‘মার্কেট ছোট’ অজুহাত দেখিয়ে বাংলাদেশে আসেনি। তাই দুয়েকদিনের জন্য যদি বাংলাদেশে ফেসবুক বন্ধ করে দেওয়া হয়, তাহলে তারা বাধ্য হবে বাংলাদেশে অফিস খুলতে। ভারতের মার্কেট বড় বলে তারা ভারতে অফিস খুলেছে। বাংলাদেশেও তাদের অফিস খুলতে বাধ্য করা উচিত।

বিজ্ঞাপনি সংস্থাগুলোকে কিভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যেতে পারে— জানতে চাইলে তিনি বলেন, এখন বড় ধরনের বিজ্ঞাপন হচ্ছে না। আর এসব পেমেন্ট ব্যাংকিং চ্যানেলেও হচ্ছে না। এগুলো মনিটরিং করাও খুব কঠিন। সেজন্য বাংলাদেশ ব্যাংক ও আইসিটি মন্ত্রণালয়ের বসে আলোচনা করা উচিত, কিভাবে উৎসে কর আদায় করা যাবে।

বিদেশি সংস্থাগুলো বাংলাদেশে যেভাবে ব্যবসা করছে, তাতে প্রশাসনিক দায় কতটা— এ প্রশ্নের জবাবে আব্দুল কাফি বলেন, সরকার থেকে বলা আছে, যেকোনো সার্ভিসের সময় সেটা থেকে ভ্যাট আদায় করা হবে। এটা বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সবাই জানে। আর ব্যাংকিং চ্যানেলে কোনো সেবা দেওয়া হলে সেখান থেকে ভ্যাট আহরণ করা হয়। এখন বিদেশি সংস্থাগুলো ব্যাংকিং চ্যানেলে সেবা না দিলে সেখান থেকে ভ্যাট আদায় করা কঠিন। এ ক্ষেত্রে তাদের নীতিমালার আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

বিজ্ঞাপন

সারাবাংলা/এসজে/টিআর

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন